Skip to content

প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা নেই: খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার

প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা নেই: খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার

বাংলাদেশের খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন যে দেশে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ রয়েছে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা না দিলে তিনি খাদ্য সংকটের কোনো আশঙ্কা দেখছেন না। অক্টোবরের শেষ নাগাদ বাংলাদেশে মোট ২০ লাখ টন চাল মজুদ থাকবে বলে জানান তিনি। ইউএনবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে, বাংলাদেশের খাদ্যমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের কোনো জমি যাতে অনাবাদি না থাকে, তা নিশ্চিত করতে তার মন্ত্রণালয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।

সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, “চলতি আমন মৌসুমের পরই আসছে বোরো মৌসুম। আমরা পদক্ষেপ নেব, যাতে সব চাষযোগ্য জমিতে বোরো চাষ হয়। আমরা ইতোমধ্যেই কৃষি মন্ত্রণালয়কে বলেছি আসন্ন বোরো মৌসুমে যথাযথ সেচের ব্যবস্থা করতে। যেকোনো সংকট এড়াতে সরকার কৃষকদের উৎপাদন বাড়াতে উৎসাহিত করছে।”

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার আরও বলেন, “আমাদের উর্বর জমিতে কয়েকবার ফসলের চাষ হয়। আমরা পাই আমন, আউশ ও বোরো ধান। এ বছর কম বৃষ্টিপাতের কারণে খরার মতো পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। পরে জুলাই-আগস্টের বৃষ্টিপাত আমাদের ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে সাহায্য করেছে। কিছু ফসল আছে, যেগুলো রোপণ করতে দেরি হয়েছে। তাই সেগুলোর ঘাটতি হতে পারে। সব মিলিয়ে যে কোনো ধরনের খাদ্য সংকট মোকাবেলায় আমরা অত্যন্ত সতর্ক রয়েছি।”

খাদ্য মজুদ সম্পর্কে সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন যে প্রত্যেক নাগরিককে খাওয়ানোর জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ রয়েছে। তিনি বলেন, “বর্তমানে আমাদের কাছে ১৭ লাখ টন চাল মজুদ রয়েছে। আরও পাঁচ লাখ ৩০ হাজার টন চাল পাইপলাইনে রয়েছে। এছাড়া শিগগির মিয়ানমার থেকে ৩০ হাজার টন চাল নিয়ে একটি জাহাজ বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। অক্টোবরের শেষ নাগাদ আমাদের কাছে মোট ২০ লাখ টন চাল মজুদ থাকবে। দেশের খাদ্য চাহিদা মেটানোর ক্ষমতা সরকারের রয়েছে।”

সাধারণত সব সময় ১০ থেকে ১২ লাখ টন চাল মজুদ থাকে বলে উল্লেখ করেন খাদ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “সরকারের কাছে যে খাদ্য মজুদ রয়েছে, তা খোলা বাজারে বিক্রি (ওএমএস), পরীক্ষামূলক ত্রাণ (টিআর) এবং কাজের বিনিময়ে খাদ্যসহ (কাবিখা) বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচিতে ব্যয় করা হয়। এই মজুদ ফুরিয়ে গেলে আমরা খাদ্য আমদানি করব। তবে, আমাদের এর থেকেও বেশি মজুদ আছে।”

সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, “বাংলাদেশ সাধারণত ভারত থেকে আমদানি করে। এখন মিয়ানমার, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ড থেকে আমদানির পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।” তিনি জানান, “আমরা থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও মিয়ানমার থেকে ছাড়পত্র পেয়েছি। আমাদের কাছে কম্বোডিয়া থেকে চাল আমদানির প্রস্তাব রয়েছে। চাল আমদানির জন্য আরও উৎস খুঁজছি। খাদ্য সংকট দেখা দিলে আমরা এই দেশগুলো থেকে খাদ্য আমদানি করে, যেকোনো সংকট মোকাবেলা করতে পারব।”

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, “আমদানিকারকদের সরকারি কোষাগারে মাত্র ৫ শতাংশ ট্যাক্স পরিশোধ করে বেসরকারিভাবে চাল আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই সুযোগ সংক্রান্ত সরকারি আদেশ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। আর, যদি দেখি যে কৃষকরা তাদের ফসলের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন, তাহলে আমরা এই এসআরও (সংবিধিবদ্ধ নিয়ন্ত্রক আদেশ) বাড়াব।”

বর্তমান বিদ্যুতের সংকট সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলাদেশের খাদ্যমন্ত্রী বলেন, “বিদ্যুৎ না থাকলে অবশ্যই কৃষি কাজ ব্যাহত হবে। বিশেষ করে সেচের সময় এটি বেশি প্রয়োজন। এতে ধান উৎপাদন কম হবে। তবে, বিষয়টি আমার মন্ত্রণালয়ের কাজ না। এটি কৃষি মন্ত্রণালয় দেখবে। আশা করি এ বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয় সেচ মৌসমে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে।”

সূত্র: ভয়েজ অব আমেরিকা