ফাইনালে ‘এক দিক’ থেকে খুলনাকে এগিয়ে রাখছেন চট্টগ্রামের কোচ

শুক্রবার বিকাল চারটায় মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপের ফাইনাল। পাঁচ দলের তিন সপ্তাহের লড়াইয়ের পর ফাইনালে মুখোমুখি খুলনা ও চট্টগ্রাম।

জমজমাট সেই লড়াইয়ে কে ফেভারিট তা নিয়ে তর্ক চলতেই পারে। যদিও অনেকে মোহাম্মদ মিঠুনের চট্টগ্রামকে ফেভারিট মানছেন। তবে খোদ চট্টগ্রামের কোচ সালাউদ্দিন একটি বিষয়ে খুলনাকে এগিয়ে রাখছেন।

পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই চট্টগ্রাম ছিল দুর্দান্ত। প্রাথমিক পর্বে তারা ৮ ম্যাচের ৭টিই জিতেছিল। যদিও কোয়ালিফাই রাউন্ডে হোঁচট খেয়েছিল তারা। তবে পরে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার জিতে ঠিকই ফাইনালে উঠে গেছে দলটি। এই দলেই রয়েছে টুর্নামেন্ট সেরা দুই পারফরমার।

সেরা ব্যাটসম্যান লিটন দাস আর টুর্নামেন্ট সেরা বোলার মোস্তাফিজুর রহমান দুজনেই চট্টগ্রামের। আজ ফাইনালেও এই দুই তারকা আগের ম্যাচগুলোর মত ধারাবাহিক থাকলে শিরোপা চট্টগ্রামের ঘরেই উঠবে বলে আশা করা যায়।

এদিকে প্রাথমিক পর্বে মুখোমুখি দেখায় খুলনাকে দুইবারই হারিয়েছে চট্টগ্রাম। এসব বিচারে শেষ হাসি মোহাম্মদ মিঠুনের তা চোখ বুজেই বলতে চান চট্টগ্রাম দলের সমর্থকরা।

যদিও কোয়ালিফায়ারে এসে সমীকরণটা পাল্টে দিয়েছে খুলনা। প্রাথমিক পর্বে চট্টগ্রামের কাছে হারলেও গত সোমবার প্রথম কোয়ালিফায়ারে সেই চট্টগ্রামকেই হারিয়ে ফাইনালে উঠে খুলনা। নানা চড়াই-উৎরাই শেষে ফাইনালে দলটির একগাদা অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা স্বরুপে ফিরে এসেছে বলে ধারণা বিশ্লেষকের।

যদিও দলের বিশ্বসেরা তারকা সাকিব আল হাসানকে ফাইনালে পাচ্ছে না খুলনা। শ্বশুরের মৃত্যুতে স্ত্রীর পাশে থাকতে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন তিনি। তবে এ নিয়ে মাথা ব্যথা নেই খুলনার। কারণ এক বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ২২ গজে ফিরে এই টুর্নামেন্টে ফর্মহীন সাকিব। উল্লেখ করার মতো পারফরমেন্স নেই তার।

তবে তিন ম্যাচ আগে অভিজ্ঞ মাশরাফি বিন মুর্তজার অন্তর্ভূক্তিতে দলে যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা। প্রথম কোয়ালিফায়ারে ৫ উইকেট নিয়ে খুলনাকে জিতিয়েছেন মাশরাফি।

দলে আরও রয়েছেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ, ইমরুল কায়েস, এনামুল হক, জহুরুল ইসলাম, আল আমিন হোসেন, শুভাগত হোমের মতো জাতীয় দলের অভিজ্ঞ সব খেলোয়াড়েরা।

আর এই একটি বিষয়ে ফাইনালে খুলনাকে এগিয়ে রাখছেন চট্টগ্রামের কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন।

বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সালাউদ্দিন বলেন, আমি মনে করি, টি-টোয়েন্টি হচ্ছে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের খেলা। মাঠের ভিতরে যাদের ভালো মাথা যত থাকবে, তারাই ম্যাচ জিতবে। সেদিক দিয়ে খুলনা অনেক এগিয়ে আছে। কারণ তাদের বড় বড় ক্রিকেটার অনেক আছে। আমাদের ছেলেদের হয়তো ওই অভিজ্ঞতা নাই, খুব বেশি ফাইনাল ম্যাচও ওরা খেলেনি।

তবে ভালো ক্রিকেট খেলেই চট্টগ্রামকে খুলনার অভিজ্ঞতাকে হারাতে হবে বলে জানানসালাউদ্দিন।

বললেন, পুরো টুর্নামেন্টে আমাদের একটা ধারাবাহিকতা ছিল, এ ম্যাচটাও সেভাবে খেলতে পারলে আমাদের একটা ভালো সম্ভাবনা থাকবে।

তিনি বলেন, দর্শক না থাকাটা বড় একটা সুবিধা বলে মনে করছি। দর্শক থাকলে হয়তো একটু চিন্তার বিষয় ছিল। কারণ ওই চাপ নেয়া আমাদের কম অভিজ্ঞ ছেলেদের জন্য অনেক কঠিন হয়ে যেত। দর্শক না থাকায় একটু শান্তিতে আছি। এমনিতেই ফাইনালে অনেক চাপের মুহূর্ত থাকে, অনেক গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতি থাকে। এই জিনিসগুলো যে দল ভালোভাবে সামলাতে পারবে, আমি মনে করি, তারাই সুবিধা পাবে। তারাই ম্যাচ বের করে আনতে পারবে।

-যুগান্তর

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।