Skip to content

বিশ্লেষণ: বাংলাদেশে জঙ্গি হামলায় মৃত্যুর ঘটনা কমে আসলেও আক্রমণ অব্যাহত রয়েছে

বিশ্লেষণ: বাংলাদেশে জঙ্গি হামলায় মৃত্যুর ঘটনা কমে আসলেও আক্রমণ অব্যাহত রয়েছে

২০১৬ সালে ঢাকার হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার পর থেকে সরকারের নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশে উগ্রবাদী আক্রমণে হতাহতের সংখ্যা কমে এলেও ধর্মীয় সংখ্যালঘু, সমকামী, নাস্তিক ও ধর্ম সমালোচনাকারীদের ওপর আক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। একই সাথে বিভিন্ন জঙ্গি ও উগ্রবাদী সংগঠনগুলোর সদস্য সংগ্রহের প্রক্রিয়াও থেমে নেই।

বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ পরিস্থিতির ওপর বৃহস্পতিবার ইউএস ইন্সটিটিউট অব পিস আয়োজিত এক ওয়েবিনার আলোচনায় এমনই মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা।

আলোচনাটিতে অংশগ্রহণ করেন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারন্যাশনাল রিপাব্লিকান ইনস্টিটিউটের সিনিয়র অ্যাডভাইজার জেফরি ম্যাকডোনাল্ড ও অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন সিডনি হিউম্যানেটিরিয়ান অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষক মুবাশ্বার হাসান।

আলোচনাটি মূলত পরিচালিত হয় গত জুনে প্রকাশিত মুবাশ্বার হাসান ও জেফরি ম্যাকডোনাল্ডের ‘দি প্রসিসেন্ট চ্যালেঞ্জ অব এক্সট্রিমিজম ইন বাংলাদেশ’ বা বাংলাদেশের অব্যাহত জঙ্গিবাদ হুমকি বিষয়ক যৌথ গবেষণা প্রতিবেদনের বিষয়বস্তুকে কেন্দ্র করে।

আলোচনাটি সঞ্চালন করেন ইউএস ইন্সটিটিউট অব পিস এর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সিনিয়র অ্যাডভাইজার ড্যানিয়েল মার্কে।

২০১৬ সালের ১ জুলাই ঢাকার গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড়ো জঙ্গি হামলায় ঘটনাস্থলে এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় পাঁচ জঙ্গি ও দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ মোট ২৯ জন দেশি–বিদেশি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছিলেন।

এর পর থেকে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে সন্ত্রাসী কার্যক্রম “নিয়ন্ত্রণ” হলেও সন্ত্রাসবাদ নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে বাংলাদেশের ব্যাখ্যা ধর্মীয় চেতনার সাথে সম্পর্কিত অন্য ধরনের উগ্রবাদী আচরণগুলোকে “আড়াল করে দিচ্ছে” বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

যেগুলোর মধ্যে রয়েছে “সমকামীদের ওপর আক্রমণ, আহমদিয়া, হিন্দু সংখ্যালঘু বা নাস্তিকদের উপর আক্রমণের ঘটনা,” বলেন জেফরি।

তিনি বলেন, “হলি আর্টিজানের ঘটনার পর থেকে আমরা পরিষ্কারভাবে জঙ্গিবাদী হামলা ও হামলায় হতাহতের ঘটনা অনেক কমে আসতে দেখি, কিন্তু অন্যদিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় জঙ্গি গোষ্ঠীর উপস্থিতি প্রতিনিয়তই দেখতে পাওয়া যায়।”

২০১৯ সালে ঢাকার মালিবাগে পুলিশের গাড়ির ওপর হামলার পর আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইসিসের পক্ষ থেকে তার দায় স্বীকার এবং হলি আর্টিজানে হামলা মামলার রায়ের দিন আদালতে এক আসামির আইসিসের টুপি পরার ঘটনার উল্লেখ করে জেফরি বলেন, এতে প্রমাণ হয়, তারা নিষ্ক্রিয় নেই। তারা অব্যাহতভাবেই তাদের কার্যক্রম চালানো ও সদস্য সংগ্রহ করে যাচ্ছে।

এছাড়া প্রায়ই নব্য জেএমবির মতো দেশীয় সংগঠনের অনেক সদস্যকেও পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হতে দেখা যায়।

“এদের আক্রমণ বা ক্ষমতা হয়তো খুব বড়ো নয়, কিন্তু অনলাইনে তাদের উপস্থিতি ব্যাপক।”

মুবাশ্বার বলেন, বাংলাদেশে সংগঠিত জঙ্গি আক্রমণের বাইরে “২০১৩ সাল থেকে আমরা প্রতি বছরই ধর্মীয় সংখ্যালঘু, যেমন হিন্দু বা বৌদ্ধ বা সুফিবাদী গোষ্ঠীদের ওপর কমবেশি আক্রমণের ঘটনা দেখতে পাই।”

“আবার একই সাথে সাম্প্রতিক কালে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ঘৃণা প্রচারের প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে ফেসবুক,” বলেন মুবাশ্বার হাসান।

গত জুনে প্রকাশিত মুবাশ্বার হাসান ও জেফরি ম্যাকডোনাল্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০১৬ সালে জঙ্গি হামলায় বাংলাদেশে ৪৭ জন ও ২০১৭ সালে ১৯ জনের মৃত্যু ঘটে। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে জঙ্গি হামলায় মারা যান চার জন ও ২০২০ সালে একজন। ২০১৯ ও ২১ বাংলাদেশে জঙ্গি হামলায় কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

আক্রমণের দিক থেকে ২০১৬ সালে ২৯৮টি ও ২০১৭ সালে ২৬৩টি, ২০১৮ সালে ১১৬টি ঘটনা ঘটেছে।

২০১৬’র পর আক্রমণের ঘটনা কমে আসলেও তা এখনো উল্লেখযোগ্য মাত্রায় রয়েছে। ২০১৯ সালে ৯৯টি, ২০ সালে ৮৮ ও ২০২১ সালে ৭৫টি আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে।

বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ নির্মূলের উদ্দেশ্যে সামাজিক ও রাজনৈতিক বহুত্ববাদ ও সহনশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য সরকার, এনজিও ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এক সাথে কাজ করা উচিত বলে মতামত দেয়া হয় ওই প্রতিবেদনে।



বার্তা সূত্র