Skip to content

বঙ্গবন্ধুর দল ১৫ বছর ক্ষমতায় তবু দেশ কেন সাম্প্রদায়িক – দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

দেশে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দল এবং সহযোগী বামপন্থিরা একসঙ্গে ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পরও দেশ কেন এত সাম্প্রদায়িক হলো? গতকাল শনিবার ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে আয়োজিত যুব কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ এ কর্মশালার আয়োজন করে।

দেশের সংবিধানকেই ধর্মীয়করণ করা হয়েছে মন্তব্য করে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের সাম্প্রদায়িকীকরণ হয়েছে। অষ্টম সংশোধনীতে রাষ্ট্রধর্ম এসেছে। আর পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বলা হয়েছে রাষ্ট্রধর্মও থাকবে এবং অন্য ধর্মগুলোও পালন করার সুযোগ থাকবে, যা সুকুমার রায়ের কবিতার হাঁস ও শজারুর মিশ্রণে হওয়া ‘হাঁসজারু’র মতো।

বর্তমানে দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের নারীরা নিরাপদ নয় মন্তব্য করে আগামী সংসদ নির্বাচন কেন্দ্র করে হিন্দু সম্প্রদায়ের অধিকার আদায়ের জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

কর্মশালায় হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত বলেন, স্বাধীনতার ৫২ বছর পরে নিজেদের সংখ্যালঘু হিসেবে ভাবার জন্য মুক্তিযুদ্ধ করিনি। রাষ্ট্র, রাজনীতি, বিশেষ করে সংবিধান জনসংখ্যার হারে জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের রাষ্ট্রীয় সংখ্যালঘুতে পরিণত করেছে। সাম্প্রদায়িক হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, গরিব হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে অপপ্রচার চালানো হয়। সেটাকে কেন্দ্র করে হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা করা হয়। আসন্ন দুর্গাপূজার সময় কোনো রাজনৈতিক দলকে কর্মসূচি না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে রানা দাশগুপ্ত বলেন, পূজার সময় রাজনৈতিক কর্মসূচি দেওয়া হলে ধরে নেওয়া হবে তারা ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বন্ধু নন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, সাম্প্রদায়িকতা ঠেকানো সম্ভব। ছোট ছোট হাতের সর্বোচ্চ ব্যবহার করেই রাষ্ট্রে সাম্প্রদায়িকতার দাবানল নেভাতে হবে। ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের সভাপতি জে এল ভৌমিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সঞ্চিতা গুহ, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি মনীন্দ্র কুমার নাথ প্রমুখ।

নির্বাচনের আগেই হিসাব মেটানোর দাবি

গতকাল তেজগাঁও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের ঢাকা মহানগর উত্তরের বর্ধিত সভায় রানা দাশগুপ্ত বলেন, সংসদ নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে, দেশের ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ততই বাড়ছে। কারণ, নির্বাচনের আগে ও পরে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। তাই কী দেবেন আর কী নেবেন, তার হিসাব-নিকাশ নির্বাচনের আগেই পরিষ্কার করতে হবে। তা না হলে নির্বাচনের মাঠে নামা আমাদের পক্ষে সম্ভব হবে না।

তিনি বলেন, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় বিশেষ সুরক্ষা আইন প্রণয়নসহ সরকারের কোনো নির্বাচনী অঙ্গীকারই এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। কিন্তু মনে রাখতে হবে, দেশের অন্তত ১০০টি আসনে নির্বাচনী ফলের নিয়ামক শক্তি এই সংখ্যালঘুরাই। আমরা কোনো দেশ বা রাজনৈতিক দলের দালাল নই। যে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে আমরা মুক্তিযুদ্ধে ত্যাগ স্বীকার করলাম, স্বাধীনতার অর্ধশতক পরে এসে দেখছি, এই রাষ্ট্রে সেই তিন লক্ষ্যই হারিয়ে গেছে। রাষ্ট্র হয়ে গেছে বৈষম্যমূলক আর সাম্প্রদায়িক। বাহাত্তরের সংবিধান হারিয়ে গেছে। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ, বঙ্গবন্ধুর আদর্শই আজ পরাজিত।

ঐক্য পরিষদের মহানগর উত্তরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অতুল চন্দ্র মণ্ডলের সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হৃদয় গুপ্তের সঞ্চালনায় বর্ধিত সভায় আরও বক্তব্য দেন ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল কুমার রায়, অধ্যক্ষ হরিচাঁদ মণ্ডল সুমন, কিশোর রঞ্জন মণ্ডল, রবীন্দ্রনাথ বসু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বাপ্পাদিত্য বসু, মহানগর উত্তরের নেতা পরিমল কুরি, প্রভাষ মণ্ডল, অবিনাশ সমাজপতি, সুধীর বিশ্বাস প্রমুখ।



বার্তা সূত্র