Skip to content

প্রকল্পের নামে পাহাড়ে-সমতলে চলছে জমি দখল: আদিবাসী ফোরাম

প্রকল্পের নামে পাহাড়ে-সমতলে চলছে জমি দখল: আদিবাসী ফোরাম

উন্নয়ন প্রকল্পের নামে পাহাড় ও সমতলে বসবাসকারী বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জমি দখল চলছে অভিযোগ করে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বসবাসকারী নৃ গোষ্ঠীগুলোর মোর্চা ‘বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম’। 

একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার অনুরোধ ছাড়াও বাঙালিদের সঙ্গে ‘সেতুবন্ধন রচনার’ প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেছে সংগঠনটি। 

শুক্রবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে ফোরামের পঞ্চম জাতীয় সম্মেলন শুরু হয়। গণসংগীত ও জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে সম্মেলন শুরুর পর মাদলের ধ্বনীতে হয় আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন। 

দুই দিনের এই সম্মেলনে মোট ১২ দফা দাবি তুলে ধরেছে আদিবাসী ফোরাম। আদিবাসী অধিকার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই-সংগ্রামকে নবউদ্যমে উজ্জীবিত করার প্রত্যয়ের কথাও বলা হয়। 

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বান্দরবানের লামা উপেজলায় ম্রো এবং ত্রিপুরাদের ভূমি দখল, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালদের আক্রমণ, মধুপুরে বনায়ন ও কৃত্রিম লেক খনন প্রকল্পের নামে আদিবাসীদের ভূমি থেকে উচ্ছেদের অপচেষ্টা চলছে। 

বরগুনা ও পটুয়াখালী অঞ্চলের রাখাইনদের মন্দিরসহ শ্মশানভূমি দখল, সিলেটে ভূমি থেকে খাসিয়াদের উচ্ছেদ ষড়যন্ত্র চলছে বলেও অভিযোগ করা হয়। 

‘আগ্রাসনে আদিবাসী জীবন এখন প্রান্তিকতায়’ 

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসরত ৪০ লাখের বেশি আদিবাসী জনগণ নানা শোষণ ও বৈষম্যের শিকার অভিযোগ করে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, “এই দীর্ঘ সময়ে আদিবাসী জনগণ তাদের ভূমির অধিকার হারিয়েছে। 

“বনায়ন, পর্যটন, রাবার বাগান ও উন্নয়নের নামে অব্যাহতভাবে আদিবাসীদের ভূমি দখল চলছে। সব মিলিয়ে নানামুখী আগ্রাসনে আদিবাসী জীবন আজ প্রান্তিকতার শেষ কিনারায় উপনীত হয়েছে।” 

পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি, সে কথা তুলে ধরে বলা হয়, “পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি কমিশন এখনও অকার্যকর। অন্যদিকে দেশের সমতল অঞ্চলে বসবাসরত আদিবাসী জনগণের জন্য একটি পৃথক ভূমি কমিশন গঠনে প্রতিশ্রুতি দিয়েও সরকার বাস্তবায়ন করেনি।” 

সংবিধানে ‘আদিবাসী’র স্বীকৃতির দাবিও উঠে আসে লিখিত বক্তব্যে। বলা হয়, বাঙালি জাতি ছাড়াও স্মরণাতীত কাল থেকে এদেশে আদিবাসী জাতিগুলো তাদের ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, প্রথা ও রীতি-নীতি, স্বতন্ত্র মূল্যবোধ নিয়ে বসবাস করে আসছে। মুক্তিযুদ্ধেও তাদের ছিল গৌরবোজ্জ্বল অবদান। 

স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ণের সময় তৎকালীন গণপরিষদ সদস্য মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছিলেন। স্বাধীনতার ৫২ বছর পরও সেই সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। 

বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ছাড়াও গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উদ্বুদ্ধ রাজনীতিবিদ, মানবাধিকার কর্মী, প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজকে এই ‘ন্যায়ভিত্তিক সংগ্রামে’ একাত্ম হওয়ার আহ্বানও জানানো হয় সম্মেলনে। 

‘আমরা চাই সেতুবন্ধন’ 

শুভেচ্ছা বক্তব্যে ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং বলেন, “আদিবাসীদের সঙ্গে বাঙালির সেতুবন্ধন রচিত হোক। আমরা একসঙ্গে পথ চলতে চাই। বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় আমরাও একসঙ্গে পথ হাঁটতে চাই। 

“বাঙালিদের সঙ্গে হাত ধরে একসঙ্গে পথ চলার অঙ্গীকার। থাকবে পরস্পরকে শ্রদ্ধা।” 

‘মানবিকতা, ভালোবাসা’ দিয়ে নৃ গোষ্ঠীগুলোর জন্য একটি নীতিমালা করারও দাবি জানান তিনি। 

সভাপতির বক্তব্যে ফোরামের সভাপতি জ্যেতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা) বলেন, “বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইকে এগিয়ে নিতে হবে। পাহাড়ে কিংবা সমতলে বসবাসরত আদিবাসীদের নানা রকম সংকট উঠে এসেছে সবার আলোচনায়। সেই সংকট থেকে বেরিয়ে আসার জন্য সবাইকেই ভূমিকা রাখতে হবে।” 

প্রয়াত রাজনীতিক পঙ্গজ ভট্টাচার্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানান সন্তু লারমা। তিনি বলেন, “আরও কিছুদিন তার বেঁচে থাকাটা খুব দরকার ছিল আমাদের জন্য। জন্ম হলে মরতে হবে এটাই প্রকৃতির নিয়ম। তবুও তাকে আজ ভীষণ মনে পড়ছে।”

বার্তা সূত্র