Skip to content

দ্বাদশের মন্ত্রিসভায় জায়গা পেলেন ৮ নারী, ইতিহাসে সর্বোচ্চ

দ্বাদশের মন্ত্রিসভায় জায়গা পেলেন ৮ নারী, ইতিহাসে সর্বোচ্চ

রাজনীন ফারজানা, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: মন্ত্রিপরিষদে নতুনভাবে যুক্ত হওয়া ৪ জনকে নিয়ে দ্বাদশ জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের মন্ত্রীসভায় নারী সদস্য দাঁড়ালো ৮ জনে। গত ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের পর ১১ জানুয়ারি ৩৭ সদস্যের মন্ত্রিসভা ঘোষণা করে আওয়ামী লীগ। এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও শপথ নেন ২৫ জন মন্ত্রী ও ১১ জন প্রতিমন্ত্রী। ২৫ জনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ নারী মন্ত্রী ছিলেন দু’জন এবং প্রতিমন্ত্রী ছিলেন দু’জন।

গতকাল শুক্রবার (১ মার্চ) শপথ নেওয়া ৭ জন প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে চারজন নারী। এতে শেখ হাসিনার ৪৪ সদস্যের মন্ত্রিসভায় নারী মন্ত্রী হলেন আটজন। শতাংশের হিসেবে এটি ১৮.১৮ শতাংশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন দীপু মনি, রুমানা আলী, সিমিন হোসেন রিমি, রোকেয়া সুলতানা, শামসুন নাহার, ওয়াসিকা আয়শা খান এবং নাহিদ ইজাহার খান।

এদের মধ্যে দীপু মনি, রুমানা আলী ও সিমিন হোসেন রিমি সরাসরি ভোটে নির্বাচিত এবং দ্বিতীয় ধাপে মন্ত্রী হওয়া রোকেয়া সুলতানা, শামসুন নাহার, ওয়াসিকা আয়শা খান এবং নাহিদ ইজাহার খান সংরক্ষিত নারী আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

মন্ত্রিসভার তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় এবারই সর্বোচ্চ সংখ্যক নারী মন্ত্রণালয়ে স্থান পেয়েছেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালের ১৬ মার্চ বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন শেখ মুজিবুর রহমান। ৩৭ সদস্যের এই মন্ত্রিসভায় সর্বপ্রথম দুই নারী স্থান পান। শিক্ষা বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হন বদরুন্নেসা আহমেদ আর সমাজকল্যাণ ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হন নুরজাহান খুরশিদ। অবশ্য ২৫ জানুয়ারি গঠিত শেখ মুজিবের তৃতীয় মন্ত্রীসভায় ৩০ জন সদস্যের মধ্যে কোনো নারী ছিলেন না।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর ১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে জয়লাভ করে সদ্যগঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। এই মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি কোন নারী। পরবর্তীতে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত টানা ক্ষমতায় থাকেন। এসময়েও মধ্যেও তার মন্ত্রণালয়ে স্থান হয়নি কোন নারীর। ১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্রের ধারায় ফেরে বাংলাদেশ। এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে মন্ত্রিসভায় নারীরা জায়গা করে নিতে থাকেন।

১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সরকার গঠন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। সেবারই প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী পায় বাংলাদেশ। খালেদা জিয়া ছাড়াও ওই সংসদে নারী মন্ত্রী ছিলেন একজন। ৩৩ সদস্যের মন্ত্রীসভায় সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ছিলেন জাহানারা বেগম।

১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ। শেখ হাসিনার প্রথম সংসদে ২৬ সদস্যের মন্ত্রীসভায় প্রধানমন্ত্রী ছাড়া নারী মন্ত্রী ছিলেন দু’জন- মতিয়া চৌধুরী ও সাজেদা চৌধুরী।

২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদে আবারও ক্ষমতায় এসে দ্বিতীয়বারের মতো সরকার গঠন করে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। সেবার ২৮ জন মন্ত্রী, ২৮ জন প্রতিমন্ত্রী ও চারজন উপমন্ত্রী নিয়ে ৬০ সদস্যের মন্ত্রিসভায় জায়গা পান মাত্র দু’জন নারী। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী হন বেগম খুরশীদ জাহান হক এবং সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী হন সেলিমা রহমান।

২০০৮ নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে আবারও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনার দ্বিতীয় মন্ত্রীসভায় তিনি ছাড়া জায়গা পান পাঁচ নারী। সেবারই প্রথম গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়য়ের দায়িত্ব পান নারী রাজনীতিবিদরা। ৪৪ সদস্যের মন্ত্রিসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হন সাহারা খাতুন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হন দীপু মনি, কৃষিমন্ত্রী হন মতিয়া চৌধুরী।

এছাড়া শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী হন মন্নুজান সুফিয়ান এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হন বর্তমান সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী।

২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদে আবারও জয়লাভ করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তৃতীয় মন্ত্রিসভায় জায়গা পান ৪ জন। ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভায় ৩১ জন পূর্ণ মন্ত্রী, ১৭ জন প্রতিমন্ত্রী এবং দু’জন উপমন্ত্রী হন। এদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া ছিলেন তিনজন। কৃষিমন্ত্রী হন মতিয়া চৌধুরী, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হন মেহের আফরোজ চুমকি এবং জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী হন ইসমত আরা সাদেক।

২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে টানা তৃতীবারের মতো ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। এটি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে চতুর্থ মন্ত্রিসভা যেখানে জায়গা পান ৪৮ জন যাদের মধ্যে পূর্ণ মন্ত্রী ২৫ জন এবং প্রতিমন্ত্রী ১১ জন।

এদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া জায়গা পান চারজন। শিক্ষা মন্ত্রী হন দীপু মনি, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী হন মন্নুজান সুফিয়ান, নারী ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হন ফজিলাতুন্নেসা ইন্দিরা, আর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হন হাবিবুন নাহার।

আর ২০২৪ সালে দ্বাদশ জাতীয় সংসদে পঞ্চমবারের মতো সরকার গঠন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবারই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক নারী জায়গা পেয়েছেন মন্ত্রীসভায়।

এছাড়া ২০১৩ সাল থেকে টানা জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে শিরীন শারমিন চৌধুরী।

ইতিহাসের সর্বোচ্চ সংখ্যক নারী মন্ত্রী নিয়োগ, নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে তা যথেষ্ট কিনা জানতে চাইলে মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, ‘সংসদ ও সরকারে নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়াতেই হবে। নাহলে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নই শুধু পিছিয়ে যায় না, এতে করে আরও নানাবিধ সংকট তৈরি হয়। সরাসরি ভোটে নির্বাচিত নারীর সংখ্যা না বাড়লে বা মন্ত্রিসভায় আরও বেশি নারীরা জায়গা না পেলে ২০৩০ সালের মধ্যে সমতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যমাত্রাই বা কীভাবে অর্জন করবো। এসডিজি গোল (টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা) কীভাবে অর্জন করবো।’

‘আমরা দেখছি নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায় আসার পথ অত্যন্ত কঠিন। রাজনৈতিক দলগুলোর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অভাব রয়েছে। নির্বাচন কমিশন একা পারবে না, এক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোকেও হতে হবে আন্তরিক। নারী নেতৃত্ব বিকাশের জন্য রাজনৈতিক সংস্কৃতির মধ্যেই ক্ষমতায়নের চর্চা করতে হবে’, বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মহিলা পরিষদের তরফ থেকে দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষিত আসন নয় বরং নারীর জন্য সুনির্দিষ্ট নির্বাচনি এলাকা থাকার কথা বলছি। সংরক্ষিত আসনে নির্বাচিত নারী সংসদের মধ্য থেকে সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণের হার বাড়াতে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি কিন্তু তা মানা হচ্ছে না। তৃণমূল থেকে নারী নেতৃত্বকে উপরে তুলে ধরতে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। দেখা যাচ্ছে পারিবারিকভাবে রাজনৈতিক ক্ষমতা আছে এমন নারীরাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ক্ষমতায়িত হচ্ছেন। এর থেকে বের হতে দরকার দলগুলোর রাজনৈতিক স্বদিচ্ছা, উদ্যোগ, প্রচেষ্টা, পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও পরবর্তীতে মনিটরিং করতে হবে।’

দ্বাদশ জাতীয় সংসদের আট নারী মন্ত্রীর বিস্তারিত

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোট নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে। ১১ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা টানা চতুর্থবারসহ পঞ্চমবারের মতো গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহণ করেন। ৭ জানুয়ারি ২০১৯ শেখ হাসিনা চতুর্থবার গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন।

এর আগে শেখ হাসিনা ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে প্রথমবার, ২০০৯-২০১৩ মেয়াদে দ্বিতীয়বার এবং ২০১৪-২০১৮ মেয়াদে তৃতীয়বারের মত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। শেখ হাসিনা চতুর্থ, পঞ্চম ও অষ্টম জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

দীপু মনি
বর্তমান মন্ত্রীসভায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া দীপু মনি আওয়ামী লীগ সরকারের চতুর্থ মন্ত্রিসভায় শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন। এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সাল থেকে তিনি চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সর্বশেষ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে ১৬৫টি কেন্দ্রে ১ লাখ ৯ হাজার ৪৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।

রুমানা আলী
দ্বাদশ জাতীয় সংসদে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন রুমানা আলী টুসী। তিনি গাজীপুর-৩ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য এবং একাদশ জাতীয় সংসদে ১৪ নং সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকে ১ লাখ ২৬ হাজার ১৯৬ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সদ্য সাবেক সংসদ সদস্য ও গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন সবুজের চেয়ে ২৪ হাজার ৫২২ ভোট বেশি পেয়ে জয়ী হন।

সিমিন হোসেন রিমি
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন গাজীপুর-৪ সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগ থেকে জয়লাভ করা সিমিন হোসেন রিমি। তিনি ৮৯ হাজার ৭২৯ ভোট পেয়ে জয়ী হন। সিমিন হোসেন রিমি এই আসনে ২০০১ ও ২০০৮ সালে নির্বাচিত সংসদ সদস্য তানজিম আহমদ সোহেল তাজের বড় বোন। সিমিন ও সোহেল তাজের বাবা বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ।

রোকেয়া সুলতানা
রোকেয়া সুলতানা স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা এবারই প্রথম সংরক্ষিত নারী আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

শহিদ পরিবারের সন্তান রোকেয়া সুলতানা কুড়িগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং কুড়িগ্রাম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন। মেডিকেল কলেজটির প্রথম ব্যাচের ছাত্রী তিনি। মেডিকেলে পড়ার সময় তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে ২০১৬ সালে প্রথমবারের মত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক হন। টানা তিন কমিটিতেই এ দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তার বাবা শহীদ কবি মাহতাব উদ্দীনকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ধরে নিয়ে হত্যা করে। মাহতাব উদ্দীন পূর্ব পাকিস্তান রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার ছিলেন।

শামসুন নাহার
প্রথমবার সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হয়েই প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেলেন আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামসুন নাহার চাঁপা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগে পড়ার সময় থেকেই তিনি ছাত্র রাজনীতিতে যুক্ত। ১৯৮৯-৮০ সালে শামসুন্নাহার হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি। পরে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতেও ছিলেন। ২০১৬ সালে প্রথমবারের মত আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ সম্পাদকের দায়িত্ব পান চাঁপা। এরপর থেকে টানা তিন কমিটিতেই এ দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি।

ওয়াসিকা আয়শা খান
আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক ওয়াসিকা আয়শা খান অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। সংরক্ষিত নারী আসনের তিনবারের সংসদ সদস্য ওয়াসিকা গত সংসদে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।

পেশায় ব্যাংকার ওয়াসিকা আয়শা খান গত দুই মেয়াদেও আওয়ামী লীগের অর্থবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া যে অল্প কজন দ্বিতীয়বারের মতো সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হয়েছেন, তার মধ্যে তিনি অন্যতম। তিনি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য প্রয়াত আতাউর রহমান খান কায়সারের মেয়ে।

নাহিদ ইজাহার খান
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন নাহিদ ইজাহার খান। এই মন্ত্রণালয়েও পূর্ণ মন্ত্রী না থাকায় নাহিদ ইজাহারই মন্ত্রণালয়ের পুরো দায়িত্ব পালন করবেন। টানা দ্বিতীয়বারের মত সংরক্ষিত আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন তিনি।

সারাবাংলা/আরএফ/এমও



বার্তা সূত্র