Skip to content

বাজেটে মুদ্রাস্ফীতি ও রাজস্ব ঘাটতি মোকাবেলা করতে হবে: মত অর্থনীতিবিদদের

বাজেটে মুদ্রাস্ফীতি ও রাজস্ব ঘাটতি মোকাবেলা করতে হবে: মত অর্থনীতিবিদদের

আগামী অর্থবছরের জন্য বাংলাদেশের জাতীয় বাজেটের প্রস্তুতিতে অবশ্যই আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্তের সঙ্গে নির্বাচনী বছরে প্রত্যাশার ভারসাম্য রাখতে হবে। আর, মুদ্রাস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট এবং রাজস্ব ঘাটতি মোকাবেলা করতে হবে। এ মত প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদরা।

তারা বলেছেন, “এক্ষেত্রে, জনগণের সন্তুষ্টি বজায় রাখা এবং অর্থনীতি রক্ষা করা একটি প্রধান বিষয় হবে। অতীতে দেখা গেছে নির্বাচনী বছরের বাজেটে সাধারণত অর্থনীতির উন্নতির চেয়ে, জনগণের সন্তুষ্টিকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।”

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশিষ্ট ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, “এবার সন্তোষজনক বাজেট পেশ করার সুযোগ খুবই সীমিত। নির্বাচনের আগে সব সরকারই জনগণকে সন্তুষ্ট করে এমন বাজেট দিতে চায়। কিন্তু আর্থিক পরিস্থিতি, রাজস্ব ঘাটতি ও বাণিজ্য ঘাটতির কারণে সরকারের জন্য সেই সুযোগ খুবই সীমিত। যদি এ বিষয়ে বড় কোনো সিদ্ধান্ত নেয়াও হয়, তা সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”

তিনি আরো বলেন, “এটা মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে দুটি সরকার এই বাজেট বাস্তবায়ন করবে। এই বাজেটে নমনীয়তা রক্ষা করতে হবে। কারণ, সরকার যদি বড় কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়, তাহলে তারা কতটা বাস্তবায়ন করতে পারবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।”

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, “অন্য যে কোনো বছরের তুলনায় এবারের বাজেট খুবই জটিল পরিস্থিতিতে তৈরি করতে হচ্ছে। কারণ, আগে আয়-ব্যয়ের ক্ষেত্রে ঘাটতি থাকলেও, বৈদেশিক লেনদেনের ক্ষেত্রে তুলনামূলক স্বস্তি থাকতো। কিন্তু এবার তা নয়।”

তিনি বলেন, “প্রবৃদ্ধির হারে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটেছে। টাকা ও ডলার না থাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যাচ্ছে। উভয় ক্ষেত্রেই বড় ঘাটতি রয়েছে, যা একসঙ্গে মোকাবেলা করতে হবে।”

সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) এর নির্বাহী পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক সেলিম রায়হান বলেন, “আগের নির্বাচনী বছরগুলোতে অর্থনীতি এবারের মতো সংকটে ছিলো না।”

ড. রায়হান বলেন, “এর ফলে, সে সময় জন-সন্তুষ্টির জন্য বাজেট প্রণয়ন করলেও অর্থনীতিতে নতুন বড় কোনো চাপ সৃষ্টি হয়নি। এবার নির্বাচনকে সামনে রেখে শুধুমাত্র জন-সন্তুষ্টির কথা বিবেচনা করে বাজেট করা হলে, তা অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করবে।”

সূত্র: ভয়েজ অব আমেরিকা