Skip to content

বান্দরবানে যৌথ বাহিনীর জঙ্গিবিরোধী বিশেষ অভিযান শুরু

বান্দরবানে যৌথ বাহিনীর জঙ্গিবিরোধী বিশেষ অভিযান শুরু

বেনার নিউজ

সম্প্রতি আত্মপ্রকাশ করা একটি ধর্মীয় উগ্রবাদী সংগঠনের সন্দেহভাজন জঙ্গিদের ধরতে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে বান্দরবানের রুমা ও রোয়াংছড়ির দুর্গম এলাকায় বিশেষ অভিযান শুরু করেছে যৌথবাহিনী। অভিযানের জন্য মঙ্গলবার থেকে ওইসব এলাকায় পর্যটকদের ভ্রমণেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

যৌথ বাহিনীর অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা বলবত থাকবে বলে সাংবাদিকদের জানান বান্দরবানের জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজি।

রুমা ও রোয়াংছড়ির দুর্গম এলাকায় নতুন জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্কিয়ার সদস্যরা গোপনে সশস্ত্র প্রশিক্ষণ নিচ্ছে, এমন সংবাদের ভিত্তিতে এই বিশেষ অভিযান শুরুর কথা জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। 

জামায়াতুল আনসার এবং এর পৃষ্ঠপোষক বিদ্রোহী সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট সদস্যদের আইনের আওতায় আনাই এই বিশেষ অভিযানের উদ্দেশ্য বলে মঙ্গলবার বেনারকে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান।

যদিও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে অভিযান শুরুর কথা জানিয়ে বলা হয়েছে এটি একটি ‘নিয়মিত’ অভিযান।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও রুমা ও রোয়াংছড়িতে চলমান অভিযানে অংশ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিজিবি পরিচালক লে. কর্নেল ফয়জুর রহমান।

রুমা উপজেলার বাসিন্দা শৈহ্লাচিং মারমা মঙ্গলবার বেনারকে জানান, অভিযানের সুবিধার জন্য ওই অঞ্চল দিয়ে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কেওক্রাডং, বগা লেকসহ অন্যান্য দর্শনীয় স্থানে পর্যটক চলাচল বন্ধ করে দেবার ফলে “এলাকাটি পর্যটকশূন্য হয়ে গেছে।”

মঙ্গলবার নিজের কার্যালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বেনারকে জানান, জামায়াতুল আনসার জঙ্গিরা বান্দরবান জেলার বিভিন্ন স্থানে “গোপনে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে বলে আমাদের কাছে খবর আছে।”

তিনি বলেন, “জঙ্গিরা কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের কাছে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে, এমন খবরও আছে।”

ওইসব এলাকা খুবই দুর্গম হলেও “আমরা সকল জঙ্গি, ও বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অপারেশন অব্যাহত রাখব,” জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা এদের ধরে ফেলব।”

তবে এই অভিযান কতদিনে চলবে এবং কতজন গ্রেপ্তার হয়েছে, সে ব্যাপারে মন্ত্রী বা অন্য কর্মকর্তারা কিছু জানাননি।

আদর্শগত মিল নেই, সুবিধার জন্য জোট

গত ৬ অক্টোবর র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র‍্যাব) ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে জানায়, গত দুই বছরে দেশের ১৯ জেলা থেকে প্রায় অর্ধশত যুবক ঘর ছাড়া হয়েছেন।

র‍্যাবের মতে, ঘর ছাড়া তরুণরা জামায়াতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্কিয়া নামের নতুন জঙ্গি সংগঠন গঠন করে পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম অঞ্চলে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে।

নতুন জঙ্গি সংগঠনের ১২ সদস্যকে গ্রেপ্তারের কথাও জানায় র‍্যাব।

এদিকে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর সদস্যদের নিয়ে একটি আলাদা স্বায়ত্তশাসিত রাজ্য গঠনের দাবি নিয়ে আত্মপ্রকাশ করে কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট।

বম, পাংখুয়া, লুসাই, খুমি, ম্রো ও খিয়াং জাতিগোষ্ঠীর সদস্যরাই মূলত কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট এর সদস্য।

আদর্শ ও ধর্মীয় দিক থেকে কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট এবং জামায়াতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্কিয়ার মধ্যে কোনো মিল নেই বলে মঙ্গলবার বেনারকে জানান নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুর রশীদ।

তিনি বলেন, “কুকি-চিন সদস্যরা মূলত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। অন্যদিকে জামায়াতুল আনসার কট্টর ইসলামী আদর্শে বিশ্বাসী।”

দুটি সংগঠন “একে অপরের কাছ থেকে সুবিধা পেতেই একসাথে কাজ করছে,” বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, “কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের অস্ত্র রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় প্রশিক্ষণ দেয়ার মতো উপযুক্ত নিরাপদ স্থান রয়েছে তাদের। তবে তাদের অর্থের যোগান কম।”

“অন্যদিকে জামায়াতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্কিয়া সংগঠনের অর্থের প্রবাহ ভালো। তবে তাদের নিরাপদ আশ্রয় দরকার; অস্ত্রও কম। সেকারণে এর সদস্যরা কুকি-চিনের সহায়তা নিয়ে সন্ত্রাসী তৎপরতার প্রশিক্ষণ নিচ্ছে,” বলেন জেনারেল আব্দুর রশীদ।

এই মুহূর্তে কেন নতুন জঙ্গি সংগঠন আত্মপ্রকাশ করল, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জঙ্গিরা যখন পুরাতন সংগঠনের ব্যানারে কাজ করতে পারে না তখন তারা নতুন নাম দিয়ে উগ্রবাদী ও জঙ্গিবাদী কার্যক্রম পরিচালনা করে।

তিনি বলেন, ২০১৬ সালের জুলাই মাসে হোলি আর্টিজান বেকারি হামলার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় বাংলাদেশের তিন জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি), আনসার আল-ইসলাম এবং হরকাতুল জিহাদ আল-ইসলাম বাংলাদেশ (হুজি-ব) এর নেটওয়ার্ক ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। পাশাপাশি সংগঠনগুলোর ব্যাপারে দেশের মানুষের সচেতনতার কারণে তারা আর প্রকাশ্যে কাজ করতে পারছে না।

“ওই তিন জঙ্গি সংগঠনের কিছু সদস্য একত্রিত হয়ে নতুন সংগঠনটি গঠন করেছে,” বলেন আব্দুর রশীদ।

নতুন এই জঙ্গি সংগঠনের পেছনে “রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা” থাকতে পারে এবং আগামী জাতীয়সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জঙ্গিদের অপতৎপরতা বাড়তে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।