বাংলাদেশ ধর্মনিরপেক্ষতার মূলনীতি থেকে সরবে না : সজীব ওয়াজেদ জয়

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তার আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, বাংলাদেশ তার প্রতিষ্ঠাকালীন ধর্মনিরপেক্ষতার মূলনীতি থেকে সরে যেতে পারে না। তিনি বলেন, আমরা যে ধর্মেরই হই না কেন, আমরা সবাই বাঙ্গালি।

মঙ্গলবার রাতে ইয়াং বাংলা আয়োজিত জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে সেন্টার ফর রিচার্স এন্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) চেয়ারম্যান সজীব ওয়াজেদ জয় যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে এ কথা বলেন।

যে চেতনাকে ধারণ করে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল গণতন্ত্র, সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের উন্নয়ন এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সমান অধিকার- এগুলোর কোনোটিকে বাদ দিলে দেশ ‘আগাবে না’ বলে মনে করেন তিনি।

জয় বলেন, “যে কয়েকটি মূলনীতি নিয়ে বাংলাদেশ গঠন হয়েছিল- গণতন্ত্র, যে দেশ চলবে মানুষের অধিকারের উপর, মানুষের ভোটের উপর। দেশের মানুষ নিশ্চিৎ করবে- বাংলাদেশের নেতৃত্বে কে, বাংলাদেশ কোন দিকে যাবে।

“সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার, মানুষের সেবা করতে হবে। শুধু এক শ্রেণিকে ভালো রাখলে হবে না। দেশের ১৬ কোটি মানুষ যাতে ভালো থাকে, সেটা নিশ্চিৎ করতে হবে। এটা ছিল বঙ্গবন্ধুর একটি মূলনীতি।

“আর ধর্মনিরপেক্ষতা, যে আমরা সবাই বাঙালি। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, মুসলমান, নাস্তিক আমরা সবাই বাঙালি, আমরা সবাই সমান। এ তিনটি মূলনীতি নিয়েই কিন্তু বাংলাদেশ স্বাধীন করা হয়েছিল। এ তিনটি ছিল বঙ্গবন্ধুর মূলনীতি।”

বঙ্গবন্ধুর এই মূলনীতিকে ধারণ করে তরুণদের এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “তরুণদের প্রতি আমি অনুরোধ করব, এ তিনটি মূলনীতি কোনো দিন ভুলবেন না। কারণ এ নিয়ে আমরা এগিয়ে যেতে পারব। এ তিনটি যদি আমরা ছেড়ে দেই, আমরা আগাতে পারব না।”

করোনা পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনৈতিক ধারা এখনো উন্নতির দিকে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক উন্নত দেশ বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। কিন্তু নেতৃত্বগুণে আমরা এখনো উন্নতি করছি।

দেশ ও সমাজের উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাওয়া তরুণদের ৩০টি সংগঠনকে ঐ অনুষ্ঠান থেকে জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড দেয়া হয়। ডা. নুজহাত চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিআরআই ট্রাস্টি নসরুল হামিদ বিপু। বিজয়ীদের কাছে সার্টিফিকেট, ক্রেস্ট ও ল্যাপটপ পৌঁছে দেয়া হবে। এ ছাড়াও শীর্ষ মনোনয়ন পাওয়া সকল তরুণ সংগঠন পাবে সার্টিফিকেট।
প্রায় তিন লাখ সদস্য, ৫০ হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবী এবং ৩১৫টির বেশি সংগঠনকে সঙ্গে নিয়ে চলা ‘ইয়াং বাংলা’র লক্ষ্য- ‘ভিশন-২০২১’ এ দেশের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে তরুণ প্রজন্মকে সরাসরি অন্তর্ভুক্ত করা এবং তাদের নতুন ধারণা ও উদ্ভাবনকে বিশ্বে তুলে ধরা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।