Skip to content

বাংলাদেশে কর্মসংস্থানের প্রধান প্রতিবন্ধকতা নীতি সংস্কারের অভাব, সেমিনারে বক্তরা

বাংলাদেশে কর্মসংস্থানের প্রধান প্রতিবন্ধকতা নীতি সংস্কারের অভাব, সেমিনারে বক্তরা

বেসরকারি বিনিয়োগে পিছিয়ে থাকায়, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার চাকরির বাজারে উদ্বেগ রয়েছে বলে এক সেমিনারে মতামত তুলে ধরেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা এই পরিস্থিতির জন্য নীতি সংস্কারের অভাবকে দায়ী করেন।

বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল ) রাজধানী ঢাকার ব্র্যাক সেন্টার ইন মিলনায়তনে ‘দক্ষিণ এশিয়া কি কর্মহীন উন্নয়নের অভিজ্ঞতা অর্জন করছে’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করে সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) ও বিশ্বব্যাংক।

সেমিনারে অন্যান্য উদীয়মান বাজার ও উন্নয়নশীল অর্থনীতির তুলনায় দক্ষিণ এশিয়ার আশাবাদী প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস তুলে ধরেন বিশেষজ্ঞরা। তবে, তারা কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য প্রতিবন্ধকতার কথা উল্লেখ করেন এবং বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের জন্য প্রয়োজনীয় নীতি সংস্কারের অভাবকে দায়ী করেন।

বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. ফ্রান্সিসকা ওনসর্গ তার উপস্থাপনায়, কর্মসংস্থান সৃষ্টির বাধা দূর করতে নীতি সংস্কারের জরুরি প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

ড. ওনসর্গ-এর মতে, অন্যান্য উন্নয়নশীল অঞ্চলের তুলনায় বেসরকারি বিনিয়োগে পিছিয়ে রয়েছে এই অঞ্চল। আর জিডিপিতে এর অবদান খুব বলে উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, এই বিষয়টি দক্ষিণ এশিয়ার চাকরির বাজারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

ড. ওনসর্গ, দক্ষিণ এশিয়ার নিম্ন বাণিজ্য-জিডিপি অনুপাত তুলে ধরেন এবং বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাত এবং ভারতীয় তথ্য-প্রযুক্তি (আইটি) শিল্পের মতো প্রবৃদ্ধির নির্দিষ্ট ক্ষেত্রগুলো তুলে ধরেন। বাণিজ্যের ক্ষেত্রে উচ্চ বাধা আরোপের জন্য বাংলাদেশের সমালোচনা করেন তিনি। বলেন, “এটি প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের সুযোগকে বাধাগ্রস্ত করছে।”

সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের উপাচার্য ড. রুবানা হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সায়মা হক বিদিশা এবং বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ বার্নার্ড হ্যাভেন।

নির্দিষ্ট আলোচকরা কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কাজের গুণগত মান এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে কর্মশক্তিতে একীভূত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

বার্নার্ড হ্যাভেন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামষ্টিক অর্থনীতির বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে আন্তঃসংযোগের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি আরো বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) এবং অনুকূল ব্যবসায়িক পরিবেশের পক্ষে মত দেন। এছাড়া, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করতে, মানব মূলধনে বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আরো অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উৎপাদনশীল জনশক্তি নিশ্চিত করতে, উন্নত ও দৃঢ় ব্যবস্থাপনা, শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণের জন্য সমর্থন বৃদ্ধি, অভিবাসন ব্যয় হ্রাস এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন হ্যাভেন।

বেকারত্বহীন প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানোর জন্য, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে ব্যাপক নীতি সংস্কারের আহবান জানান বক্তারা।

সূত্র: ভয়েজ অব আমেরিকা