Skip to content

ব্রিকসের ভাবমূর্তি ও বাংলাদেশ

ব্রিকসের ভাবমূর্তি ও বাংলাদেশ

ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের পালাবদলকর এক প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে ক্রমশই শক্তিশালী হয়ে ওঠা ব্রিকস জোটের ১৫তম শীর্ষ সম্মেলন দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত হলো (২২-২৪ আগস্ট)। জোটসদস্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইস ইনাসিও লুলা ডি সিলভা, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা সশরীরে উপস্থিত থাকলেও জোটের অন্যতম সদস্য রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন ভারচুয়ালভাবে এই সম্মেলনে যোগ দেন। তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে জোহানেসবার্গে উপস্থিত ছিলেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ।

জাতিসংঘের মহাসচিব, আফ্রিকান ইউনিয়ন কমিশনের চেয়ারপারসন এবং নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ডজনখানেক আমন্ত্রিত বিশ্বনেতা এবং ৪০টি দেশের নানা পর্যায়ের প্রতিনিধি সম্মেলনে যোগ দেন। ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকার সমন্বয়ে গঠিত দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতির পাঁচ দেশের এই জোটটি মূলত আন্তঃদেশীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে গঠিত হয়। পাশ্চাত্য দেশগুলোর আর্থিকীকরণকৃত বিশ্বব্যবস্থার ভুক্তভোগী বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, কাজাখস্তান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরান, তুরস্ক, আর্জেন্টিনা, মেক্সিকো, মিসর, নাইজিরিয়া, ইথিওপিয়াসহ প্রায় ২৩টি দেশ ব্রিকসে যোগ দিতে আনুষ্ঠানিকভাবে আগ্রহ প্রকাশ করে।

নানামুখী হিসাব-নিকাশে ও ভবিষ্যতে লাভের বিবেচনায় ইউরোপের ফ্রান্স, ইতালি, গ্রিসসহ বিশ্বের নানা প্রান্তের আরও ১৭টি দেশ ব্রিকসের সঙ্গে একত্রে কাজ করার চিন্তা-ভাবনা করছে। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ব রাজনীতিতে এই জোটের প্রভাব বৃদ্ধির জোরালো সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। সংগত কারণেই এবারের সম্মেলনে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তি, মানদ- ও পরিচালনা নীতি প্রণয়নই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। অর্থনৈতিক শক্তিতে ক্রমশই ওপরের সারিতে উঠতে থাকা বাংলাদেশসহ ব্রিকস সদস্য হতে আগ্রহী দেশগুলোর জন্য এবারের ব্রিকস সম্মেলন বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। 
২০০০ সালে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন নিয়ে শুরু করা ‘ব্রিক’-এ ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা যোগ দিলে এই জোট ‘ব্রিকস’ হিসেবে পরিচিতি পায়।

বিশ্লেষকরা কয়েক বছর ধরেই ব্রিকসকে পশ্চিমা দেশগুলোর ভূ-রাজনৈতিক আধিপত্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলছেন। আবার অনেকেই এই জোটকে পাশ্চাত্যনিয়ন্ত্রিত গোল্ডম্যান স্যাকসের একটি বিনিয়োগ কৌশল হিসেবে মনে করছেন। ইউক্রেনে রাশিয়ার চলমান সামরিক অভিযান, ইউরোপে সংঘাতময় পরিস্থিতি, বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের কারসাজিতে বিপর্যয়ের অভিজ্ঞতা ব্রিকসের সম্প্রসারণ ও প্রভাব বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে আরও পোক্ত করেছে। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে দ্রুত ভূ-রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এই জোটের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ বয়ে এনেছে। ব্রিকস বর্তমানে সমষ্টিগতভাবে বিশ্বের ভৌগোলিক এলাকার প্রায় ২৭ শতাংশ ও জনসংখ্যার ৪২ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব করে।

২৬ শতাংশ ইস্পাত ও লোহা, ৪০ শতাংশ ভুট্টা, ৪৬ শতাংশ গম উৎপাদন এবং ৪.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের সম্মিলিত ফরেক্স রিজার্ভসমৃদ্ধ ব্রিকস দেশগুলো বিশ্ব জিডিপির ২৭ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। এবারে ব্রিকসে ছয়টি দেশ নতুন সদস্য হয়েছে। এগুলো হলোÑ সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইথিওপিয়া, ইরান, মিসর ও আর্জেন্টিনা মধ্যপ্রাচ্য জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশ ইরান, সৌদি আরব, মিসর, ইউএইর। তুরস্ক যোগ দিলে বিশ্বের মোট জিডিপির প্রায় ৪০ শতাংশ এবং ভোক্তাবাজারের ৬০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করবে এই জোট। সম্প্রসারিত হয়ে আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করতে পারলে ব্রিকস বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচনে করবে বলে সবাই ধারণা করছেন। অপরদিকে ব্রিকসের ক্রমবর্ধমান শক্তি সঞ্চয়ের প্রবণতায় পাশ্চাত্য দেশগুলোর মধ্যে ইতোমেধ্যেই কিছুটা ভীতি ও অস্বস্তি দেখা দিয়েছে।

জোটে ঢুকতে বিভিন্ন দেশের ক্রমবর্ধমান আগ্রহ এবং স্বর্ণমাননির্ভর ব্রিকস মুদ্রা চালুর আশঙ্কায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনুগামী ইউরোপীয় দেশগুলো ব্রিকসের কার্যক্রমের ওপর গভীর ও সতর্ক দৃষ্টি রাখছে। উদীয়মান অর্থনীতির দেশ নিয়ে গড়া এই জোট শুরুতে খুব একটি সক্রিয় না থাকলেও সম্প্রতি নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারে নানা উদ্যোগ নিয়েছে, যা পাশ্চাত্য দেশগুলোর জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 
বাংলাদেশ ২০২১ সালে ব্রিকসের নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সদস্য হয়েছে। গত ১৯ জুন ব্রিকসের সদস্য হতে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করেছে। যদিও জোটের বর্তমান সদস্যদের মধ্যে মতভিন্নতার কারণে বাংলাদেশের এবারের সম্মেলনে নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম, তারপরও বিশ্ব ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মেরুকরণ এবং বিশ্বজুড়ে অস্থিতিশীল অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের কারণে যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপে রপ্তানিনির্ভর বাংলাদেশের জন্য এবারের সম্মেলন বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংসহ বেশ কয়েকজন বিশ্বনেতার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়েছে।

ব্রিকসের সঙ্গে বাংলাদেশ জোটভুক্ত হলে মিত্র ও নিকট প্রতিবেশী দেশ ভারত, চীন ও রাশিয়ার সহযোগিতায় দূরবর্তী দেশ ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ নতুন সদস্যদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও আস্থা বৃদ্ধির সম্ভাবনা বাড়বে। বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের ‘কন্টিনজেন্ট রিজার্ভ অ্যারেঞ্জমেন্ট’ থেকে সহজ শর্তে ঋণ পাওয়ার বিষয়টিও বাংলাদেশের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। উন্নয়নশীল ও উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের ঋণ নিয়ে বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতার পরিপ্রেক্ষিতে ব্রিকস ব্যাংকের সহযোগিতা লাভ অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজে লাগতে পারে বলে বাংলাদেশসহ উন্নয়নকামী দেশগুলো মনে করছে। ব্রিকস ব্যাংক নতুন সদস্যদের জন্য ইতোমধ্যেই উন্মুক্ত করা হয়েছে।

২০২১ সালে মিসর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, উরুগুয়ে ও বাংলাদেশ এই ব্যাংকে শেয়ার কিনে সদস্য হয়েছে। যদিও নতুন সদস্যদের শেয়ারের পরিমাণ প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের ১০ বিলিয়ন ডলারের চেয়ে অনেক কম। ব্রিকসের সদস্যরা অনেক দিন ধরেই স্বর্ণমাননির্ভর ব্রিকস মুদ্রার প্রচলন, নিজেদের মুদ্রায় লেনদেন এবং ব্রিকস রিজার্ভ তৈরির কথা বলে আসছে, যা ব্রিকস দেশগুলোর অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করবে। এ কথা অনস্বীকার্য যে, কারসাজিতে পটু মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমাতে হলে ব্রিকসের মতো জোটের অর্থনৈতিক ঐক্যের অংশীদার হওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের মূল্যবৃদ্ধিতে সব দেশই কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ব্রিকসের সদস্য হয়ে পারস্পরিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করে বড় দেশগুলো লাভবান হতে পারলেও বাংলাদেশের মতো অপেক্ষাকৃত ছোট অর্থনীতি ও বাণিজ্য ঘাটতিতে থাকা দেশগুলোর জন্য ব্রিকসের নিজস্ব অথবা আন্তঃদেশীয় মুদ্রায় লেনদেন করা কঠিন হবে। চীন বর্তমানে বিশ্ব জিডিপি র‌্যাংকিংয়ে দ্বিতীয়, ভারত চতুর্থ, রাশিয়া অষ্টম, ব্রাজিল দশম। জোটের অপর সদস্য দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্ব জিডিপিতে বাংলাদেশের (৩৪তম) চার ধাপ পেছনে থেকে ৩৭তম অবস্থানে রয়েছে। সৌদি আরব, ইউএই, ইন্দোনেশিয়াসহ জোটে আগ্রহী কয়েকটি দেশের অর্থনীতিও বাংলাদেশ অপেক্ষা ভালো অবস্থানে রয়েছে। 
ব্রিকসের মূল উদ্যোক্তা পাঁচ দেশের জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে সুদূরপ্রসারী চিন্তাভাবনা রয়েছে। চীন বাণিজ্য ও ভূরাজনৈতিক স্বার্থের কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে অর্থনীতি ও ভূরাজনীতিতে বিশ্বে প্রথম হতে চাইছে। রাশিয়া চাইছে ইউরোপে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য রুখে দিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধসৃষ্ট কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতা কাটিয়ে উঠতে। ভারত চাইছে প্রতিবেশী দেশ চীনের সমকক্ষ শক্তি হয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ভেটো ক্ষমতার অধিকারী হতে। ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকার মূল লক্ষ্য অর্থনৈতিকভাবে আরও স্বাবলম্বী হয়ে মহাদেশীয় পর্যায়ে প্রভাব বাড়ানো।

অপরদিকে অর্থনেতিকভাবে শক্ত ভিত্তি পাওয়ার চেষ্টায় রত বাংলাদেশ নির্বাচনসহ নানা কারণে এ মুহূর্তে পাশ্চাত্যের বড় দেশগুলোর সঙ্গে কিছুটা সাংঘর্ষিক অবস্থানে রয়েছে। নির্বাচনী সংস্কৃতি, মানবাধিকারকে কেন্দ্র বড় দেশগুলো বাংলাদেশের ব্যাপারে বিভিন্ন ধরনের নেতিবাচক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে, চাপ ও হুমকি দিচ্ছে। এসব কারণে বাংলাদেশ আপাতত রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সমর্থন লাভের বিষয়টিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। পাশ্চাত্যের বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশসহ আরও কয়েকটি দেশ দক্ষিণীয় জোটবদ্ধতায় অংশ নিয়ে পাশ্চাত্য দেশগুলোর চাপ ও হুমকি মোকাবিলায় ব্রিকসে যোগ দেওয়ার জন্য আগ্রহী হয়ে উঠেছে। এখানে লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, উন্নয়নশীল অথবা সদ্য শিল্পোন্নত ব্রিকস দেশগুলোর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী।

সেইসঙ্গে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ঘটনাবলীর ওপর তাদের উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে। তারা বলছে, পাশ্চাত্য দেশগুলোর রাশিয়ার ওপর কয়েক হাজার নিষেধাজ্ঞা আরোপের কারণে ডলারের বিপরীতে নতুন একটি বিশ্ব মুদ্রা প্রবর্তনের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। বশ্বের কমবেশি সব দেশই উপলব্ধি করছে যে, এ মুহূর্তে বৈশ্বিক ব্যবস্থার সংস্কার দরকার। কারণ, রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পেছনে পাশ্চাত্য দেশগুলোর উসকানি এবং যুদ্ধকে প্রলম্বিত করে নিজেদের লাভবান হওয়ার বিষয়টি স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য মারাত্মক ক্ষতি বয়ে আনছে। যুক্তরাষ্ট্র ও তার অনুগত দেশগুলোর কারণে বিশ্বের বহুপক্ষীয় ব্যবস্থা অনেকটাই ভেঙে পড়েছে। যার বড় খেসারত দিচ্ছে বাংলাদেশের মতো স্বল্পোন্নত ও তুলনামূলকভাবে কম উন্নত দেশগুলো। পরিবর্তিত বিশ্ব প্রেক্ষাপটে আর্থসামাজিক ও জলবায়ু পরিবর্তনসম্পর্কিত অধিকার আদায়ের জন্য ভুক্তভোগী দেশগুলো তাই নতুন বন্ধু সৃষ্টি করে নিজেদের উন্নয়ন ঘটাতে চাইছে। 
বাংলাদেশী হিসেবে আমাদের মনে রাখতে হবে, ব্রিকসের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা প্রচুর। কিন্তু অর্জন সীমিত। এর মূল কারণ হলো, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পাশ্চাত্য দেশগুলোর আর্থিকীকরণকৃত বিশ্বব্যবস্থা। দক্ষিণের কণ্ঠস্বর হিসেবে আবির্ভূত হয়ে ব্রিকসের বৈশ্বিক ব্যবস্থার সংস্কারসহ আরও অনেক চিন্তাভাবনার ফলপ্রসূ রূপ দিতে হলে যে বিশ্বাস ও আস্থা সৃষ্টির প্রয়োজন, তা ব্রিকসের সদস্যদের মধ্যে এখনো গড়ে ওঠেনি। বিকল্প পরিস্থিতি সৃষ্টি করার জন্য যে সামর্থ্য, শক্তি ও সিদ্ধান্ত দরকার, সেটি ব্রিকস দেশগুলোর এখনো হয়নি। 
পাশ্চাত্য দেশগুলো প্রযুক্তি বিনিময় করে পারস্পরিকভাবে লাভবান ও উন্নত হয়েছে এবং নিজেদের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস সৃষ্টি করেছে। কিন্তু ব্রিকসের অন্যতম তিন দেশ রাশিয়া, চীন ও ভারত প্রযুক্তি বিনিময়ে সবসময় সন্দিহান থেকেছে। ভারত-চীন সীমান্ত এবং আঞ্চলিক বিরোধ নিয়ে প্রায়ই উত্তপ্ত আচরণ করে। আবার ব্রাজিল কিংবা দক্ষিণ আফ্রিকায় সরকার পরিবর্তন হলে তাদের চিন্তাভাবনায়ও পরিবর্তন ঘটে। এখন পর্যন্ত ব্রিকস একটি যৌথ দক্ষিণী কণ্ঠস্বরের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। আবার ভারত, ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকা পাশ্চাত্যের অংশ হতে চাইছে।

এমন এক জটিল অবস্থায় বাংলাদেশের মতো ছোট দেশগুলোর ব্রিকসের পুরোপুরি অংশ হয়ে যাওয়া কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ। ভারত ও চীন বাংলাদেশের আমদানির মূল উৎস। আর পাশ্চাত্যের যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের মূল রপ্তানি বাজার, যা আবার প্রতিযোগিতামূলক নয়, বিশেষ সুবিধার। বিনিয়োগ, রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের জন্য পাশ্চাত্য বড় সহায়ক। সব মিলিয়ে বাংলাদেশকে ব্রিকস বিষয়ে সতর্কভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে।

২৩ আগস্ট, ২০২৩
লেখক : অধ্যাপক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি



বার্তা সূত্র