বিশ্ববিদ্যালয় খোলার দাবিতে বাংলাদেশে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে

বিশ্ববিদ্যালয় খোলা নিয়ে নতুন এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সরকার ২৪শে মে’র আগে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পক্ষে নয়। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তা মানতে নারাজ। তারা বলছেন, এখুনি খুলতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হল খুলে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

শিক্ষার্থীরা সোমবার বিকেলে রাজু ভাস্কর্যের সামনে এক সমাবেশে বলেছেন, দেশের সবকিছুই যখন স্বাভাবিকভাবে চলছে তখন হল বন্ধ রাখা অযৌক্তিক। তারা শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে তালা ভেঙে শিক্ষার্থীরা হলে ঢুকে পড়েছেন। প্রশাসন সকাল ১০ টার মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছিল। এই নির্দেশ অগ্রাহ্য করে মেয়েদের একটি হলেও প্রবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ২৮শে ফেব্রুয়ারির মধ্যে হল খোলার দাবি জানিয়েছেন। তা না হলে তারা ১লা মার্চ থেকে তালা ভেঙে হলে প্রবেশ করবেন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়েও একই পরিস্থিতি। সেখানেও শিক্ষার্থীরা হল খোলার দাবিতে আন্দোলন করছেন।

সোমবার মন্ত্রী পরিষদের বৈঠকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পরিবেশ পর্যালোচনার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। এর কিছুক্ষণ পর শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মলনে জানান, ১৭ই মে হল খুলবে। ২৪শে মে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস শুরু হবে। প্রায় এক বছর যাবত করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, টিকা নিয়েই হলে প্রবেশ করতে হবে।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো পরীক্ষা হবে না। ক্লাস চলবে অনলাইনে। বিসিএস পরিক্ষাও পেছানো হবে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের সংঘর্ষের জের ধরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত রয়েছে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, তারা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে আছেন। দুপুরে এক সমাবেশ থেকে তারা নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য যে, বর্তমানে দেশে ৪৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে ১০৭ টি।

ওদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও সাত জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৩৬৬ জন। ঢাকা থেকে মতিউর রহমান চৌধুরী

সূত্র: ভয়েজ অব আমেরিকা

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email