Skip to content

‘বেদ’ নিয়া টানাটানি না করাই ভালো!

‘বেদ’ নিয়া টানাটানি না করাই ভালো!

জাকির তালুকদার

জাকির তালুকদার: কেউ কি কোনোদিন দাবি করেছে যে বিজ্ঞানী হতে গেলে তাকে নাস্তিক হতে হবে? করেনি। কারণ বিজ্ঞানের ইতিহাস যার পড়া সে জানে পৃথিবীর বড় বড় মৌলিক বিজ্ঞানীদের অধিকাংশই আস্তিক ছিলেন। কেউ কেউ নাস্তিকও ছিলেন। যারা নাস্তিক ছিলেন তারা নিজে নিজেই নাস্তিক হয়েছিলেন। বিশে^র দুই বড় বিজ্ঞানী আইনস্টাইন এবং স্টিফেন হকিং। আইনস্টাইন বলতেন তিনি স্পিনোজার ঈশ্বরকে মানেন। ধার্মিকরা খুব কমই জানেন স্পিনোজার ঈশ্বরের স্বরূপ। আইনস্টাইন ঈশ্বর মানেন এটুকু জেনেই খুশি বিশ্বাসীরা। অন্যদিকে স্টিফেন হকিং ঘোষণা দিয়েই নাস্তিক। কাজেই নাস্তিক বা আস্তিক কোনো বিষয় নয়। বিষয় হচ্ছে ধর্মের নামে প্রচলিত কুসংস্কারগুলো কাটিয়ে ওঠা। আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের কথাটি মনে পড়ে। সূর্যগ্রহণ কীভাবে হয়, সেটি যে একটি প্রাকৃতিক ঘটনা, সেটি জানার পরেও তাঁর ছাত্ররা যখন সূর্যগ্রহণের সময় ঢোল-কাঁশি নিয়ে অমঙ্গল তাড়াতে বেরিয়ে পড়ত, তা দেখে দুঃখে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। ঘর থেকে বাইরে বেরোনোর সময় বিজোড় হাঁচি হলে অনেক মানুষের মনই খুঁত খুঁত করে। এগুলো যে কুসংস্কার তা সচেতনভাবে জেনেও অবচেতনে সেই অভ্যাসগুলো লালন করাই হচ্ছে বিজ্ঞানমনস্ক হবার পথে বাধা। 

চন্দ্রযান উৎক্ষেপণের আগে ভারতের মহাকাশ কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা দল বেঁধে মন্দিরে গিয়েছিলেন পুঁজো দিতে। তারা ঠিকই জানেন পুঁজোর জোরে নয়, চন্দ্রযান চাঁদে পৌঁছেছে বিজ্ঞান এবং প্রকৃতির সূত্র মেনে। কিছু লোক ঠাট্টা করলেও মানুষ এই মন্দিরে যাওয়া নিয়ে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। কিন্তু ইসরো-র পরিচালক যখন বলেন, চাঁদে যাওয়ার বিজ্ঞানসহ সব বিদ্যা ‘বেদ’-এ আছে, তখন তাকে আমাদের অশিক্ষিত মর্দে-মুমিনদের থেকে আর আলাদা করা যায় না, যারা বলে ‘কোরানে’ সব আছে। এই উপমহাদেশে পাল্লা দিয়ে সাম্প্রদায়িকতা যেভাবে বেড়ে চলেছে, তাতে বড় পর্যায়ের এই বিজ্ঞানীদের এমন অজ্ঞ মন্তব্য সাম্প্রদায়িক চিন্তাকে আরো বাড়িয়ে দেবে অবশ্যই। অবশ্য এই ভদ্রলোককে মৌলিক অর্থে বোধহয় বিজ্ঞানী বলা যায় না। যথার্থ হবে প্রযুক্তিবিদ বললে। বিজ্ঞানের দর্শন ধারণ না করলে তাকে বিজ্ঞানী বলা যায় না। মেঘনাথ সাহার বিজ্ঞান-দর্শন ছিল। এক উকিল তাকে বলেছিল বেদ-এ সব আছে। মেঘনাদ সাহা প্রশ্ন করেছিলেন- বেদ পড়ছেন আপনে? উকিল অম্লান বদনে বলেছিল- পড়ি নাই। তয় শুনছি। মেঘনাদ সাহা বলেছিলেন, আপনের এই কথায় বিজ্ঞানের কোনো ক্ষতি হইবো না। তয় বেদ- এর কথা কইবার পারি না। বেদ নিয়া টানাটানি না করাই ভালো। লেখক: কথাসাহিত্যিক। ফেসবুক থেকে 

বার্তা সূত্র