Skip to content

প্রবল চাপেও আত্মবিশ্বাসী প্রধানমন্ত্রী

প্রবল চাপেও আত্মবিশ্বাসী প্রধানমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চয় অসাংবিধানিক কিছুর জন্য সরকারের ওপর চাপ তৈরি করবে না। সংবিধানের মধ্যে থেকে কিভাবে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করা যায় সেই পথ খোঁজার চেষ্টা করবে সবাই। সরকার ও বিরোধী দলের নেতাদের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠকগুলোতে হয়তো দুই পক্ষের দূরত্ব কমিয়ে এনে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা হচ্ছে। দেশের একজন নাগরিক হিসেবে আমরাও এই দেশে আর কোনো হানাহানি চাই না

মার্কিন ভিসানীতি নিয়ে বিস্তর আলোচনা হচ্ছে। ছড়াচ্ছে গুজবের ডালপালা। অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয়ে আওয়ামী লীগ নেতারাও। অথচ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মধ্যে হতাশা, সংশয় কিংবা উদ্বেগ কোনোটিই পরিলক্ষিত হচ্ছে না। তিনি খুবই প্রত্যয়ী। স্পষ্ট করে কথা বলছেন। সম্ভাব্য মার্কিন বিধিনিষেধে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও বলছেন। এখন প্রশ্ন উঠছে, এত আত্মবিশ্বাসী তিনি কিভাবে? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের নীতিতে বিশে^র কোনো রাষ্ট্রের সরকারপ্রধানের এতটা আত্মবিশ্বাসী থাকার কথা নয়। বিশ্ব রাজনীতি নিয়ে যারা খোঁজখবর রাখেন, তারা রীতিমতো বিস্মিত। কোথা থেকে আসে তার মনে এত জোর। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথপরিক্রমায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন খুবই পরিণত। শুধু রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, বিশ্ব রাজনীতিতেও নানা ক্ষেত্রে রয়েছে তাঁর পদচারণা। তার মতো একজন বিচক্ষণ, অভিজ্ঞ ও পরিণত রাজনীতিক নিশ্চয়ই ভেবেচিন্তেই কথাগুলো বলছেন।

গত ৩ মে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে তাদের ভিসানীতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবহিত করা হয়েছে। পরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে এটি ঘোষণা করেছেন এবং পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে এর ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছে। সাধারণত এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রতিক্রিয়ার ক্ষেত্রে কূটনৈতিক কলাকৌশল অনুসরণ করা হয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এমন প্রতিক্রিয়াই দেওয়া হয়েছে। শুরু থেকেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সম্পর্কে সোচ্চার। তিনি একের পর এক পাল্টা জবাব দিয়ে যাচ্ছেন। প্রথম তিনি বলেছেন, ‘কেউ নিষেধাজ্ঞা জারি করলে আমরা ঐসব দেশ থেকে কিছু কিনব না।’ পরে বিবিসির সঙ্গে সাক্ষাৎকার এবং জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে আরও স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র হয়তো চায় না আমরা ক্ষমতায় থাকি।’ পরে তিনি বলেন, ‘একটি মহাদেশ ছাড়াও আরও মহাদেশ রয়েছে যেখানে আমরা যাওয়া-আসা করতে পারি।’

সর্বশেষ তিনি দলীয় এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘আগামী নির্বাচন আমাদের জন্য হবে নতুন চ্যালেঞ্জ।’ প্রধানমন্ত্রীর সর্বশেষ বক্তব্য বিশ্লেষণ করে আমরা বলতে পারি, মূলত এটিই তার অবস্থান। অর্থাৎ তিনি একটি নির্বাচনী চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছেন। একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে প্রমাণ করতে চান, বাংলাদেশের গণতন্ত্র কতটা সংহত। গাজীপুর নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি এই বার্তাই দিয়েছেন। 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই অবস্থান অবশ্য নতুন নয়। মার্কিন ভিসানীতি ঘোষণার পর বিষয়টি আলোচনায় এসেছে মাত্র। ২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়ে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নানা বিতর্ক হয়েছে। কিছু অতি উৎসাহী ব্যক্তির কারণে সৃষ্ট ঘটনা নির্বাচনের ভাবমূর্তি ম্লান করেছে। সরকারকে ঠেলে দিয়েছে একটি অস্বস্তিকর পরিস্থিতির দিকে। এর পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বলেছেন, তিনি দেশের গণতন্ত্রকে অর্থবহ দেখতে চান। এজন্য দেশে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের বিকল্প নেই। তিনি একাধিক দলীয় অনুষ্ঠানে এই বার্তা দিয়েছেন। মানুষের পাশে থেকে তাদের মন জয় করার জন্য নেতা-কর্মীদের প্রতি নির্দেশ জারি করেছেন। তার এসব উদ্যোগের মূলে ছিল একটি সুন্দর নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ভবিষ্যতে ক্ষমতায় আসা।

দলের প্রতি নির্র্দেশ দিয়েই তিনি ক্ষান্ত হননি। তিনি এমন একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন, যা সকল মহলের বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখা যায়। জেনে বুঝে তিনি কাজী হাবিবুল আউয়ালকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিযুক্ত করেছেন। কাজী হাবিবুল আউয়াল সৎ এবং পেশাদার একজন ব্যক্তি। সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োজিত থাকার সময় তাকে নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারেননি। চাকরি জীবন শেষ করে তিনি একটি বিশ^বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন। এমন পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির একজন ব্যক্তিকে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার অর্থই হচ্ছে, সরকার ভবিষ্যতে একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেখতে চায়। ধারণা করা হয়েছিল, বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকেও এই কমিশনকে স্বাগত জানানো হবে। দেশের অন্যতম প্রধান বিরোধী দল বিএনপি সেই পথে হাঁটেনি।

দলের বেশ কিছু নেতা অনানুষ্ঠানিকভাবে এই কমিশনের প্রতি আস্থা জ্ঞাপন করলেও দলীয় কৌশল অনুযায়ী তারা এ নিয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি। নির্বাচন কমিশন নিয়োগের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘কাকে দিয়ে কমিশন করা হয়েছে এটি নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা নেই। তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।’ পরে কমিশন সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে মতবিনিময় করলেও বিএনপি তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
শুরু থেকেই সংবিধানের মধ্যে থেকে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের কথা বলছে ক্ষমতাসীন দল। সংবিধানের বাইরে গিয়ে কি কারণে তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ধারণায় ফিরতে চায় না, এই ব্যাখ্যাও দিয়েছে।

২০০৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে বিতর্কিত করতে তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের নানা তৎপরতা এবং পরে ফখরুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অসাংবিধানিক কর্মকা-ের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথাই তারা বলেছেন বারবার। এমন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কারণে বিএনপিও কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। আজকে তাদের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে যেসব মামলা পরিচালিত হচ্ছে, তার অধিকাংশই দেওয়া হয়েছে সেই সময়। এতকিছুর পরও তারা এই দাবিতে ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করে দেশে সহিংসতার রাজত্ব কায়েম করেছিল। ২০১৮ সালে অংশগ্রহণ করেও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় না গিয়ে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার কাজেই ব্যস্ত ছিল বেশি। তারা অনেকটা সফলও হয়েছে। এখন দেশ-বিদেশে ২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়ে আলোচনার সুযোগ তারাই তৈরি করেছে। এই বিতর্ক থেকে দেশকে উদ্ধারের লক্ষ্যেই আওয়ামী লীগ একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথে হাঁটতে শুরু করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমন স্পষ্ট ও সাহসী বক্তব্য দিতে পারছেন সম্ভবত এ কারণেই।
আগামী নির্বাচন নিয়ে মার্কিন ভিসানীতি খুবই স্পষ্ট। যারা নির্বাচনে কারচুপি করবে, কারচুপিতে সহায়তা দেবে এবং সহিংসতার মাধ্যমে নির্বাচন প্রতিহত করার চেষ্টা করবে, তারা সবাই থাকবেন এই নীতির আওতায়। অর্থাৎ তাদেরকে ভবিষ্যতে আর মার্কিন ভিসা দেওয়া হবে না। আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, মার্কিন ঘোষণায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচলিত হওয়ার কারণ নেই। তিনি তো আগেই ঘোষণা করেছেন দেশে একটি অবাধ-নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করবেন। প্রশাসন ও দলকে তিনি সেভাবেই প্রস্তুত করেছেন। অপরাধ যদি না করেন, তবে শাস্তির ভয় কোথায়? মার্কিন ঘোষণায় বরং বিএনপির ভীত হওয়ার কথা। তারা ঘোষণা দিয়েছে, তত্ত্বাবধায়ক ছাড়া বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন হতে দেবে না। নির্বাচন প্রতিহত করতে গিয়ে সহিংসতা সৃষ্টি করলে তারাই পড়ে যাবে ভিসানীতির নিষেধাজ্ঞায়।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতি নিয়ে যার যার সুবিধামতো ব্যাখ্যা  তৈরি করছে। বিএনপি সমর্থকরা মনে করছে, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের জন্যই বাইডেন সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আনন্দ উল্লাসও চলছে। যদি ধরে নেওয়া যায় যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য তাই, তবে এর কারণ কি হতে পারে? কি কারণে যুক্তরাষ্ট্র চাইছে হাসিনা সরকারের পতন। এর তেমন জোড়ালো কোনো জবাব খুঁজে পাওয়া যায় না। যেসব যুক্তি দেখানো হয় তার মধ্যে রয়েছেÑ ২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক, কিছু অপপ্রচার, ড. ইউনূসের নানা উদ্যোগ এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুসংহত করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশা।

এসব কারণ বিশ্লেষণ করলে ২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট বিতর্ক আমলে নেওয়া যায়। এর বাইরে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুসংহত করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশাও গ্রহণযোগ্য। অপপ্রচার শুনে এবং একজন ব্যক্তির উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের মতো রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি পরিবর্তন কোনোভাবেই বিশ্বাসযোগ্য নয়। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র সরকার পরিচালিত হয় একটি শক্তিশালী সংবিধানের মাধ্যমে। সরকার বারবার বলছে, তারা একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে বদ্ধপরিকর। দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সুসংহত করতেও আওয়ামী লীগের মতো রাজনৈতিক দলের অনীহা থাকার কথা নয়। সুতরাং যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশার সঙ্গে বর্তমান সরকারের কোনো বিরোধ পরিলক্ষিত হয় না।
অন্যদিকে ধরে নেওয়া যাক, যুক্তরাষ্ট্র সরকার আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চায়। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, এতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ কি? আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হলে দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ক্ষমতায় যেতে পারে।

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এটিই স্বাভাবিক ঘটনা। তাহলে কি যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবে লাভবান হবে? ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছায় বিএনপি ক্ষমতা গ্রহণ করেছিল। ফল কি হয়েছিল তা সবার জানা। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্যে লালিত বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়িয়েছিল। উত্থান ঘটেছিল জঙ্গিবাদের। উগ্র মৌলবাদীদের দাপটে কোণঠাসা হয়ে পড়ে অসাম্প্রদায়িক চেতনা। পাঁচ বছরে মৌলবাদের উত্থানের ধারা গত পনেরো বছরেও স্তিমিত করা যায়নি। দুর্নীতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, মার্কিন দূতাবাস থেকেই বার্তা পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে তা অবহিত করা হয়েছিল।

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। পছন্দমতো তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনে ২০০৬ সালে বিএনপি সরকারের চেষ্টা প্রতিহত হয় গণআন্দোলনের মাধ্যমে। সেই সরকারের আমলেই আটক হয়েছিল দশ ট্রাক অস্ত্র, যা পাচার হচ্ছিল ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের উদ্দেশ্যে। গণতান্ত্রিক যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চয়ই চাইবে না এমন একটি বাংলাদেশের চিত্র আবার ফিরে আসুক।
ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত গত কয়েকদিন ধরে বেশ সক্রিয়। তিনি সরকার ও বিরোধী দলের নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন। বৈঠকগুলোতে আলোচনার বিষয়বস্তু খুব একটা স্পষ্ট নয়। বৈঠকের পর দুই পক্ষই আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিচ্ছে। ভেতরের আলোচনা প্রকাশ হচ্ছে গুজব আকারে। পরিস্থিতি স্বপক্ষে নেওয়ার জন্য যে যার মতো করে গুজব ছড়াচ্ছে। তবে এটি বেশ স্পষ্ট, আওয়ামী লীগ সরকার কোনো অসাংবিধানিক পথে যাবে না। সরকারপ্রধান বারবার বলছেন, তারা একটি অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচনের আয়োজন করতে চায়।

গাজীপুর সিটি নির্বাচনের মাধ্যমে সেই বার্তাই দেওয়া হয়েছে। সামনে আরও চারটি সিটি নির্বাচন রয়েছে। বিএনপি বর্জন করলেও সিটিগুলোতে ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে শক্ত প্রার্থী রয়েছে। পরিস্থিতি থেকে আঁচ করা যায়, আগামী চারটি নির্বাচনও হবে গাজীপুর মডেলে। নির্বাচন নিয়ে সরকার কোনো বিতর্কের পথে হাঁটতে চায় না। নির্বাচনগুলোতে ক্ষমতাসীন দলের প্রাণান্ত পরিশ্রম তাই প্রমাণ করে। 
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চয় অসাংবিধানিক কিছুর জন্য সরকারের ওপর চাপ তৈরি করবে না। সংবিধানের মধ্যে থেকে কিভাবে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করা যায় সেই পথ খোঁজার চেষ্টা করবে সবাই। সরকার ও বিরোধী দলের নেতাদের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠকগুলোতে হয়তো দুই পক্ষের দূরত্ব কমিয়ে এনে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা হচ্ছে। দেশের একজন নাগরিক হিসেবে আমরাও এই দেশে আর কোনো হানাহানি চাই না। আমরা চাই সংবিধানসম্মত একটি অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন। যার মাধ্যমে দেশের মানুষ তাদের মতামতের প্রতিফলন ঘটাতে পারবেন। গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রেখে এগিয়ে যেতে পারবে বাংলাদেশ।
 লেখক : নির্বাহী সম্পাদক, জনকণ্ঠ



বার্তা সূত্র