দুটো ক্যাম্পাস উত্তপ্ত, জাহাঙ্গীরনগরে হলের নিয়ন্ত্রণ শিক্ষার্থীদের হাতে

একসঙ্গে বাংলাদেশের দুটো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস উত্তপ্ত। জাতীয় কোনো দাবি নয়। স্থানীয় সমস্যা নিয়েই উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পরিণতিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তালা ভেঙে হলে প্রবেশ করেছে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিবহণ শ্রমিকদের সংঘর্ষের জেরে ক্যাম্পাসে টান টান উত্তেজনা। পাঁচ জেলার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ। জাহাঙ্গীরনগরে সংকটটা শুরু হয়েছিল শুক্রবার। ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন গেরুয়া এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এরপর স্থানীয়রা মাইকিং করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। পুড়িয়ে দেয়া হয় শিক্ষার্থীদের চারটি মোটরসাইকেল।এতে ৩০ জন শিক্ষার্থী আহত হন। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবিলম্বে হল খুলে দেয়ার দাবি জানায়।

শনিবার দুপুর পর্যন্ত আল্টিমেটাম দেয় তারা। প্রশাসন নীরব থাকায় শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেয়। দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে শিক্ষার্থীরা একে একে সব হলের তালা ভেঙে অবস্থান নেয়। সিন্ডিকেটের বৈঠক চলছে। শিক্ষার্থীরা হলের ভেতরেই অবস্থান নিয়েছে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদের মারধরের ঘটনার জের ধরে শিক্ষার্থী ও পরিবহণ শ্রমিকদের পাল্টাপাল্টি অবরোধ চলছে। গত মঙ্গলবার দুপুরে বরিশাল শহরের রুপাতলিতে বিআরটিসির কাউন্টারে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় এই পরিস্থিতির তৈরি হয়। শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের ফলে পুলিশ বিআরটিসির এক কর্মীকে গ্রেপ্তার করে। পরিবহণ শ্রমিকরা শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন মেসে হামলা চালায়। এর প্রতিবাদে বুধবার দিনভর বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রসাশনের আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা ৪৮ ঘণ্টার সময় বেধে দেয়। পুলিশ দুই পরিবহণ শ্রমিককে গ্রেপ্তার করলে পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটে। গ্রেপ্তারকৃত শ্রমিকদের মুক্তি না দেয়া পর্যন্ত যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছে শ্রমিকরা। শিক্ষার্থীরাও তাদের দাবিতে অনড়।

সূত্র: ভয়েজ অব আমেরিকা

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email