Skip to content

দাবি না মানলে ২২ নভেম্বর সাংবাদিকদের অনশন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: সংবাদমাধ্যমে নবম ওয়েজ বোর্ড রোয়েদাদ বাস্তবায়ন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা-মামলা বন্ধ, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সংশোধন, সচিবালয়ে পেশাদার সাংবাদিকদের অ্যাক্রিডেটিশন কার্ড কমানোর সিদ্ধান্ত বাতিল, সাপ্তাহিক ছুটি দুদিনসহ সাংবাদিকদের বিভিন্ন দাবি বাস্তবায়নে বিক্ষোভ-সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২২ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এ সব দাবি জানানো হয়।

বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে জানানো হয়, সাংবাদিকদের দাবিসমূহ বাস্তবায়ন না হলে আগামী ২২ নভেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালন করা হবে। এরপরও দাবি আদায় না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি আসবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সোহেল হায়দার চৌধুরীর সভাপতিত্বে ডিইউজের সাংগঠনিক সম্পাদক জিহাদুর রহমান জিহাদের সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি ওমর ফারুক।

এতে বক্তব্য দেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল।

মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, ‘আমরা যারা সাংবাদিকতা করি, আমরা বেতন-ভাতা পাব, আইন অনুযায়ী আমাদের প্রাপ্য বেতন-ভাতা পাব সেটিই হচ্ছে আমাদের অধিকার। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমরা দুইদিকেই সমস্যা দেখি। একদিকে সমস্যা হচ্ছে-সরকার নবম ওয়েজবোর্ড ঘোষণা করেছে, সেই ওয়েজবোর্ড ‘বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা’ ছাড়া বাংলাদেশের আর কোনো পত্রিকায় বাস্তবায়ন হয়নি। একই দেশে একই সঙ্গে দুটি আইন কীভাবে চলে, তা আমরা বুঝতে পারি না।’

তিনি বলেন, ‘নবম ওয়েজবোর্ড প্রকাশের পর দেখা গেল আমাদের অনেক সুযোগ-সুবিধা কেটে দেওয়া হয়েছে। তাই সাংবাদিকদের রুটি-রুজির অধিকারের জন্য ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতারা মাঠে নেমেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সচিবালয়ে অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড যথাগোগ্য ব্যক্তিকে দেওয়া হচ্ছে কী না, তা যাচাই করে দেখতে হবে।’ অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড কমানোর সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানান তিনি।

মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, ‘আজ নিরাপদ সড়ক দিবস। পত্রিকায় দেখলাম, একজন বলেছেন, সড়ক পরিবহন আইনের বিধিমালা হচ্ছে, কিন্তু বিধিমালা হওয়ার আগেই মালিকরা বলছেন, তা কার্যকর করা যাবে না। বিধিমালা হয়েছে কিন্তু তা কার্যকর করা যাবে না, মালিকরা তা বলে চলেছেন।’

“আমি আপনাদের মনে করিয়ে দিতে চাই, ২০১৮ সালের ৮ অক্টোবর জাতীয় সংসদে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮’ এবং একই দিনে শুধু এক ঘণ্টা আগে পরে ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’ পাস করা হয়েছিল। কিন্তু সড়ক পরিবহন আইন পাস হওয়ার পর তা আজ পর্যন্ত কার্যকর করতে পারেনি সরকার। পরিবহন শ্রমিকদের লোকজন সরকারে আছে। পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে সরকারের মন্ত্রী আছেন। সরকারের মধ্যে পরিবহনের মালিকদের লোকজন আছে। যার ফলে আজকে চার বছর পরেও সড়ক পরিবহন আইন কার্যকর করা যায়নি। আর আমাদের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংসদে পাস করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কার্যকর করা হয়েছে।”

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সাংবাদিকদের কাজ করার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন যখন পাস হয় তখন আইনমন্ত্রী বলেছিলেন, আপনাদের (সাংবাদিকদের) টেনশনের কোনো কারণ নেই, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে যদি কোনো মামলা হয় আমি উকিল হিসেবে আপনাদের পক্ষে দাঁড়াবো। চার বছর হয়ে গেছে কোন জায়গায় সাংবাদিকদের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে তিনি দাঁড়িয়েছেন, তা আমরা জানি না। কিন্তু সাংবাদিক নির্যাতন চলছে। এর মধ্যে ২৯টি প্রতিষ্ঠান নিয়ে তথ্য পরিকাঠামো ঘোষণা করা হয়েছে। এর ব্যাখ্যা পরিষ্কার করা দরকার। এই আইনের অপপ্রয়োগের একটা সম্ভাবনা আছে। আইনের প্রয়োগ-অপপ্রয়োগের কারণে সাংবাদিকদের অধিকার খর্ব হচ্ছে কী না, তা ব্যাখ্যা করা দরকার।’

সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন হচ্ছে, মামলা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা বলেছি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করতে হলে আপনি প্রেস কাউন্সিলে আসেন। কিন্তু তা না করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হচ্ছে। তাহলে আপনাকে অজামিনযোগ্য ধারায় আটকে রাখতে পারবে। কাজেই সাংবাদিকদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। নিরাপত্তার জায়গায় আমরা হুমকির মধ্যে আছি।’

‘আরেকটি বিষয় হচ্ছে মর্যাদা। সাংবাদিকদের মর্যাদা থাকা দরকার। সরকার একদিকে পত্রিকার ডিক্লারেশন দিচ্ছে, যাদের অ্যাপয়নমেন্ট দেওয়া হলো, তাদের নিয়োগপত্র দেওয়া হয় না। যাদের নিয়োগপত্র দেওয়া হলো তাদের বেতন দেওয়া হয় না। বেতন দেওয়া হলেও বেশি সময়ের বেতন বাকি থাকে। বেতন চাইতে গেলে চাকরি চলে যায়। তাহলে সাংবাদিকদের মর্যাদা কোথায়। কাজেই আজকে অধিকার, নিরাপত্তা, মর্যাদা; এই তিনটি জায়গাতেই সাংবাদিকেরা বিব্রতকর অবস্থায় আছে, অস্বস্তিকর অবস্থায় আছে। এখন সাংবাদিকেরা মাঠে নেমেছে, এ বিষয়ে কোনো বিতর্ক নেই’ বলেন মনজুরুল আহসান বুলবুল।

সমাবেশে বিএফইউজের সভাপতি ওমর ফারুক বলেন, ‘গত চার বছর যাবত সংবাদমাধ্যম বেতন স্কেল (ওয়েজবোর্ড) ছাড়া পরিচালিত হচ্ছে। এটি দেখা সরকারের দায়িত্ব।’

তিনি আরও বলেন, ‘ওয়েজবোর্ডের কোথাও বলা নাই, টেলিভিশন-অনলাইনে তা চালু করা যাবে না। ওয়েজবোর্ড চালু না হলে আমাদের কঠিন থেকে কঠিনতর কর্মসূচিতে যেতে হবে।’

বিএফইউজের মহাসচিব দীপ আজাদ বলেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৩২ ধারাসহ যেসব ধারা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থি; সেসব ধারাগুলো বাতিল করতে হবে। সম্প্রতি সরকার ২৯টি প্রতিষ্ঠানকে তথ্য পরিকাঠামোর আওতায় এনেছে। আমাদের দাবি ২৯টি প্রতিষ্ঠানকে তথ্য পরিকাঠামোর বাইরে আনতে হবে। অন্যথায় আমরা মাঠে নামতে বাধ্য হবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিজ্ঞাপন ও ক্রোড়পত্রের সঙ্গে যারা দুর্নীতি করছে, অবিলম্বে তাদের শাস্তি দিতে হবে।’

ডিইউজের সভাপতি সোহেল হায়দার চৌধুরী বলেন, ‘অবিলম্বে নবম ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন করতে হবে। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হামলা-মামলা বন্ধ করতে হবে। আমাদের দাবি-দাওয়া যদি মেনে না নেওয়া হয়, তাহলে আগামী ২২ নভেম্বর ঠিক এই জায়গায় (জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে) আমরা প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালন করব।’

বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে উত্থাপিত দাবিসমূহের প্রতি বিএফইউজে, সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম, ল রিপোর্টার্স ফোরামের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত হয়ে একাত্বতা প্রকাশ করে।

বিক্ষোভ সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ শাহেদ চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি কদ্দুস আফ্রাদ, ডিইউজের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আকতার হোসেন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি নজরুল ইসলাম মিঠু, ডিইউজের সহ-সভাপতি মানিক লাল ঘোষ, দপ্তর সম্পাদক আমানুল্লাহ আমান, সাব এডিটর কাউন্সিলের সাবেক সভাপতি কে এম শহিদুল হক, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসান হৃদয়, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান বাবু, সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি তপন কুমার ঘোষ প্রমুখ।

সারাবাংলা/কেআইএফ/একে



বার্তা সূত্র