Skip to content

পাকিস্তানে ১৮ জন বিচারপতিকে পাঠানো হুমকিমূলক চিঠির তদন্ত

পাকিস্তানে ১৮ জন বিচারপতিকে পাঠানো হুমকিমূলক চিঠির তদন্ত

চলতি সপ্তাহে কমপক্ষে ১৮ জন উচ্চ পর্যায়ের বিচারপতিকে একাধিক রহস্যজনক চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং চিঠির খামে ছিল সন্দেহজনক পাউডার। পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা পুলিশ এর তদন্ত করছে। এই ঘটনার পিছনে কারা রয়েছে তা এখনও চিহ্নিত করা যায়নি।

পুলিশ কর্মকর্তারা শুক্রবার জানিয়েছেন, ইসলামাবাদ ও প্রাদেশিক সদর দফতরগুলিতে বিচারপতিদের সরকারি আবাসন এবং আদালত ভবনে যাওয়ার রাস্তা ও অভ্যাগতদের উপর নজরদারি, পরীক্ষা ও তদন্ত বাড়ানো হয়েছে।

পাকিস্তানের আদালতগুলি নিয়ন্ত্রণ করে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল। ইসলামাবাদ হাইকোর্টের ছয়জন বিচারপতি যৌথভাবে চিঠি লিখে সেখানে অভিযোগ জানিয়েছিলেন যে দেশের সেনা-চালিত গুপ্তচর সংস্থা বিচারবিভাগীয় প্রক্রিয়ায় লাগাতার হস্তক্ষেপ ও চাপ সৃষ্টি করছে। বিচারপতিরা লিখিতভাবে জানানোর এক সপ্তাহ পরে ঘটলো এমন রহস্যময় চিঠির ঘটনা।

পাকিস্তানের রাজধানীর কেন্দ্রীয় হাইকোর্টের আটজন বিচারপতিই মঙ্গলবার প্রথম এই হুমকি চিঠি পেয়েছেন। পরদিন, পাকিস্তানের মুখ্য বিচারপতি কাজি ফাইজ ইসা ও প্রাদেশিক রাজধানীর লাহোরের হাইকোর্টের ছয়জন বিচারপতিসহ সুপ্রিম কোর্টের চারজন বিচারপতি একই চিঠি পেয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বৃহস্পতিবার তার মন্ত্রিসভার বৈঠকে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভাষণে প্রতিশ্রুতি দেন যে, তার সরকার অনুপুঙ্খ তদন্ত করবে এবং “বিভিন্ন বিচারপতিকে সন্দেহজনক পাউডার-সমেত পাঠানো চিঠির” রহস্যভেদ করবে।

এক পুলিশ কর্মকর্তা অভিযোগ দায়ের করে বলেছেন, বিচারপতিদের হুমকিমূলক চিঠির প্রেরকদের তেহরিক-ই-নামুস-ই-পাকিস্তান (পাকিস্তানের সম্মানরক্ষার আন্দোলন) গোষ্ঠীর সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই গোষ্ঠীর কথা আগে শোনা যায়নি।

ওই চিঠির বয়ানে দেশের “বিচারব্যব্যস্থা”কে আক্রমণ করা হয়েছে এবং মানুষের মাথার খুলি ও হাড়ের ছবিসহ “ব্যাসিলাস অ্যানথ্রাসিস” উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের বক্তব্য অনুযায়ী, ব্যাসিলাস অ্যানথ্রাসিসের ফলে অ্যানথ্রাক্স রোগ হয়। এই রোগ গৃহপালিত পশুর জন্য ভয়াবহ এবং মানুষের দেহেও এই রোগ সংক্রমিত হয় কখনও।

পাকিস্তানের ইংরেজি ভাষার সংবাদপত্র ‘ডন’ জানিয়েছে, এই চিঠিতে হুমকি দেওয়া হয়েছে যে, খামে থাকা গুঁড়ো অন্যান্যদের “অনুশোচনা” করার জন্য সতর্কতা, অন্যথায় এর ফল ভুগতে হবে।

এক সপ্তাহ আগে সুপ্রিম বিচারবিভাগীয় পরিষদে পাঠানো চিঠিতে ইসলামাবাদ হাইকোর্টের ছয়জন বিচারপতি অভিযোগ করেছিলেন, ইন্টার-সার্ভিস গোয়েন্দাবিভাগ বা আইএসআইয়ের কর্মকর্তারা তাদের ও তাদের আত্মীয়দের দমনপীড়ন, ভয়ভীতি, নির্যাতন, জবরদস্তি ও অন্যান্য অপব্যবহারের জন্য লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে।

সূত্র: ভয়েজ অব আমেরিকা