Skip to content

বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল ফিতর উদযাপন

বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল ফিতর উদযাপন

সৌদি আরব, মধ্য প্রাচ্য এবং পৃথিবীর আরো কিছু অঞ্চলের দেশগুলোতে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায়, বাংলাদেশ বিভিন্ন জেলায় শুক্রবার (২১ এপ্রিল) ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে।

চাঁদপুর জেলার প্রায় ৪০টি গ্রামের মুসল্লি শুক্রবার ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছে। গত ২৩ মার্চ আরব দেশগুলোর সঙ্গে রোজা রাখা শুরু করে এসব গ্রামের মানুষ। গতকাল (বৃহস্পতিবার) শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার ভিত্তিতে শুক্রবার তারা ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন।

সকাল জেলার ৯টায় চাঁদপুর সাদ্রা দরবার শরীফ ময়দান ও ১০টায় সাদ্রা হামিদিয়া ফাজিল মাদরাসা ঈদগাহে ঈদুল ফিতরের পৃথক দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন সাদ্রা দরবারের পীর আল্লামা মুফতি এওয়াইএম জাকারিয়া চৌধুরী আল মাদানী ও তার পুত্র মাওলানা মোহাম্মদ আরিফ চৌধুরী। এ ছাড়া একই এলাকায় আরো কয়েকটি ঈদের জামাত হয়েছে।

সকাল ৯টায় জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার টোরা মুন্সীরহাট জামে মসজিদে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন মাওলানা মো. রহমত উল্যাহ।

এছাড়া, সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত হাজীগঞ্জ উপজেলার বলাখাল, শ্রীপুর, মণিহার, বড়কূল, অলিপুর, বেলচোঁ, রাজারগাঁও, জাকনি, কালচোঁ, মেনাপুর, ফরিদগঞ্জ উপজেলার শাচনমেঘ, খিলা, উভারামপুর, পাইকপাড়া, বিঘা, উটতলী, বালিথুবা, শোল্লা, রূপসা, বাসারা, গোয়ালভাওর, কড়ইতলী, নয়ারহাট, মতলবের মোহনপুর, এখলাশপুর, দশানী, নায়েরগাঁও, বেলতলী, শহারাস্তি উপজেলা কয়েকটি গ্রামে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

শুক্রবার সকালে দিনাজপুর সদরসহ কয়েকটি পৃথক স্থানে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন অনেক মুসল্লি। সকাল পৌনে ৮টায় জেলা শহরের বাসুনিয়া পট্টিতে একটি কমিউনিটি সেন্টারে ঈদের প্রধান জামাতে নামাজ আদায় করেছেন প্রায় তিনশ’ পরিবার। এতে ইমামতি করেন বিরলের মহেশপুর মাদরাসা পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক।

২০০৭ সাল থেকে দিনাজপুরের কয়েকটি স্থানে রোজা শুরু তারাবির নামাজ আদায়সহ পবিত্র ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আযহা উদযাপন হচ্ছে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে।

এছাড়া, পৃথকভাবে জেলার চিরিরবন্দর উপজেলার সাইতাড়া রাবার ড্যাম, বিরল উপজেলার কামদেবপুর, কাজীপাড়া, কাহারোল উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের ভবানীপুরে, বিরামপুর উপজেলার বিনাইল ইউনিয়নের আয়রা মাদরাসা এবং জোতবানী ইউনিয়নের খয়েরবাড়ি মির্জাপুর জামে মসজিদসহ বিভিন্ন স্থানে প্রায় দুই থেকে তিন হাজার পরিবারের মানুষ ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন। আরো কয়েকটি স্থানে সীমিত সংখ্যক মানুষ পবিত্র ঈদের নামাজ আদায় করেছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে, সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে, লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন পাঁচ শতাধিক মুসল্লি। শুক্রবার (২১ এপ্রিল) সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে উপজেলার মুন্সিপাড়ায় জামে মসজিদে পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজে ইমামতি করেন মাওলানা আব্দুল মাজেদ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সাল থেকে কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নের মহিষামুড়ি চর, তুষভান্ডার ইউনিয়নের সুন্দ্রাহবি মুন্সিপাড়া জামে মসজিদ, চন্দ্রপুর ইউনিয়নের পানি খাওয়ার ঘাট ও একই ইউনিয়নের বোতলা এলাকায় সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

মুন্সিপাড়ার ঈদগাহ মাঠের সভাপতি মাওলানা মাছুম বিল্লাহ্ বলেন, “সারা বিশ্বে একই দিন ঈদ হবে। এ বিশ্বাস থেকে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে কয়েক বছর ধরে এ এলাকার মানুষ ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা, শবে কদর, শবে মেরাজসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করে আসছেন।

তিনি বলেন, “প্রতি বছর আমরা সৌদি আরবের আকাশে চাঁদ দেখা গেলে ঈদ পালন করি। এখানকার জামাতে পাঁচ শতাধিক মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও অংশ নেন জামাতে। তবে গতবারের থেকে এবার মুসুল্লি কমেছে। কারণ বিভিন্ন স্থানে জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে।”

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটি এম গোলাম রসূল জানান, “সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে অনেক আগে থেকে কাকিনা, তুষভান্ডার ও চন্দ্রপুর ইউনিয়নের কিছু মানুষ ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করেন। তাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে পুলিশ।”

এ সব এলাকা ছাড়াও, বাংলাদেশের আরো কিছু এলাকায় সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল ফিতর উদযাপন কার হয়েছে।

সূত্র: ভয়েজ অব আমেরিকা