দেবীদ্বারে শতবর্ষী লক্ষ্মী মূর্তি ভাঙচুর

দেবীদ্বারে শতবর্ষী লক্ষ্মী মূর্তি ভাঙচুর

কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের সূনীল দত্তের বাড়ির শতবর্ষী মন্দিরের ‘লক্ষ্মী মূর্তি’ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার রাতে অজ্ঞাত দুষ্কৃতকারীরা এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে পুলিশ ও স্থানীয়রা ধারণা করছেন।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার রসুলপুর গ্রামের দত্ত বাড়ির শতবর্ষী শ্রী শ্রী লক্ষ্মী মন্দিরের ভেতরে থাকা জয়া, নারায়ণ ও বিজয়ার ঘাড়, মাথা হাত, নাকসহ মূর্তির বিভিন্ন অঙ্গ ভাঙচুর করা হয়েছে। ওই ঘটনার সংবাদে দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, দেবীদ্বার থানার ওসি, নিজেরা করি সংস্থা, ভূমিহীন সংগঠন, ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ ও পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

রসুলপুর গ্রামের প্রবীণ শিক্ষক সূনীল চন্দ্র দত্তের স্ত্রী সূনীতি রানী দত্ত জানান, আমরা ওই মন্দিরে প্রত্যহ আরাধনা করে থাকি। অন্যান্য দিনের মতোই বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টায় মন্দিরে পূজা ও প্রণাম জানাতে গিয়ে দরজা খুলেই দেখি ভেতরে থাকা মূর্তিগুলো ভাঙা ও বীভৎস অবস্থায় পড়ে আছে।

প্রবীণ শিক্ষক ও হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ’র সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সূনীল চন্দ্র দত্ত (৭২) ও বলয় রাম দত্ত (৮৫) জানান, মন্দিরটি আমাদের পূর্বপুরুষরাও পূজা-অর্চনায় ব্যবহার করেছেন, আমরাও করে আসছি। যার বয়স প্রায় ১২০ বছর হবে। এ ঘটনা শোনার পর স্তম্ভিত হয়ে পড়ি এবং আমাদের মধ্যে বিষাদের ছায়া নেমে আসে, এ রকম ন্যক্কারজনক ঘটনায় কমিউনিটির মধ্যে চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে।

নিজেরা করি সংস্থা কুমিল্লা জেলা সভাপতি আব্দুল জব্বার ও রসুলপুর ভূমিহীন সংগঠনের আঞ্চলিক সভাপতি মো. ফজর আলী মেম্বার বলেন, এ গ্রামটি হিন্দু অধ্যুষিত, ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।

হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ দেবীদ্বার উপজেলা সাধারণ সম্পাদক বিকাশ দেব, যুগ্ম-সম্পাদক তপন চন্দ্র সাহা, দেবীদ্বার উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদর সাধারণ সম্পাদক মানিক চন্দ্র চক্রবর্তী ঘটনা তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটনে প্রশাসনের প্রতি দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।

দেবীদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জহিরুল আনোয়ার জানান, মন্দিরের দরজায় তালা না থাকার সুযোগে রাতের অন্ধকারে কে বা কারা, কী কারণে এটি ঘটিয়েছে তা বেধগম্য নয়। এ ব্যাপারে এখনো কেউ অভিযোগ করেনি, অভিযোগ করতে আসলে তা গ্রহণপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিব হাসান বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বিষয়টি অবগত আছেন, এ ব্যাপারে তদন্ত অব্যাহত আছে, তদন্তে অপরাধীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেয়া হবে। মূর্তি ও মন্দিরের সংস্কারে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যাবতীয় সহায়তা প্রদান করা হবে। এ ব্যাপারে এলাকাবাসীকে আতঙ্কিত না হয়ে ঘটনা তদন্তে সহায়তার আহ্বান জানান।

সূত্র: দেশ রুপান্তর

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।