বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ভিন্ন রকম ঈদ

বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ভিন্ন রকম ঈদ

বাংলাদেশের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঈদুল আজহার দিন সকাল থেকেই শিশুদের মাঝে দেখা গেছে উৎসবের আমেজ। নতুন জামা পরে শিশুরা ঘুরে বেড়ায় ক্যাম্পজুড়ে। মসজিদগুলোতে ঈদের নামাজের পর ছিল বিশেষ দীর্ঘ মোনাজাত। ক্যাম্প জীবনের ইতি টেনে দেশে ফেরার আকুতি ছিল রোহিঙ্গাদের প্রার্থনায়। নামাজ শেষে চোখে পড়েছে কোলাকোলির দৃশ্য।

রোহিঙ্গা শিবিরের মসজিদে ঈদের নামাজের পর কোলাকুলির দৃশ্য

মিয়ানমারে সামর্থ্য অনুযায়ী পশু কোরবানি দেয়ার সুযোগ থাকলেও ক্যাম্পের শরণার্থী জীবনে সেই সক্ষমতা হারিয়েছেন অধিকাংশ রোহিঙ্গা। তাই ঈদ উৎসবে নির্ভর করতে হচ্ছে সাহায্যের উপর।

দাতা সংস্থাগুলোর সহায়তায় বাংলাদেশ সরকার কোরবানির জন্য ৩ হাজারেরও বেশি পশু বরাদ্দ দিয়েছেন রোহিঙ্গাদের। মাঝিদের নেতৃত্বে রোহিঙ্গারা এসব পশু নিজেরা কোরবানি দিয়ে মাংস ভাগ করে নিয়েছেন। হাতেগোনা কিছু সমর্থ রোহিঙ্গা নিজ উদ্যোগে দিয়েছেন পশু কোরবানি।

আবুল বশর, রোহিঙ্গা শরণার্থী

 

আবুল বশর, রোহিঙ্গা শরণার্থী

প্রবীণ রোহিঙ্গা আবুল বশর জানান, “মিয়ানমারে থাকতে নিজ উদ্যোগে কোরবানি দিতেন তিনি। ক্যাম্পে সেই সামর্থ্য নেই। ক্যাম্পের অধিকাংশ রোহিঙ্গার অবস্থা একই।”

ক্যাম্পে হাতে গোনা যে ক’জন রোহিঙ্গা নিজ উদ্যোগে পশু কোরবানি দিয়েছেন তাদেরই একজন মোহাম্মদ আলম। তিনি বলেন, স্ত্রীর স্বর্ণালংকার বিক্রি করে এবং ক্যাম্পে কিছু কাজ-কর্ম করে টাকা জমিয়ে ভাগে পশু কোরবানী দিয়েছেন।

মোহাম্মদ আলম, কোরবানি দেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী

মোহাম্মদ আলম, কোরবানি দেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী

মিয়ানমার থেকে বলপুর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের সবার ঘরে কোরবানির পশুর মাংস পৌঁছে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কোরবানির জন্য বিভিন্ন দাতা সংস্থা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে পশু।

ক্যাম্প ৪, ক্যাম্প ৪ এক্সটেনশন এবং ক্যাম্প ৬ এ কোরবানির জন্য পশু দিয়েছে “ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশ” নামক একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা। সংস্থাটির সিনিয়র প্রজেক্ট ম্যানেজার মোহাম্মদ জাফর আলম জানান, ৩টি ক্যাম্পের প্রায় ১৫ হাজার রোহিঙ্গা পরিবারের জন্য ৩৭৫টি গরু কোরবানি দেয়া হয়েছে।

মোঃ মাহফুজার রহমান, ক্যাম্প ইন-চার্জ, ক্যাম্প ৪ ও ৪ এক্সটেনশন

মোঃ মাহফুজার রহমান, ক্যাম্প ইন-চার্জ, ক্যাম্প ৪ ও ৪ এক্সটেনশন

ক্যাম্প ইন-চার্জ এবং সরকারের প্রতিনিধিরা মাংস বিতরণ তদারকি করছেন। ক্যাম্প- ৪ এবং ক্যাম্প– ৪ এক্সটেনশনের ইন-চার্জ (উপসচিব) মোঃ মাহফুজার রহমান ঘুরে ঘুরে দেখছিলেন পশু কোরবানির আয়োজন।

এসময় তিনি বলেন, ক্যাম্প- ৪ এবং ক্যাম্প – ৪ এক্সটেনশনে থাকা ৯ হাজার ১ শ’ পরিবারের মাঝে প্রায় ২ কেজি করে মাংস বিতরণ করা হয়েছে। কক্সবাজারে থাকা ৩৪টি ক্যাম্পের সবকটিতেই ঈদের দিনের চিত্র প্রায় একই।

মোহাম্মদ শামসুদ্দোজা নয়ন, অতিরিক্ত শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার

মোহাম্মদ শামসুদ্দোজা নয়ন, অতিরিক্ত শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার

বাংলাদেশ সরকারের অতিরিক্ত শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ শামসুদ্দোজা নয়ন জানিয়েছেন, কক্সবাজারের ক্যাম্পগুলোতে এবার প্রায় ২ হাজার ৫শ’ গরু এবং ৫ শতাধিক ছাগল কোরবানি দিয়ে রোহিঙ্গাদের মাঝে মাংস বিতরণ করা হয়েছে।

এছাড়া নোয়াখালীর ভাসানচরে স্থানান্তর করা রোহিঙ্গাদের মাঝে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে প্রায় ২শ’ ৫০টি গরু।

সূত্র: ভয়েজ অব আমেরিকা

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email

সর্বাধিক পঠিত

সর্বশেষ সংবাদ