Skip to content

দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারত ও চীন যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারত ও চীন যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

এশিয়ার প্রধান দুই অর্থনৈতিক পরাশক্তি ভারত ও চীনের সঙ্গে বড় পরিসরে সম্পৃক্ত হওয়ার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী তিন মাসের মধ্যে নয়াদিল্লি ও বেইজিংয়ে দ্বিপক্ষীয় সফরে যেতে পারেন।

২০২৩ সালের ৭ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে জয় নিশিচত করে নতুন সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফেব্রুয়ারিতে মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে যোগ দিতে জার্মানি সফর করেন।

একটি কূটনৈতিক সূত্র বলছে, প্রতিবেশী দেশ ভারতে জুনে নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথমে ভারতে দ্বিপক্ষীয় সফর করবেন।

ভারতে ৫ বছরের জন্য সরকার নির্বাচনের জন্য ১৯ এপ্রিল থেকে ১ জুনের মধ্যে ৭ ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ভোট গণনা করা হবে ৪ জুন।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন জোট ভারতের পার্লামেন্টের নির্বাচনে প্রায় তিন-চতুর্থাংশ আসনে জয়লাভ করতে পারে বলে এক জরিপে উঠে এসেছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, ৭৩ বছর বয়সী মোদি ২০১৪ সালে প্রথমবার ক্ষমতায় আসেন এবং পুনরায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, “প্রধানমন্ত্রীর (শেখ হাসিনা) ভারত সফর অবশ্যই হবে। তবে তা হবে ভারতের নির্বাচনের পর।”

তিনি বলেন, সফরটি ঠিক কবে হবে তা নিয়ে সরকারি পর্যায়ে এখনো আলোচনা হয়নি।

বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

৮ জানুয়ারি পাঠানো অভিনন্দনপত্রে নরেন্দ্র মোদি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টানা চতুর্থ মেয়াদে তাঁর দেশকে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ঐতিহাসিক ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তাদের অপরিবর্তনীয় অংশীদারত্বের সব ক্ষেত্রে গভীরতর হতে থাকবে।

তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও বিশ্বস্ত উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা ও প্রবৃদ্ধিতে সমর্থন অব্যাহত রাখবে ভারত।

ওই বার্তায় বাংলাদেশের জনগণের অব্যাহত অগ্রগতি, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি।

২০২৩ সালের ৯-১০ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে জি-২০ লিডারস সামিটে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই সময় তাঁর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, পুনর্নির্বাচিত হলে মোদি তাঁর শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দক্ষিণ এশিয়া ও বিমসটেকের সদস্য দেশগুলোর সরকার প্রধানদের আমন্ত্রণ জানাতে পারেন।

এদিকে বুধবার (৩ এপ্রিল) বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশে চীনা কোম্পানিগুলোর বৃহত্তর বিনিয়োগ এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে চীনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বিশেষ করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও জনগণ থেকে জনগণে যোগাযোগের ক্ষেত্রে উন্নয়নের সম্ভাবনা তুলে ধরেন। পাশাপাশি জুলাইয়ে প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন চীন সফর এই বিষয়গুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনায় রাষ্ট্রদূত ইয়াও জনগণ থেকে জনগণে আদানপ্রদান জোরদারে এবং আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান সম্পৃক্ততাকে সহায়তার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

চীনের একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, এই সহায়তার লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশের ‘রূপকল্প ২০৪১’ বাস্তবায়ন এবং ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ অর্জনের অভিযাত্রাকে ত্বরান্বিত করা।

বার্তা সূত্র