Skip to content

পোষ্য ছানার মায়েরা

পোষ্য ছানার মায়েরা

‘মা’ শব্দটার মধ্যে আসলে লুকিয়ে থাকে অনেকগুলো আবেগ আর অনুভূতি। যে শব্দটি উচ্চারণ করে আর যার জন্য করে – উভয়ের ক্ষেত্রেই এর এক আশ্চর্য অভিঘাত থাকে। যদি ভাবা যায়, তাহলে হয়তো বুঝতেও পারা যাবে যে, ‘মা’ শুধুই কোনও শারীরবৃত্তীয়, জৈবিক প্রক্রিয়া নয়। ‘মা’ অনেক সময়ে হয়েও ওঠা যায় এবং সেই ‘মা’ হয়ে ওঠার পথ চলাটা একজন নারীর কাছে যেন নিজের সত্তারই এক নতুন অধ্যায় খুঁজে নেওয়া, চিনে নেওয়া।

‘মা’ হয়ে ওঠার মধ্যে দিয়ে সম্পর্কের যে বিবিধ ধাপ ধাপ পেরোতে হয়, তা একজন নারীকে অনেক সময় স্বাবলম্বী করে তোলে। তারজন্য সন্তান গর্ভে ধারণ করার প্রয়োজন হয় না, এবং সেই সন্তান সব সময়ে মনুষ্যসন্তান হওয়ারও প্রয়োজন হয় না। এমন বহু নারী রয়েছেন যাঁরা নিজেদের পোষ্যর মধ্যে খুঁজে পেয়েছেন সন্তানকে, তাঁদের ‘মা’ হয়ে ওঠা আক্ষরিক অর্থেই থেমে থাকেনি সন্তান গর্ভে ধারণ করার উপরে। কখনও কুকুর, কখনও বেড়াল, কখনও খরগোশ তো কখনও পাখি – সন্তান হিসাবে এদের মধ্যেই বয়স নির্বিশেষে অনেকেই খুঁজে পেয়েছেন অপত্যকে। মা আর ছা-এর যে চিরকালীন সম্পর্ক তা মানুষের চেহারা বা মানুষের চেহারার উপরে নির্ভর করে থাকেনি। পোষ্যদের মধ্যেই সন্তান আর নিজেদের তাদের প্রতি অপত্যস্নেহেই অনেক নারী খুঁজে নিচ্ছেন মা হয়ে ওঠাকে। এক্ষেত্রে বয়স নয় তাদের সঙ্গে পোষ্যর সম্পর্কে যে পারস্পরিক নির্ভরশীলতা, ভালবাসা আর আস্থার সমীকরণ তাই মা-সন্তান করে তুলেছে।

ভয়েস অফ আমেরিকা কথা বলেছে এমন কয়েক জন নারীর সঙ্গে যাঁরা তাঁদের পোষ্যদের ‘মা’।

সোহিনী

মা – সোহিনী দাশগুপ্ত, চলচ্চিত্র পরিচালক

ছা – লুডো দাশগুপ্ত

লুডো যথার্থই আমার ছানা। আমি তো নিজেকে ‘ডগ মম’ বলি। আর আমি খুব খুশি যে লুডো আমার বাচ্চা। কারণ লুডো আমার মনে হয় বেশ ইন্ডিপেন্ডেন্ট। ওকে পড়াতে বসাতে হয় না, স্কুলে পাঠাতে হয় না, হোমওয়ার্ক-পরীক্ষা নিয়ে বকা দিতে হয় না। তার বদলে যেটা করতে হয়, সারাক্ষণ তার সঙ্গে খেলা, যাতে লুডো আর আমার দু’জনেরই মন ভালো থাকে। আমার নিজেকে বাচ্চা মনে হয়, স্ট্রেস-এর বদলে ডিস্ট্রেস হয়। লুডো এমন একটি বাচ্চা, যে ঘুমে ঢলে পড়ার আগে অবধি খেলে, আবার ঘুম থেকে উঠে খেলতে শুরু করে। সারাক্ষণ তারজন্য বাড়িতে খেলনার সাপ্লাই আসতে থাকে। লোকের বাড়িতে তো মানুষ মিষ্টি নিয়ে আসেন তো? যারা লুডোকে চেনেন, আমার বাড়িতে তারা সব্বাই লুডোর খেলনা নিয়ে আসেন। লুডোর একটা মেইন কাজ খেলা।

আচ্ছা, লুডো ভীষণ কাজ করে। আমি সকালে উঠে বিছানা গুছিয়ে কুশন সাজাই, বসার ঘরের, স্টাডির কাউচ, চেয়ার-টেবিল পরিষ্কার করে কুশন গুছিয়ে রাখি। লুডোর সারাদিনের কাজ হচ্ছে এই কুশন ওখানে নিয়ে যাওয়া, কুশনের ওয়াড় খুলে নিয়ে ঘরের মাঝখানে রাখা, একটা কুশন বাথরুমে রেখে আসা। আপনি যদি আমার বাড়িতে সন্ধ্যায় আসলে, দেখবেন, আমার সারা বাড়িতে নানারকম কুশন ছড়ানো। এটা লুডোর একটা ইম্পর্ট্যান্ট কাজ।

খাওয়ার ক্ষেত্রে লুডোর ঝামেলা করার স্বভাবটা অনেকটাই আমার চারপাশে দেখা মানুষের বাচ্চাদের মতো। ওর নিজের খাবার খাওয়াতে – বিশেষত যেখানে নুন ও চিনি খাওয়া বারণ – তাই ওর জন্য আলাদা খাবার তৈরি করতে হয় – সেটা খাওয়াতে যে কতরকম সাধ্যসাধনা করতে হয়, গায়ে-মাথায় হাত বোলাতে হয় আর একশ বার গুড গার্ল বলতে হয়, সারা বাড়ি নিয়ে ঘুরতে হয় আর তারপর এক সময়ে সে ‘আচ্ছা তোমাদের ধন্য করছি’ অ্যাটিটিউডে খায়, তা না দেখলে বিশ্বাস হবে না। আবার আজকালকার বাচ্চাদের মতো লুডো ভীষণ ফাস্ট ফুড ভালবাসে। সেটা হচ্ছে ট্রিটস। তাছাড়া মনে করুন আপনি স্যান্ডুইচ খাচ্ছেন, লুডো গিয়ে আপনার সামনে এমনভাবে বসবে বা তাকাবে আপনি বাধ্য হবেন চিকেনটা বের করে দিতে।

এই হচ্ছে লুডোর কীর্তিকলাপ। আমার আর লুডোর সংসার বেশ ভালোই চলছে। আমি আর লুডো মাঝেমধ্যে একসঙ্গে খাটে পাশাপাশি শুয়ে নানা কিছু ভাবি, উঠে গাছে জল দিই, একসঙ্গে একটা বাটিতে দই-কর্ণফ্লেক্স নিয়ে খাই, সিনেমা দেখি। এই-ই আমাদের মা-মেয়ের কিস্যা।

লাবিবা

লাবিবা

মা – লাবিবা তাবাচ্ছুম সাজিন, উচ্চ মাধ্যমিক ছাত্রী

ছা – টিন্টু

আমার পোষ্য টিন্টু। ও মেয়ে খরগোশ। যখন ওর প্রায় এক মাসের মতো বয়স তখন ওকে আমার ভাইয়া নিয়ে আসে। এটা গত বছরের ঘটনা। তখন থেকে ও আমাদের বাসায় আছে। এখন টিন্টুর বয়স আট মাস। ওর সঙ্গে আরেকটা ছেলে খরগোশ ছিলো, ওর সঙ্গী। কিন্তু ছেলে খরগোশটা একদিন আমাদের ছ’তলা বাসার বারান্দার কার্নিশ থেকে কীভাবে যেনো পড়ে মারা যায়। এরপর থেকে টিন্টু কিছুটা মনমরা হয়ে থাকে। আগের মতো ছোটাছুটি করে না। ওই ঘটনার পর টিন্টু কিছুদিন খাওয়া-দাওয়া করেনি। চুপচাপ বসে থাকতো। আমরা আবার ওর জন্য একজন সঙ্গী আনবার কথা ভাবছি।

আমাকে আর আম্মুকে ও ভীষণ ভালোভাবে চেনে। আমি কলেজ থেকে এলে দৌড়ে দরজার কাছে চলে আসে। যতক্ষণ কোলে না নিই চারপাশে ঘুরতে থাকে। আমি বাসায় না থাকলে আম্মু ওকে খাবার দেয়। আমি যতক্ষণ বাসায় থাকি আমিই খাবারটা দিই। ফ্রিজটা খুলতে দেখলেই দৌড়ে ফ্রিজের কাছে চলে যায়। ও জানে, ফ্রিজ থেকে কলমি শাক অথবা গাজর বের হবে। টিন্টুর খুব পছন্দের খাবার কলমি শাক। এটা ওর প্রধান খাবারও বলা যায়। অন্য কোনো শাক খাবে না কিন্তু! শুধুই কলমি শাক। এছাড়া ও ভাত খায়। পেয়ারার খোসা, গাজর, লেটুস এগুলোও খায়। ঢাকার বাইরে কোথাও বেড়াতে গেলে টিন্টুকে সাথে করে নিয়ে যাই। কারণ বাসায় ও তো আমাকে ছাড়া থাকতে পারবে না।

নুসরাত

নুসরাত

মা – নুসরত জাহান, স্নাতক স্তরে তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী

ছা – কিটি

সবাই আমাকে কিটি-র মা বলে ডাকে আর আমার নিজেরও ডাকটা ভালোই লাগে। আমার দু’বছর হল বিয়ে হয়েছে। বিয়ের এক বছরের মাথায় কিটি আর মুয়া নামের দু’টি বিড়াল ছানা দত্তক নিই। শুরুতে দুই ছানাকে সামলাতে পারিনি বলে মুয়াকে অন্য আরেক জনকে দত্তক দিয়ে দিই। তাই নিয়ে আমার এখনও আক্ষেপ আছে। প্রথমদিকে আমার মেয়েকে বুঝতে আর বোঝাতে অনেক বেগ পেতে হয়েছে। ইন্টারনেটে রিসার্চ, ভেটে-র সঙ্গে কথা বলা, একসঙ্গে প্রচুর সময় কাটানো সে দূরত্ব ঘুচেছে। এখন তো আমি ওর অঙ্গভঙ্গি দেখেই টের পাই কখন কী দরকার, কিটির ‘কথা’ আমি অনায়াসে বুঝতে পারি। ক্ষুধা লাগলে, অস্বস্তি হলে বা তীব্র গরমে হাঁসফাঁস করলে – কিটি সব ক’টির জন্য আলাদাভাবে কমিউনিকেট করে।

আমার কোলে ওঠা, মুখ চেটে দেওয়া, কোলে শুয়ে গরগর করা, আমার পায়ে পায়ে হাঁটা, আহ্লাদ দিলেই গা ঘষাঘষি আমার দেড় বছরের কিটির রোজকার রুটিন। মা হওয়া মানে শুধু আদর করা নয়, অনেক দায়িত্বও থাকে। বাচ্চাকে ডিসিপ্লিন শেখানো অনেক গুরুত্বপূর্ণ। পরিপাটি করে খাওয়া, নির্দিষ্ট জায়গায় পটি করা, টেবিলে না ওঠা, বড়রা খেতে বসলে পায়ের কাছে ম্যাও ম্যাও না করা, রান্নাঘরে নোংরা না ঘাঁটা – এইসব কিছু শিখিয়েছি কিটিকে।

এবারে আসল কথা বলি? আমি কিন্তু নানিও হয়ে গেছি। আমার নিজের হাতেই আমার মেয়ের প্রথম ডেলিভারি করাই। ডেলিভারির কিছুদিন আগে থেকে খাওয়াদাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল মেয়ে। প্রথমে বুঝিনি। তারপর ইউটিউব ঘেঁটে, অভিজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে বুঝলাম সে সন্তানসম্ভবা। ডেলিভারির সেই দিনটায় কী যে খুশি হয়েছিলাম বলে বোঝাতে পারব না। সেদিন সকাল থেকে কিটি খুব ডাকছিল আর অস্থির হয়ে ছিল। দুপুরের পর থেকে আমার গা ঘেঁষতে থাকে, আবার চলে যায়। কোলে শুইয়ে যখন একটু আরাম দেওয়ার চেষ্টা করছি, দেখি পেট নড়ছে। তারপরেই কোল ভিজে গেল আর দেখলাম আমার কিটির ভেতর থেকে ঘর আলো করে তার ছানারা বেরিয়ে এলো। আমার তিন নাতি-নাতনী – প্যাঁদা, টিনটিন আর তাধিন। এখন মেয়ে আর নাতিনাতনিদের ভালোভাবেই পালতে পারছি। বাইরে থেকে এসে দরজা খোলামাত্রই দেখি সবগুলা আমার জন্য অপেক্ষা করছে। বাচ্চাগুলোকে কোলে নিলে সব ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। কিটির ছানাদের ছুটোছুটি, খেলতে গিয়ে জিনিসপত্র ভাঙায় আমরা অভ্যস্ত। কিটি আবার ওদের নিয়ে গিয়ে দুধ খাওয়ায়, জোর করে ঘুম পাড়ায়।

এ কথা ঠিক, এখন যে হারে জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে বিড়ালের খরচ বহন করা কষ্টসাধ্য। মাসে দু’তিনবার লিটার কেনা, ড্রাই ফুড, ক্যান ফুড, একটু খেলনা – মাসিক ব্যয় অনেকটাই। কিটি আর তার ছানাদের রেগুলার ফ্রেশ ফিশ বা পোলট্রি খাওয়ানোর কথা ভাবাও যায় না এ বাজারে।

হিয়া

হিয়া

মা – হিয়া মুখার্জি, লেখক ও প্রোডাকশন ডিজাইনার (মিডিয়া)

ছা – উধোলাল মুখার্জি, বুধোলাল মুখার্জি

পোষ্যসন্তান যদি থাকে, বিশেষত পোষ্য যদি বেড়াল হয়, তাহলে ব্যাপারটা হয়ে দাঁড়ায় যে আমরা ওদের পোষ্য। কারণ কখনওই ওরা কোনও কথা শুনবে না। একদিন হঠাৎ করেই দুটো ছোটো বেড়াল এল আমাদের বাড়িতে। এবং পরদিন সকাল থেকে যেটা হল – ওরা যা বলবে, ওদের যখন যেটা চাই, তখন সেটা আমাদের দিয়ে যেতে হবে বিনা বাক্যব্যয়ে এবং ওদের পার্সোনাল স্পেস সম্পর্কে কোনও মাথাব্যথাই নেই। যখন আমার কোনও ইচ্ছে নেই ওদের সঙ্গে খেলাধূলো করার তখনই আমাকে ওদের সঙ্গে খেলতে হবে, যদি আমার কখনও ইচ্ছে করে যে আয় একটু আদর করি, সেটা ওদের মুড না হলে হবে না! ওরাই চালাই আমরা সেই মতো চলি। কেন চলি – সেটা ঠিক জানি না।

ওদের খাওয়া-দাওয়া নিয়ে কোনও ঝামেলা নেই। এরকম নয় যে এখন খিদে পেয়েছে এক্ষুনি দিতে হবে। বেড়ালের খাবার দেওয়া থাকে, ওরা ওদের সময় মতো খায়, খাবার জায়গা ফাঁকা হয়ে গেলে এসে ঠিক জানিয়ে দেয়। বেড়ালের সম্পর্কে একটা ভুল ধারণা আছে যে ওরা ইমোশনালি অ্যাটাচড হয় না, সেরকম মোটেই নয়। আমি যখন কোনও কারণে ডাউন, কান্নাকাটি করেছি, আমি বা আমার পার্টনারের শরীর খারাপ ওরা খুব ভালো সেন্স করতে পারে। আমি একবার খাট থেকে উল্টে পড়ে গেছিলাম, তারপর এক মাস বুধোলাল আমার পিঠে পিঠ দিয়ে শুতো।

অনেক দিন আমাকে না দেখলে প্রচন্ড বকে। টানা কাঁদতে থাকে, কেঁদে গলা ভেঙে ফেলে। সারা রাত টানা কাঁদতে থাকে। আমার কোলের মধ্যে বসে দু’জনে কাঁদে। ওদের যখন শরীর খারাপ হয় অদ্ভূত অনুভূতি হয়। ওদের যখন নিউটর করানোর জন্য অপারেশন হয়, আমি টেনশনে শুধু বড় রাস্তা জুড়ে পায়চারি করে গেছিলাম। কিছু একটু হলেই ভয়ঙ্কর রকম টেনশন হয়।

এই সন্তানেরা তো এক সময়ে হাতের তালুতে ছিল। যখন প্রথম এনেছিলাম তখন আমার আর আমার পার্টনারের মাঝের জায়গাটায় গুটলি পাকিয়ে শুতো। এখন ওরা গায়ে শোয়, এখন আমরা আর নড়াচড়া করতে পারি না। ওদের এখন তিন বছর বয়স।

চৈতি

চৈতি

মা – চৈতী ভক্ত গাঙ্গুলি, স্বাধীন ব্যবসায়ী

ছা – সিয়া গাঙ্গুলি

শুরুতে একটা বোঝাপড়া হওয়ার ব্যাপার তো ছিলই। কিন্তু আমি বুঝতে পারছিলাম, শি ইজ অ্যাকচুয়ালি মাই ডটার। আই রিয়্যালি ফেল্ট শি ইজ মাই সোল কিড। আজকে যদি আমায় বলতে হয়, একজন মায়ের তার সন্তানের প্রতি যে ফিলিংস আমার একেবারেই সিয়ার প্রতি সেই ফিলিংস। ওর বিষয়ে এক্সট্রিমলি ওভার প্রোটেক্টিভ, আমি ওর জন্য অফিস যাই না। আমি বাড়ি থেকে সবটা চালাই। কারণ ওর অ্যাংজাইটি প্রব্লেম আছে, ও বাড়িতে একা থাকতে পারবে না। আমার কাছে ওর খুশি অনেক কিছু। শুরুতে যখন ওকে নিয়ে বেরোনো যেত না ও খুশি থাকত না তখন, এমনও হয়েছে আমি একলা বসে কেঁদেছি যে ওকে খুশি করতে পারছি না। তারপর যখন আমরা বাইরে যেতে শুরু করলাম অনেক ভালো হল।

সিয়া কিছু না বলেও ওর যে ইমোশনগুলো প্রকাশ করতে চায়, মা হয়ে আমি সেগুলো সব বুঝতে পারি। ওর চোখে দেখে আমি সব বুঝতে পারি। ও আমাকে বুঝিয়ে দেয়। আমি ওর দিকে তাকালেই বুঝতে পারি যে, শি নিডস মি। এরকম বহুবার হয় যে, আমরা হয়তো সবাই একসঙ্গে বসে খাচ্ছি, ও না চুপচাপ আমাকে দেখতে থাকে।

ওর এখনকার হ্যাবিট হচ্ছে, ঘুম থেকে উঠে এসে আমার ঠোঁটে চুমু দেয়, আমার মুখ চেটে দেয়, তারপর আমার হাতটা চাটতে থাকে। আমি যদি কোথাও ওকে রেখে দিই, খানিকক্ষণ খেলার পর ও দরজার দিকে তাকিয়ে থাকে যে কখন আমি ফিরব। যদি ওকে বাড়িতে রেখে আমি বেরোই আমি ফেরা পর্যন্ত ও পুরো শান্ত হয়ে থাকে। আমাদের মাদার-ডটার বন্ডিং-টা ভীষণ স্ট্রং হয়ে গেছে। এভাবেই আমাদের রিলেশনশিপটা তৈরি হয়ে গেছে। ওর এক বছর তিন মাস বয়স এখন।

নুসাইবা

নুসাইবা

মা – নুসায়বাহ মেহেজাবিন আয়রা, চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী

ছা – টুনি, মনি

আমি চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ি। আমার একজোড়া ঘুঘু পাখি আছে – টুনি, মনি। ওদের আমার বাবা আমার জন্মদিনে উপহার হিসাবে দিয়েছেন। আমি তাদের খুউউউব ভালবাসি। যদিও টুনিকে আমার একটু বেশি পছন্দ। টুনি দুই মাস পরপর ডিম পাড়ে আর বাচ্চা ফোটে। আমি প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে তাদের খাবার ও পানি দিই। বিকেলে স্কুল ছুটির পর তাদের সঙ্গে খেলি। তাদের অসুখ হলে আমি বাবাকে বলি। বাবা আমাকে ওষুধ দিলে আমি তাদের খাইয়ে দিই। তাদের মোট পাঁচটি বাচ্চা। আমি তাদের ছানাগুলিকেও খুব আদর করি।

মুনিও খুব ভালো। সে মাঝেমাঝে আমার কাঁধে উঠে নাচানাচি করে। টুনি ও মুনির উপরের খাঁচায় আরেক জোড়া ঘুঘু পাখি আছে। তারা এদের চেয়ে অনেক ছোটো – অস্ট্রেলিয়ান ঘুঘু। তাদের নাম – টুনা আর মিনা। তারা খুব চঞ্চল। খাঁচার মধ্যে নেচে বেড়ায়।

টুনির আবার একটা বাচ্চা ফুটেছে, মায়ের সঙ্গে মিলিয়ে নাম দিয়েছি টুনু। আমি আমার দু জোড়া ঘুঘু পাখিকে খুব ভালবাসি, আমি তাদের ছাড়া থাকতে পারব না।

সূত্র: ভয়েজ অব আমেরিকা