গোল্ডেন মনিরকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে র‌্যাব ॥ ৩টি মামলা

অবৈধ অস্ত্র, মাদক, স্বর্ণালংকার ও বিদেশী মুদ্রা রাখার দায়ে মনির হোসেন ওরফে গোল্ডেন মনিরকে র‌্যাব হেফাজতে নেয়া হয়েছে। তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
শনিবার বিকেলে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে তাকে টিকাটুলিতে র‌্যাব কার্যালয়ে নেয়া হয়।
র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ জানান, টিকাটুলিতে মনিরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আমাদের কাছে যেসব তথ্য আছে, সে সবের পাশাপাশি আরও তথ্য জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ আছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে। তদন্ত করে পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, অবৈধ অস্ত্র, মাদক ও বিপুল পরিমাণ টাকা রাখার অভিযোগে গোল্ডেন মনিরের বিরুদ্ধে বাড্ডা থানায় তিনটি পৃথক মামলা দায়ের করছে র‌্যাব।
আজ শনিবার অবৈধ অস্ত্র, মাদক ও বিদেশি মুদ্রা রাখার অভিযোগে মনির হোসেন ওরফে গোল্ডেন মনিরকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।
শুক্রবার রাত ১১টা থেকে মনিরের মেরুল বাড্ডার ১৩ নম্বর রোডের ৪১ নম্বর বাড়িতে অভিযান শুরু করে র‌্যাব।
র‌্যাব জানায়,নব্বইয়ের দশকে গাউছিয়া মার্কেটের একটি কাপড়ের দোকানের সেলসম্যান হিসেবে কাজ করতেন মনির। সময়ের ব্যবধানে মনির বড় ধরনের স্বর্ণ চোরাচালানকারী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তার নাম হয়ে যায় গোল্ডেন মনির। ভূমি দস্যুতার মাধ্যমে মনির অসংখ্য প্ল¬টের মালিকও হয়েছেন।
মনিরের বাসা থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, চারটি গুলি, চার লিটার বিদেশি মদ, ৩২টি নকল সিল, ২০ হাজার ৫০০ সৌদি রিয়াল, ৫০১ ইউএস ডলার, ৫০০চাইনিজ ইয়েন, ৫২০ রুপি, ১ হাজার সিঙ্গাপুরের ডলার, ২লাখ ৮০ হাজার জাপানি ইয়েন, ৯২ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত, হংকংয়ের ১০ ডলার, ১০ ইউএই দিরহাম, ৬৬০ থাই বাথ জব্দ করা হয়েছে। এগুলোর মূল্যমান সব মিলিয়ে ৮ লাখ ২৭ হাজার ৭৬৬ টাকা। এ ছাড়া ৬০০ ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ ১ কোটি ৯ লাখ টাকা জব্দ করা হয়েছে।
মনিরের বাসার নিচের পার্কিং থেকে বিলাসবহুল দুটি প্রাডো গাড়ি পাওয়া গেছে। মনির এবং তাঁর পরিবার গাড়ি দুটি ব্যবহার করতো। কিন্তু গাড়ি দুটির কোনো বৈধ কাগজ তারা দেখাতে পারেনি। তার মালিকানাধীন অটোকার সিলেকশন থেকে আরও তিনটি অবৈধ গাড়ি জব্দ করা হয়েছে। -বাসস

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।