Skip to content

বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ চায় গারো পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী

ছবি : ঢাকা মেইল

উন্নয়ন বৈষম্য দূরীকরণে আসন্ন বাজেটে শেরপুরের গারো পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীরা বিশেষ বরাদ্দের দাবি করেছে। রাস্তাঘাট, বিদ্যালয়, কালচারাল একাডেমি, স্যানেটারি ল্যাটট্টিন, নিরাপদ গোসলখানা, সুপেয় পানির সংকট, কর্মক্ষেত্রের অভাবসহ নানান সমস্যা সমাধানে বিশেষ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে তারা। 

জেলার শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তজুড়ে সাতটি সম্প্রদায়ের প্রায় ৫৪ হাজার মানুষের বসবাস। এর মধ্যে গারো, কোচ, বর্মণ, হাজং ও হদি সম্প্রদায়ের সংখ্যাই বেশি।

বেসরকারি সংস্থা আইইডির আদিবাসী সক্ষমতা উন্নয়ন প্রকল্পের তথ্যমতে— জেলায় গারো ১৬ হাজার ৫শ, হাজং ৪ হাজার ৭শ, হদি ১০ হাজার ৬শ, বর্মণ ১৭ হাজার, কোচ ৩ হাজার ৫শ, ডালু ১১শ ও বানাই ১শ ১০ জন রয়েছেন।

এদের জীবিকার প্রধান মাধ্যম কৃষি কাজ। নারী পুরুষ উভয়েই কৃষি কাজ করে থাকেন। ভালো রাস্তাঘাট ও কর্মসংস্থানের অভাবে দারিদ্রতা থেকে উঠতে পারছে না বেশিরভাগ লোকজন। 

ঝিনাইগাতী উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ঘেঁষা এলাকা পূর্ব নওকুঁচির কোচপাড়া। এ গ্রামের বাসিন্দা অনিন্দ্র কোচ ঢাকা মেইলকে বলেন, আমাদের গ্রামে এখনও কাঁচা রাস্তা। বৃষ্টির দিন পথচলা খুবই দুর্বিসহ হয়ে পড়ে। কাদা মাড়িয়ে ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যেতে পারে না। এসব রাস্তা দিয়ে পায়ে হাঁটা খুবই মুশকিল। তাছাড়া শুস্ক মৌসুমে আবার পাহাড়ি এলাকায় লেয়ার নিচে নেমে যাওয়ায় খাবারের পানির তীব্র সংকট দেখা দেয়। তখন বাধ্য হয়ে ঝোড়া, নদী ও কুয়ার পানিই পান করতে হয়। তাই সরকারের কাছে আমার দাবি, এসব সমস্যা সমাধানে যেন সরকার বিশেষ বরাদ্দ দেয়।

একই এলাকার শিক্ষার্থী ফাল্গুনী কোচ বলেন, আমাদের স্কুলগুলো গ্রাম হতে দূরে। রাংটিয়া বা ঝিনাইগাতী বাজারে যেতে হয়। পথঘাট ভালো না থাকলে, স্কুলে যাওয়া কঠিন হয়ে যায়। স্কুলগুলোতে আদিবাসী শিক্ষক নেই, পাড়ায় নেই কোনো কালচারাল একাডেমি। তাই নিজস্ব ভাষা ও কালচার হতে আমরা বিরত থাকছি। এবারের বাজেটে রাস্তাঘাট, বিদ্যালয়ে নিজস্ব ধর্মের শিক্ষক ও আমাদের এখানে একটি কালচারাল একাডেমি করার জন্য বরাদ্দ চাই বাজেটে।

নৃ-গোষ্ঠীদের নেতা প্রদীপ মারাক ঢাকা মেইলকে বলেন, বাপ-দাদার আমল হতে আমাদের এলাকা যেমন দেখতেছি; এখনো তেমনই আছে। আমাদের অনেকের বাড়িতে এখনো স্যানেটারি ল্যাটট্টিন নেই। তারা মাটির বা কাঁচা পায়খানা ব্যবহার করছে। রাস্তাঘাটের অবস্থা বেহাল। বিশেষ করে বর্ষার মৌসুমে এসব এলাকায় মাটির সড়কে চলাচল করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। তাই আসন্ন বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ দরকার। 

ঝিনাইগাতী উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের ছোট গজনীর ডিবিসন সাংমা বলেন, আমার পরিবারে ৫ জন সদস্য। আয় রোজকার করার মতো তেমন কোনো মাধ্যমও নেই। সব কিছুর দাম দিন দিন বেড়েই চলছে, কিন্তু আয় বাড়ছে না। এমন অবস্থায় এ অঞ্চলে একটা কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি করা দরকার। 

বাংলাদেশ গারো ছাত্র সমিতির (বাগাছাস) নেতা কাঞ্চন মিস্টার মারাক বলেন, আমাদের স্কুলগুলোতে নেই মাতৃভাষার বই ও শিক্ষক, তাই মাতৃভাষা শিখতে পারছে না শিক্ষার্থীরা। এক সময় সমৃদ্ধ ভাষা ও সংস্কৃতি থাকলেও, সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে চর্চা ও পৃষ্ঠপোষকতায় অভাবে ছেলে-মেয়েরা ভুলতে বসেছে আমাদের নিজস্ব মাতৃভাষা ও সংস্কৃতি। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষার শিক্ষক সংকট দীর্ঘদিনের। প্রতিটি স্কুলে মাতৃভাষার বইয়ের পাশাপাশি শিক্ষক এবং সংস্কৃতি রক্ষায় দরকার একটি কালচারাল একাডেমির দাবি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর এছাত্র নেতার। এই বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে এ দাবি পূরণের আশা তার।

শ্রীবরদী ট্রাইব্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস চেয়ারম্যান মনিংটন ম্রং ঢাকা মেইলকে বলেন, আমাদের হারিয়াকোনা, বাবলাকোনা এলাকায় রাস্তার বেহাল অবস্থা। ঢেউফা নদীর ওপর সেতুটিও নড়বড়ে হয়ে গেছে। এখানে বেশিরভাগ মানুষ নিম্ন আয়ের। যদিও সরকার ইতোমধ্যে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর ও শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বৃত্তি দিচ্ছে। তবে নারীদের জন্য নিরাপদ গোসলখানা ও স্যানেটারি ল্যাটট্রিন খুবই জরুরি। সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি, আসন্ন বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে হলেও আমাদের এ সকল সমস্যা সমাধান করার।

জেলা প্রশাসক সাহেলা আক্তার ঢাকা মেইলকে বলেন, সরকারের নানামুখী উদ্যোগে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করা হচ্ছে। নৃ-গোষ্ঠীর ভূমিহীনদের জন্য এখন পর্যন্ত ৩ দফায় জেলায় মোট ৮৫টি পরিবারকে দুই শতক জমিসহ বাড়ির মালিকানা দেওয়া হয়েছে। জেলা সদরে ১৫টি, নকলা ১০টি, নালিতাবাড়ী ৪০টি, ঝিনাইগাতী ১০টি ও শ্রীবরদী উপজেলায় ১০টি ঘর। প্রতিটি বাড়ি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে সব মিলিয়ে ২ লাখ ৮৯ হাজার ৫শ টাকা। এছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য ১৯৫টি বাইসাইকেল এবং ১ হাজার ৩৮০ জন শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হয়েছে।

প্রতিনিধি/এইচই



বার্তা সূত্র