বেরোবিতে চাকরির নামে ঘুষ লেনদেন (ভিডিও)

কর্মকর্তা পদে নিয়োগের জাল নিয়োগপত্র দেখিয়ে এক চাকরি প্রার্থীর কাছে ১৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) কর্মরত ৩ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে। চাকরি সংক্রান্ত টাকা লেনদেনের একটি ভিডিও সময় নিউজের হাতে এসেছে। সেখানে দেখা যায়, রংপুর নগরীর মিতালী হোটেলে তারা টাকা লেনদেন করছেন। তবে ভিডিওটি কবে ধারণ করা সে বিষয়টি জানা যায়নি।অবৈধ উপায়ে টাকা দিয়ে চাকরি না পাওয়ায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন ওই চাকরি প্রার্থী। লিখিত অভিযোগের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, সহ-উপাচার্য, ট্রেজারার, পুলিশ সুপার, র‍্যাব এবং দুর্নীতি দমনকে অনুলিপি দিয়ে অবহিত করেছেন চাকরি প্রত্যাশী রুবেল সাদী।

টাকা হাতিয়ে নেওয়া অভিযুক্ত ৩ জন হলেন- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের কম্পিউটার অপারেটর শেরেজামান সম্রাট, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সেকশন অফিসার মনিরুজ্জামান পলাশ এবং মাস্টাররোল কর্মচারী গুলশান আহমেদ শাওন। এর মধ্যে শেরেজামান সম্রাট রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য ইদ্রিস আলীর ছেলে।

লিখিত অভিযোগে রংপুরের মিঠাপুকুরের চাকরি প্রত্যাশী রুবেল সাদী উল্লেখ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে তার সঙ্গে ১৬ লাখ টাকার চুক্তি করেন অভিযুক্ত ৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী সম্রাট, পলাশ এবং শাওন। চুক্তি অনুযায়ী ৩ দফায় তাদের ১৩ লাখ টাকা দেয় এবং বাকি ৩ লাখ টাকা যোগদানের সময় পরিশোধ করার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু টাকা নেওয়ার পর চাকরি দিতে প্রথমে টালবাহানা, পরবর্তীতে চাপ দেওয়ার পর তাকে নিয়োগপত্রের একটি ফটোকপি দিয়ে যোগদান করতে বলে অভিযুক্তরা। এরপর নিয়োগপত্র প্রমাণ করতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলে জানতে পারেন সেটি জাল নিয়োগপত্র। পরে টাকা ফেরত চাইলে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রুবেলের।

সময় নিউজের হাতে আসা সেই ভিডিওতে দেখা যায়, গত বছরের ১৬ মার্চ রংপুর নগরীর মিতালী হোটেলে বসে চাকরি প্রত্যাশীর সঙ্গে লোকজনের সঙ্গে বসে চাকরি নিয়ে আলোচনা করছেন সম্রাট, শাওন এবং পলাশ। চাকরি প্রত্যাশীর চাকরি নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে শেরেজামান সম্রাট বলছেন ‘আপনার চাকরি দিতে না পারলে আমাকে খেসারত দিতে হবে।’ এই কথা বলে চাকরি প্রত্যাশী সম্রাট এবং শাওনের হাতে দুটি টাকার বান্ডিল দেন। এতে চাকরি প্রত্যাশীকে বলতে শোনা যায় ‘ভাই বিসমিল্লাহ্‌ বলে দুজন (সম্রাট এবং শাওন) মিলে একবার টান (গুনে নেয়া) দেন।’ এরপর সম্রাট এবং শাওন দুই বান্ডিল টাকা গুনেন। টাকা গোনা শেষ হয়ে গেলে সম্রাট এক পর্যায়ে দাঁড়িয়ে পলাশকে স্যার সম্বোধন করে বলছেন ‘স্যার টাকাগুলো ঢুকলাম তাহলে।’ এতে পলাশ সম্মতি দেয়।

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, রুবেল কবে থেকে অফিস করা শুরু করতে পারবেন- চাকরি প্রত্যাশীর লোকজনের পক্ষ থেকে সম্রাটকে এমন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হলে সম্রাট বলেন ‘রুবেল সকাল বেলা থেকেই অফিসে বসতে পারবেন।’

এ সময় সম্রাট চাকরি প্রত্যাশী লোকজনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘টাকাগুলো এখন ভার্সিটির অন্যজনকে দিতে হবে। এটা কি পকেটে রাখার জিনিস।’

এদিকে জাল নিয়োগপত্রে দেখা যায়, ২০২০ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি রেজিস্ট্রার আবু হেনা মুস্তফা কামাল স্বাক্ষরিত এক নিয়োগপত্রে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগের চিঠি ইস্যু করা হয়। তবে সেই নিয়োগপত্রটি ছিল ফটোকপি করা।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শেরেজামান সম্রাটের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন।

তিনি বলেন, ভিডিওতে যেটা দেখা যাচ্ছে সেটা আমার ব্যবসায়িক টাকা লেনদেনের বিষয়। এক ব্যবসায়ীর সাথে আমার দীর্ঘদিনের শত্রুতার কারণে এমনটি হয়েছে। আমার দুই সহকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে আমি সেদিন ব্যবসার বিরোধ মিটমাট করতে গেছিলাম।

ভিডিওতে নিয়োগের বিষয় নিয়ে আলোচনার বিষয়ে তিনি সব ষড়যন্ত্র বলে উল্লেখ করেন। লিখিত অভিযোগ ও নিয়োগপত্রে বিষয়ে বলেন, ভুয়া নিয়োগপত্র সম্পর্কে আমি কিছু জানি না। আর চাইলেই যার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা যায় এখন।

তবে কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান পলাশ ও কর্মচারী গুলশান আহমেদ শাওনকে অফিসে গিয়ে পাওয়া যায়নি। তারদের ব্যবহৃত মুঠোফোনে কল করলে বন্ধ পাওয়া যায়।

বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ, প্রো-ভিসি, অধ্যাপক ড. সরিফা সালোয়া ডিনা, রেজিস্ট্রার আবু হেনা মুস্তফা কামালকে দফায় দফায় ফোন করা হলেও কেউ রিসিভ করেননি।

সূত্র: সময় টিভি

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।