Skip to content

দেশত্যাগী বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনতে হবে: বিচারপতি মানিক

চট্টগ্রাম: ধর্মান্ধ ও সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর অত্যাচারে স্বাধীনতার পর বাধ্য হয়ে দেশত্যাগকারী সব বাংলাদেশি নাগরিককে স্বদেশে ফিরিয়ে আনার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতের জন্য সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক।  

শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ চট্টগ্রাম মহানগর শাখার ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

 

তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক দ্বিজাতিতত্ত্বের খোলস ছেড়ে ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সব বাঙালি আদিবাসীর মিলিত রক্তস্রোতে জন্ম নেয় স্বাধীন বাংলাদেশ। সেই বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর চেতনা থেকে অনেক দূরে চলে গেছে।

বঙ্গবন্ধুর যে আদর্শ নিয়ে বাঙালি মুক্তিযুদ্ধ করেছে তাকে নস্যাৎ করে মেজর জিয়া থেকে জেনারেল এরশাদ এদেশকে পাকিস্তানিকরণ করেছে, স্বাধীনতাবিরোধীদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। আজও প্রশাসনে, বিচার বিভাগে, রাজনীতিতে, পুলিশ বাহিনীতে ধর্মান্ধ সাম্প্রদায়িক অপশক্তির দোসররা ক্রিয়াশীল। অথচ তাদের বিরুদ্ধে সরকারের দৃশ্যমান উদ্যোগ আজও দেখা যাচ্ছে না। সারাদেশে ওয়াজ মাহফিলের নামে ধর্ম ব্যবসায়ীরা মুক্তিযুদ্ধ, সংখ্যালঘু ও নারীদের বিরুদ্ধে একটানা বিদ্বেষ ছড়িয়ে দিচ্ছে। এদের ব্যাপারেও সরকারের ভূমিকা আরও কঠোর হতে হবে।

বিচারপতি মানিক বলেন, রাষ্ট্রের কোনও ধর্ম থাকতে পারে না। রাষ্ট্রধর্ম মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। তিনি বলেন, বাহাত্তরের সংবিধান পুনঃপ্রতিষ্ঠা ছাড়া প্রকৃত অর্থে অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা অসম্ভব। ধর্মান্ধ গোষ্ঠী ও ধর্ম ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রগতিশীলতার পক্ষে দেশকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে নেওয়ার এখনই সময়।  

প্রকৌশলী পরিমল কান্তি চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিতাই প্রসাদ ঘোষের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনের উদ্বোধন অধিবেশনে বক্তব্য দেন উদ্বোধক সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ড. নিম চন্দ্র ভৌমিক, প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. জিনবোধি ভিক্ষু, উপদেষ্টা সুকুমার চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামল কুমার পালিত, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইন্দু নন্দন দত্ত, অভিজিৎ ধর বাপ্পি, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সভাপতি তাপস হোড়, কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন, রুমকি সেনগুপ্তা, প্রকৌশলী শুভ্র দেব কর, অ্যাডভোকেট প্রদীপ কুমার চৌধুরী ও উত্তম কুমার শর্মা।  

শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন সহ-সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ পালিত। এর আগে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে জাতীয় পতাকা ও সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করেন বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক ও ঐক্য পরিষদের অন্যতম সভাপতি ড. নিম চন্দ্র ভৌমিক। অতিথিরা শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।  

সম্মেলনে ঘোষিত ও অনুমোদিত বিষয় নির্ধারণী কমিটির সভায় প্রকৌশলী পরিমল কান্তি চৌধুরীকে সভাপতি ও অ্যাডভোকেট নিতাই প্রসাদ ঘোষকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন করা হয়। কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত সম্মেলনে উপস্থিত সবার ঐকমত্যের ভিত্তিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তাদের নাম অনুমোদন দেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৯২০ ঘণ্টা, জানুয়ারি ৬, ২০২৩
এআর/পিডি/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।



বার্তা সূত্র

সর্বাধিক পঠিত

সর্বশেষ সংবাদ