দিহানের বাসার ফুটেজে তিন ব্যক্তির সন্দেহজনক গতিবিধি

রাজধানীর কলাবাগানে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় গ্রেফতার ফারদিন ইফতেখার দিহানের বাসার সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা গেছে তিন ব্যক্তির সন্দেহজনক গতিবিধি। তবে এই তিন ব্যক্তি কারা তা চিহিৃত করতে পারেনি পুলিশ।

ডিএমপির নিউমার্কেট জোনের এসি আবুল হাসান জানান, দিহানের বাসার সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ দেখতে পেয়েছে, ৭ জানুয়ারি বেলা ১২টা ১২ মিনিটে কলাবাগানে দিহানের বাসার সিঁড়িঘরের দিকে যায় আনুশকা। বেলা ১টার দিকে বাসার সামনে সন্দেহজনক গতিবিধির দেখা মেলে তিন ব্যক্তির। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর বেলা ১টা ৩৬ মিনিটে বাসা থেকে বের হয় দিহানের গাড়ি। তবে তাদের তিনজনকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে বাড়ির দারোয়ান দুলাল পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানান, দিহানের বাসায় ঘটনার দিন একাই গিয়েছিলেন আনুশকা। ঘটনার পর দিহান একাই গাড়িতে করে আনুশকাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। বাসার ভিতরে ও হাসপাতালে যাওয়ার সময় তাদের সঙ্গে কেউ ছিল না। অবশ্য ৭ জানুয়ারি ঘটনার পর থেকে পলাতক ছিলেন দুলাল। ১১ জানুয়ারি মামলার সাক্ষী হিসেবে দুলালকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

দারোয়ান দুলাল মিয়া সাক্ষী হিসেবে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। ১১ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর হাকিম মামুনুর রশীদ তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

এর আগে দুলালকে আদালতে হাজির করে সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কলাগাবান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আ ফ ম আছাদুজ্জামান।

এছাড়া এই মামলার একমাত্র আসামি দিহান গত ৮ জানুয়ারি একই আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। তিনি বর্তমানে কারাগারে আছেন।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) সকালে বন্ধু দিহানের মোবাইল কল পেয়ে বাসা থেকে বের হন রাজধানীর ধানমন্ডির মাস্টারমাইন্ড স্কুলের ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থী আনুশকা নুর আমিন। এরপর আনুশকাকে কলাবাগানের ডলফিন গলির নিজের বাসায় নিয়ে যান দিহান। ফাঁকা বাসায় শারিরীক সম্পর্কেরেএকপর্যায়ে মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়লে দিহানসহ চার বন্ধু তাকে ধানমন্ডির আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ছাত্রীকে মৃত ঘোষণা করেন। ধর্ষণের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয় বলে জানান চিকিৎসকরা। এ ঘটনার মামলায় দিহান গ্রেফতার রয়েছেন। তিনি ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছেন।

এ ঘটনায় আনুশকার বাবা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) সকালে আমার স্ত্রী ও আমি বের হয় হই। পরে আমার মেয়ে বেলা সাড়ে ১১টায় তার মাকে ফোন দিয়ে বলে সে কোচিংয়ের পেপার্স আনতে বাইরে যাচ্ছে। দুপুর ১টা ১৮ মিনিটে দিহান আমার স্ত্রীকে ফোন দিয়ে বলে আমার মেয়ে তার বাসায় গিয়েছিল। সেখানে হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়ায় তাকে রাজধানীর আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতলের জরুরি বিভাগে ভর্তি করেছে। এ কথা শুনে আমার স্ত্রী দুপুর ১টা ৫২ মিনিটের দিকে হাসপাতালে পৌঁছায়। সেখানে গিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসকের কাছে জানতে পারেন আমাদের মেয়েকে ধর্ষণ করে মেরে ফেলা হয়েছে।

সূত্র: সময় টিভি

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।