Skip to content

বিদেশি মিশনে আনসারদের মাধ্যমে বিকল্প সুবিধা দেবে সরকার: পররাষ্ট্র সচিব

বিদেশি মিশনে আনসারদের মাধ্যমে বিকল্প সুবিধা দেবে সরকার: পররাষ্ট্র সচিব

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেছেন, “চার কূটনীতিকের জন্য ‘অতিরিক্ত নিরাপত্তা এসকর্ট’ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ায়, বিকল্প হিসেবে সরকার ঢাকায় অবস্থিত বিদেশি মিশন গুলোতে আধাসামরিক সহায়ক বাহিনী আনসার এর সেবা দেবে।” মঙ্গলবার (১৬ মে) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র সচিব এ কথা বলেন।

মাসুদ বিন মোমেন জানান, আনসার বাহিনী কি ধরনের নিরাপত্তা সুবিধা দিতে পারবে, তা জানতে এবং এই সেবা নিতে ইচ্ছুক মিশনগুলোর সঙ্গে যাতে সংযোগ স্থাপন করতে পারে, সে বিষয়ে তারা বুধবার (১৭ মে) আনসার মহাপরিচালকের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, “আমরা আনসারের সঙ্গে কথা বলবো এবং মিশনগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবো।” অতিরিক্ত এসকর্ট, প্রধানত ট্রাফিক ক্লিয়ারেন্স-এর উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়ে আসছে বলে জানান তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, “ভিয়েনা কনভেনশনের আওতায় স্বাগতিক দেশ হিসেবে সরকার দায়িত্ব সম্পর্কে অবগত এবং বিদেশি মিশন ও তাদের কর্মীদের জন্য নিয়মিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে।”

পররাষ্ট্র সচিব মোমেন জানান যে তারা দেশে কোনো নিরাপত্তা ঘাটতি ও জঙ্গিবাদ দেখছেন না এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি আরো বলেন যে পুলিশ কর্মীদের অভাব বা সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

কূটনীতিকদের গাড়িতে পতাকা ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এটি এমন একটি বিষয়, যা মূলত ব্যক্তির বিবেচনার ওপর নির্ভর করে। আমার মতে, কূটনীতিকরা কোথায় পতাকা ব্যবহার করবেন বা করবেন না, তা তারা বুঝবেন।”

কূটনীতিক হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, “নিউইয়র্কে থাকার সময় পতাকা ব্যবহারের কোনো ব্যবস্থা ছিলো না। তবে, অনেক দেশেই রাষ্ট্রীয় কোনো অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার সময় পতাকা ব্যবহার করা হয়।”

তিনি আরো বলেন, “আমি যদি কোনো মার্কেটে বা কোনো সহকর্মীর ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে যাই, তবে আমি সেই সময় পতাকা ব্যবহার করবো না। এটা ব্যক্তির ওপর নির্ভর করে।”

এর আগে, সোমবার (১৫ মে) পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, “তারা (বিদেশি মিশনগুলো) চাইলে অর্থ প্রদানের মাধ্যমে তা পেতে পারে। আমরা করদাতাদের টাকা দিয়ে এই অতিরিক্ত (নিরাপত্তা) এসকর্ট সার্ভিস দেব না।

ওদিকে, যুক্তরাষ্ট্র বলেছে যে ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী সকল কূটনৈতিক কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। তাদের কূটনৈতিক কর্মীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান উপ-মুখপাত্র বেদান্ত প্যাটেল ১৫ মে (যুক্তরাষ্ট্র সময়) স্টেট ডিপার্টমেন্টে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে, এক প্রশ্নের উত্তরে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, “আমি যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস বা এর কর্মীদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিশদ বিবরণে প্রবেশ করতে যাচ্ছি না।”

তিনি উল্লেখ করেছেন, “কূটনৈতিক সম্পর্কের ভিয়েনা কনভেনশন অনুসারে, যে কোনো স্বাগতিক দেশে-কে, অবশ্যই সকল কূটনৈতিক মিশন প্রাঙ্গণ এবং কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা বজায় রাখতে হবে এবং কর্মীদের ওপর যে কোনো আক্রমণ প্রতিরোধে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে।”

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের দূতসহ বেশ কয়েকজন বিদেশি কূটনীতিককে অতিরিক্ত নিরাপত্তা এসকর্ট না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ার পর প্যাটেল এ মন্তব্য করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন সোমবার (১৫ মে) বলেছিলেন, পাঁচ থেকে ছয়জন কূটনীতিক এ ধরনের সেবা পেয়ে থাকেন এবং এখন অন্যান্য কূটনীতিকরাও এই সুবিধা চান। তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের জন্য কঠিন হয়ে যাচ্ছে।’ তিনি আরো বলেন, “তারা চাইলে অর্থের বিনিময়ে পেতে পারে। আমরা করদাতাদের অর্থ দিয়ে এই অতিরিক্ত (নিরাপত্তা) এসকর্ট পরিষেবা প্রদান করবো না।”

ড. মোমেন বলেন, “উন্নত দেশগুলোতে কোনো সরকারই এ ধরনের বাড়তি সুযোগ-সুবিধা দেয় না।” তিনি আরো বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনো অবনতি হয়নি যে এ ধরনের সেবা প্রয়োজন।”

সূত্র: ভয়েজ অব আমেরিকা