Skip to content

বিশ্বব্যাংকের কাছে ৫০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ

বিশ্বব্যাংকের কাছে ৫০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ

বেনার নিউজ

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে সাড়ে চার বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তার প্রাথমিক সম্মতি পাওয়ার চার দিনের মাথায় সর্ববৃহৎ উন্নয়ন সহযোগী বিশ্বব্যাংকের কাছে নতুন করে ৫০০ মিলিয়ন ডলার চেয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বব্যাংক এই সহায়তার সুস্পষ্ট ঘোষণা না দিলেও তা পাওয়ার আশা করছে সরকার।

তিন দিনের সফরে গত শনিবার সংস্থাটির ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্টিন রেইজার বাংলাদেশে আসেন। রোববার এক বৈঠকে তাঁর কাছে এই সহায়তার প্রস্তাব দেন বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিশ্বব্যাংক থেকে ২০১৯-২০২২ সালের মধ্যে এক বিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা পাওয়া গেছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, “চলতি বছর আরো ৫০০ মিলিয়ন ডলার বাজেটে সাপোর্ট পাব বলে আশা করছি।”

বাজেট সহায়তা হিসেবে আগামী জুনের মধ্যে এই অর্থ চেয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

করোনা মহামারি এবং ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে উদ্ভূত বিরূপ পরিস্থিতিতে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশের জন্য বাড়তি সহায়তারও অনুরোধ জানান মুস্তফা কামাল।

সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও দেখা করেন মার্টিন রেইজার। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশ ও ভুটানে নব নিযুক্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদুলায়ে সেক।

দেশে ডলার সংকটের মধ্যে বাংলাদেশের চাওয়া ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা দেননি রেইজার।

তবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস থেকে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মার্টিন রেইজার বলেন, আর্থিক ও অর্থনৈতিক খাতের পুনর্গঠন, সামষ্টিক খাত শক্তিশালী করা, জলবায়ু অভিযোজন ও মানবসম্পদে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখার মাধ্যমে “বাংলাদেশ দ্রুত গতির প্রবৃদ্ধিকে টেকসই করতে পারে।”

“বর্তমান চ্যালেঞ্জিং সময়ে এই প্রচেষ্টায় আমরা পূর্ণ সহায়তা দিতে প্রস্তুত আছি,” বলেন রেইজার।

ইউক্রেনে যুদ্ধ, কোভিড মহামারির প্রভাব এবং জলবায়ু সংকট বিশ্ব অর্থনীতিতে এক নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “সব দেশই এই পরিস্থিতিতে খাপ খাইয়ে নেওয়ার লড়াই করছে এবং বাংলাদেশ এর ব্যতিক্রম নয়।”

মার্টিন রাইজার বলেন, বাংলাদেশ তার অসাধারণ উন্নয়নের মাধ্যমে গোটা বিশ্বকে চমকে দিয়েছে। তিনি একে “উন্নয়নের একটি সফল ঘটনা হিসেবে” বর্ণনা করেন।

বাসস জানায়, বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যকার সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি যৌথভাবে উদযাপনের প্রস্তাব দিয়েছেন মার্টিন রাইজার। তিনি ১৯৭২ সালের ৩১ জানুয়ারি গণভবনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে তোলা বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রেসিডেন্ট রবার্ট স্ট্রেঞ্জ ম্যাকনামারার একটি ছবিও হস্তান্তর করেন।

উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাংক গ্রুপ এককভাবে বাংলাদেশে সবচেয়ে বড়ো ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত সংস্থাটি বাংলাদেশকে ৩৭ বিলিয়ন ডলার ঋণ, অনুদান ও সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যার মধ্যে অর্থ ছাড় হয়েছে ২৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ এ পর্যন্ত ঋণ পরিশোধ করেছে ৬ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার।

আগামী ২০২৩-২০২৫ সালের ভেতর সংস্থাটির কাছে বাংলাদেশের ৬ দশমিক ১৫ ডলারের ঋণ প্রস্তাব প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে সংস্থাটির ১৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের ৫৫টি প্রকল্প চলমান রয়েছে এবং সংস্থাটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড়ো উন্নয়ন অংশীদার।

ব্যয় মেটানোর জন্য সহায়ক হবে

বাংলাদেশের গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বেনারকে বলেন, “চলতি বছর সব মিলিয়ে বিশ্বব্যাংক থেকে হয়তো এক বিলিয়ন ডলারের ঋণ নিয়ে আলোচনা হবে এবং এই অর্থ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”

দীর্ঘ সময় আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকে কাজ করা এই অর্থনীতিবিদ মনে করেন, “এই অর্থ পেলে তা সরকারের ব্যয় মেটানোর জন্য সহায়ক হবে। অন্যান্য উৎস থেকে ধার কিছুটা কমবে এবং ডলারের ওপর চাপ কমাতে সহায়তা করবে।”

অবশ্য বিশ্ব ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্টের কথায় বিভিন্ন খাতে যে প্রয়োজনীয় সংস্কারের ইঙ্গিত রয়েছে, তাতে গুরুত্ব দিয়েছেন এই অর্থনীতিবিদও। আর্থিক ও রাজস্ব খাতের সংস্কার কিংবা পুনর্গঠন নিজেদের প্রয়োজনেই করা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

গত বুধবার অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে আইএমএফের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের প্রধান রাহুল আনন্দ অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আদায় বাড়ানো, রপ্তানি বহুমুখীকরণ করা, বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা, উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং জলবায়ুর অভিঘাত মোকাবেলার ক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

২০২০ সালে শুরু হওয়া করোনা মহামারির কারণে পর্যুদস্ত হয়ে পড়ে বিশ্ব অর্থনীতি। এরপর বিশ্ব অর্থনীতিকে আরো মন্থর করে দেয় এ বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ।

আমদানি নির্ভর জ্বালানি তেল ও কিছু খাদ্য পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ ক্রমাগত কমতে থাকে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের আগস্টে ৪৮ বিলিয়ন ডলারে ওঠা বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বর্তমানে নেমে নেমে এসেছে ২৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে।

অন্যদিকে গত কয়েক মাস ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতিও ভোগাচ্ছে দেশটির অপেক্ষাকৃত স্বল্প আয়ের মানুষকে।

সাধারণত কোনো দ্রব্যের এক বছর আগের বাজার দরের সাথে বর্তমান বাজার দর তুলনা করে মূল্যস্ফীতি নির্ধারণ করা হয়।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টে দেশে মূল্যস্ফীতির পরিমাণ ছিল সাড়ে ৯ শতাংশ, যা গত এক যুগের সর্বোচ্চ। তবে গত অক্টোবরে তা কিছুটা কমে ৯ শতাংশের কাছাকাছি আসে।