‘দুদক কি করবেন, তামাশা দেখবেন নাকি পদক্ষেপ নেবেন’

‘দুদক কি করবেন, তামাশা দেখবেন, নাকি পদক্ষেপ নেবেন’ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দিকে এমন প্রশ্ন ছুঁড়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।

মঙ্গলবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রিজভী বলেন, অবস্থা বর্তমানে এতটাই বিপর্যয়কর অবস্থায় দাঁড়িয়েছে, গণতন্ত্র এবং ভোটাধিকার হরণকারী নিশিরাতের এই সরকারের নেতা-মন্ত্রী-এমপি-মেয়ররা দুর্নীতির টাকার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে এখন নিজেরাই একে অপরের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। সরকারের মেগা মেগা মহাদুর্নীতির মহাসাগর থেকে ছিটেফোটা চিত্র দু-একজন নেতার মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসছে।

আপনারা অবগত আছেন, নির্বাচনের নামে প্রহসনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে ঢাকা সিটি দক্ষিণের মেয়রের পদ দখল করেছিলেন সাঈদ খোকন। সাঈদ খোকনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নিশিরাতের এমপি পদ ছেড়ে কোন মধুর লোভে মধুমতি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ফজলে নূর তাপস মেয়র পদ দখল করেছেন সেই মধুভান্ডের কাহিনী এখন আরব্য রজনীর গল্পের মতো মনে হলেও সেটিই বাস্তবে ঘটেছে।

রিজভী বলেন ‘সাঈদ খোকন বলছেন, মেয়র তাপস শত শত কোটি টাকা লুট করছেন অপরদিকে মেয়র তাপস বলছেন, শত শত কোটি টাকা লুট করেছেন সাঈদ খোকন। দুই জনই রাজপথে দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যে একে অপরের দুর্নীতি, লুটপাটের ফিরিস্তি দিচ্ছেন। তবে এটি স্পষ্ট দুজনই লুটেরা, দুজনই দুর্নীতিবাজ। এখন দুদক কি করবেন? তামাশা দেখবেন নাকি পদক্ষেপ নিবেন।’ 

দুদক পদক্ষেপ নিতে পারবে না, কারণ দু’জনই ক্ষমতাশালী ও শীর্ষ নেতৃত্বের আত্মীয় ও ঘনিষ্ঠজন। সুতরাং দুদক এদের বিরুদ্ধে এক পাও অগ্রসর হতে পারবে না। কারণ বিএনপি নিধনের জন্যই দুদককে সাজানো হয়েছে। জনগণকে ভোটাধিকার বঞ্চিত করে, জনগণের বিরুদ্ধে ইউনিফর্ম পরা সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দিয়ে আর বেশিদিন মানুষের মুখ বন্ধ করে রাখা যাবে না। কথায় বলে, ধর্মের কল বাতাসে নড়ে।

রিজভী আরও বলেন, ‘ওবায়দুল কাদেরের আপন ছোট ভাই আব্দুল কাদের মির্জা যেসব অভিযোগ উত্থাপন করছেন এসব কথার উদ্দেশ্য যাই হোক, অনেক সত্য বেরিয়ে আসছে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে খোদ ওবায়দুল কাদের সাহেব জিতবেন কিনা তার আপন ভাই-ই এ প্রশ্ন তুলেছেন। আওয়ামী লীগের এই তিনজন নেতার বক্তব্যেই আবারও প্রমাণিত হয়েছে-আওয়ামী লীগের ‘টপ টু বটম’ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। লুটপাটে কে কাকে টক্কর দিতে পেরেছে এই নিয়েই তাদের মধ্যে ঝগড়া চলছে। আওয়ামী লীগ তাদের পরস্পরের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতে গিয়ে যে সত্য বেরিয়ে আসছে তাতে প্রমাণিত আওয়ামী লীগ এখন ক্ষয়িষ্ণু রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। এ দেশে দুর্গতির জনকই আওয়ামী লীগ।

বিএনিপ নেতা রুহুল কবির রিজভী লিখিত বক্তব্য শেষে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এর ৮৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ১৯ জানুয়ারি বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এর মধ্যে জিয়ার মাজারে ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পার্ঘ অর্পণ, দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন, দৈনিক সংবাদপত্রে ক্রোড়পত্র প্রকাশ, কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকায় বিকেল ৩টায় ভার্চুয়াল আলোচনার ঘোষণা দেন।

এছাড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক জনাব তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ভিত্তিহীন মিথ্যা মামলায় চার্জগঠন ও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির উদ্যোগে বুধবার (১৩ জানুয়ারি) সারা দেশে জেলা ও মহানগর পর্যায়ে প্রতিবাদ সমাবেশ অথবা মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতা নেতা মীর শরাফত আলী শফুসহ দপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। 

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে রিজভী আহমেদ বলেন, গতকাল মঙ্গলবার (১১ জানুয়ারি) ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অভিশপ্ত কালো দিবসের চৌদ্দ বছরপূর্তি। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারী অসাংবিধানিক তথাকথিত এক সরকার ক্ষমতা দখল করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, নাগরিক মর্যাদা লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছিল।

DMCA.com Protection Status

সূত্র: সময় টিভি

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।