পটুয়াখালীর কয়লাভিত্তিক প্ল্যান্টটি ৪০ বছর বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম

পটুয়াখালীর কয়লাভিত্তিক প্ল্যান্টটি ৪০ বছর বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আমদানি করা কয়লা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে আরো একটি মেগা প্রকল্প পেতে যাচ্ছে দেশ। পটুয়াখালীতে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি উৎপাদনে আসবে ২০২৩ সালের শুরুতেই। করোনার কারণে প্রকল্পের ব্যয় বাড়বে না জানিয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে, এরই মধ্যে শেষ হয়েছে প্রায় ২৭ শতাংশ কাজ। বাস্তুচ্যুত ২৮১টি পরিবারের জন্য পরিকল্পিত আবাসন নির্মাণের কাজও শেষের পথে।

পটুয়াখালী সদর থেকে ৬৫ কিলোমিটার দূরের প্রত্যন্ত জনপদ কলাপাড়ার ধানখালি ইউনিয়নের এ নিশানবাড়িয়া গ্রাম। টেকসই বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষে এ মাটিতেই গড়ে উঠছে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের কয়লাভিত্তিক বেইজলোড তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র।

এখানে নির্মাণ সম্পন্ন হওয়া পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাশেই ৯১৫ একর জমিতে করোনার মধ্যেও বড় আকারের এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির নির্মাণকাজ চলছে জোরেশোরে। দেশীয় বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আরপিসিএলের সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান নোরিনকো ইন্টারন্যাশনাল যৌথ বিনিয়োগে ২০ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

কর্তৃপক্ষ বলছে, ইন্দোনেশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া থেকে কয়লা এনে আল্ট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল টেকনোলজি ব্যবহার করে এখানে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। পরিবেশ সম্মতভাবে উপায়ে কয়লা খালাস এবং তা প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যবহৃত হবে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি। যাতে কার্বণ নিঃসরণের মাত্রাও নিয়ন্ত্রণ করা হবে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে।

প্রকল্প পরিচালক তৌফিক ইসলাম বলেন, ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথমটির ফলোয়ার হওয়ার কথা। করোনার কারণে প্রকল্প যদি চার মাস বা ছয় মাস দেরিও হয়, আমরা চেষ্টা করব সেটা পুষিয়ে নিতে, যদিও হয় এটাতে কোনো ব্যয় বৃদ্ধি হবে না।

পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণ করতে এখানে ২২০ মিটার উঁচু চিমনি স্থাপিত হবে জানিয়ে বিদেশি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান বলছে, কয়লাভিত্তিক এই প্ল্যান্টটি অন্তত ৪০ বছর বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হবে।

চীনের ইপিসি ঠিকাদার লি ফুদং বলেন, পরিবেশের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছি আমরা। আন্তর্জাতিক গাইডলাইন মেনে প্রযুক্তি ও প্রকৃতির সমন্বয় করেই কাজ করা হচ্ছে।

৬৬০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট চালাতে প্রতিদিন এখানে পোড়াতে হবে ১২ হাজার মেট্রিক টন কয়লা। স্টিম টারবাইন, জেনারেটর ও বয়লারের মতো মূল যন্ত্রাংশ স্থাপনে এখন চলছে চূড়ান্তভাবে মাটি প্রস্তুতের কাজ।

শুধু বিদ্যুৎ কেন্দ্রই নয়, যাদের জমিতে গড়ে উঠছে এই প্রকল্প তাদের পুনর্বাসনে ৩০ একর জমিতে ২৮১টি পরিবারের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন আধুনিক আবাসন। ১২শ’ বর্গফুটের বাড়ি, স্কুল, মসজিদ, সুপেয় পানি সরবরাহ, স্বাস্থ্য কেন্দ্রসহ সাইক্লোন শেল্টার কাম কমিউনিটি সেন্টার পাবেন পরিকল্পিত নগরের বাসিন্দারা।

সূত্র: সময় টিভি


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।