Skip to content

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার হুমকি: ২৬ মাসেও শেষ হয়নি মামলার পুনঃতদন্ত

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার হুমকি: ২৬ মাসেও শেষ হয়নি মামলার পুনঃতদন্ত

বুলবুল আরজিতে বলেন, এই তিন ব্যক্তি তাদের জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ও সংবিধানের বিরুদ্ধে মানুষের মধ্যে বিদ্বেষ ও ঘৃণা ছড়িয়েছেন, যা রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল।

ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে করা ওই মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, “২০২০ সালের ১৩ নভেম্বর মামুনুল হক তোপখানা রোডে বসে ভাস্কর্যবিরোধী বক্তব্যে বলেন- ‘যারা ভাস্কর্যের নামে বঙ্গবন্ধুর মূর্তি স্থাপন করে, তারা বঙ্গবন্ধুর সুসন্তান হতে পারে না, এই মূর্তি স্থাপন বন্ধ করুন। যদি আমাদের আবেদন মানা না হয়, আবারও তৌহিদি জনতা নিয়ে শাপলা চত্বর কায়েম হবে’।”

চরমোনাইয়ের পীর সৈয়দ ফয়জুল করিমের বিরুদ্ধে তিনি অভিযোগ করেন, “২০২০ সালের ১৩ নভেম্বর যাত্রাবাড়ির গেণ্ডারিয়া এলাকায় এক সমাবেশে ফয়জুল করিম সেখানে আসা মানুষদের হাত উঁচিয়ে শপথ পড়ান।

“তিনি শপথে বলেন, ‘রাশিয়ার লেলিনের ৭২ ফুট মূর্তি যদি ক্রেইন দিয়ে তুলে সাগরে নিক্ষেপ করতে পারে, তাহলে আমি মনে করি শেখ সাহের মূর্তি, আজকে হোক কালকে হোক, তুলে বুড়িগঙ্গায় নিক্ষেপ করা হবে’।”

জুনাইদ বাবুনগরীও ২০২০ সালের ২৭ নভেম্বর চট্টগ্রামের হাটহাজারীর এক সমাবেশেও একই ধরনের বক্তব্য দেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

মামলার তদন্তের দায়িত্ব পাওয়া পিবিআইর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের পরিদর্শক মো. তৈয়বুর রহমান গত বছর ১৭ জানুয়ারি আসামিদের অব্যাহতি দিয়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন। আসামিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের প্রমাণ মেলেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে বলেন, “তাদের বক্তব্যে বাংলাদেশের সংবিধান কিংবা রাষ্ট্রের প্রতি বিদ্বেষের প্রকাশ ঘটেনি। তাদের বক্তব্যে সরকারের একটি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অসমর্থনমূলক অভিমত প্রকাশ পেয়েছে। আর এই অভিমতটি ধর্মপ্রাণ মুসলিমপ্রধান দেশের জনমনে কুরআন-হাদিসের আলোকে তারা উপস্থাপন করেছেন।

“একটি স্বাধীন দেশে সরকারি কোনো কাজ বা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করলে তা যদি জনবিরোধী, ব্যক্তিস্বার্থকেন্দ্রিক, জাতি ও ধর্মবিরোধী হয়, তবে সেসব কাজের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে প্রত্যেক নাগরিক মত প্রকাশ করতে পারেন। এটি তাদের সাংবিধানিক অধিকার। তাদের বক্তব্যে বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী বরাবরে প্রকাশ্যে ঘোষণার মাধ্যমে ভাস্কর্য স্থাপন বন্ধ করার অনুরোধ করা হয়েছে।”

তদন্ত কর্মকর্তা আরও লিখেছেন, “এছাড়া বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা মুসলিম বিশ্বের কাছে মসজিদের শহর হিসেবে পরিচিত। মুসলমানদের এই ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্যে তারাসহ দেশের বিশিষ্ট ইসলামী জ্ঞানসম্পন্ন আলেমরা ধর্মের প্রশ্নে বজ্রকণ্ঠে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। কাজেই তাদের এই কার্য রাষ্ট্রদ্রোহী অপরাধে বিবেচ্য নয়।”

বার্তা সূত্র