দর্শকের পছন্দই তৌসিফের পছন্দ

দর্শকের পছন্দই তৌসিফের পছন্দ

অপূর্ব ও আফরান নিশোর পর ছোটপর্দায় যারা কাজ করছেন তাদের মধ্যে তৌসিফ মাহবুবের ব্যস্ততা ও চাহিদা উল্লেখ করার মতো। ধীরে ধীরে ছোটপর্দার নিজের অবস্থান পোক্ত করেছেন এই অভিনেতা। শুরুটা হয়ের্ছিল বিজ্ঞাপনচিত্র দিয়ে। তিনি সেই সৌভাগ্যবান অভিনেতার একজন যার প্রথম নাটকই ছিল বেশ আলোচিত। মেধাবী নির্মাতা আদনান আল রাজীবের ‘অ্যাট এইটটিন অলটাইম দৌড়ের ওপর’ নাটক দিয়ে তার অভিনয়যাত্রা শুরু। এই একই নাটক দিয়ে শুরু হয় শবনম ফারিয়া ও সাফা কবিরের। তারাও এখন ছোটপর্দার অন্যতম জনপ্রিয় মুখ। যাই হোক, তৌসিফ তার পরিশ্রম ও বুদ্ধিমত্তা দিয়ে আজকের অবস্থানে পৌঁছে গেছেন। ক্যারিয়ার, সংসার জীবন সব মিলিয়ে দারুণ সময় কাটছে তার। এই অভিনেতা এখন কোরবানির ঈদ সামনে রেখে নাটকে অভিনয় নিয়ে ব্যাস্ত সময় পার করছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘রোজার ঈদের পরপরই দীর্ঘ একটা বিরতি নিয়েছিলাম নাটক থেকে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় কাজে ফেরা হয়নি। বাসায় বসে অভিনয়ের ঘাটতি রয়েছে আমার এমন দিক কোনটি? সেটি বের করেছি। বিরতির পর পুরোদমে শ্যুটিং করছি।’

প্রায় এক দশকের ক্যারিয়ারে অনেকের সঙ্গেই কাজ করছেন। কিন্তু কাদের সঙ্গে কাজ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কো-আর্টিস্টদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে দারুণ সব অভিজ্ঞতা আমার হয়েছে। বিভিন্নজন বিভিন্ন গুণের কারণে আমার কাছে প্রিয়। তাই আলাদা করে কারও নাম বলতে চাই না।’

কোরবানির ঈদের কাজের পরিকল্পনা নিয়ে তৌসিফ জানালেন, ‘কোরবানির ঈদের এখনো এক মাসের বেশি বাকি। ঈদকে সামনে রেখে শিহাব শাহীন, মাবরুর রশীদ বান্নাহ, মিফতা আনানসহ বেশ কিছু পরিচালকের সঙ্গে একাধিক নাটকে চুক্তিবদ্ধ হয়েছি। নাটকের নাম এখনো ঠিক হয়নি। বেশ কিছু নাটকের শ্যুটিং বাকি রয়েছে। দেশে যেহেতু লকডাউন চলছে, তাই কাজের ক্ষেত্রে কিছুটা ধীরেসুস্থে এগোচ্ছি। আমার ফ্যান পেইজে চোখ রাখলে দর্শক নাটকের নাম জানতে পারবে।’

এবারের ঈদে সর্বাধিক ৪৭টি নাটক প্রচারিত হয়েছে আপনার, কী মনে হয়, কাজের মান ধরে রাখতে পেরেছেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘ইউটিউবে আমার বত্রিশটি নাটক আপলোড করা হয়েছে। প্রতিদিন সাত-আটটি করে নাটক রিলিজ হচ্ছে। বাকি পনেরোটি পর্যায়ক্রমে ইউটিউবে দর্শক দেখতে পারবেন। ইতিমধ্যে প্রচারিত নাটকের ভিউ ওয়ান মিলিয়ন ছাড়িয়েছে। কাজ করতে গিয়ে মনে হয়েছে ভালো কাজ করলে মানুষ অল্প সময়ে লুফে নেবেন। নাটকের গল্প ও মান দুটোর বেশ উন্নতি হয়েছে। মানুষ আমাকে গণ্য করছে একজন ভালো অভিনেতা হিসেবে। দর্শকের কাছে আমার গ্রহণযোগ্যতার পাল্লাটা আরও ভারী হয়েছে। মিজানুর রহমান আরিয়ান পরিচালিত ‘চিরকাল’ নাটক প্রচারিত হওয়ার পর থেকে।’

সংখ্যায় বিচার করলে আপনার কমেডি নাটকই বেশি? এর কারণ জানতে চাইলে তৌসিফ বলেন, ‘রোমান্টিক নাটকের চাইতে কমেডি নাটকে কাজ করা হয়েছে বেশি। রোমান্টিক নাটকের জন্য শিল্পীকে চরিত্রের সঙ্গে মানিয়ে অভিনয় করতে হয়। কখনো কাঁদতে হয়। সেক্ষেত্রে একটা কমেডি নাটকের শ্যুট হাসতে হাসতে শেষ করা যায়। কমেডির বাইরে গুটিকয়েক রোমান্টিক নাটকে দর্শক আমার অভিনয় পছন্দ করেছেন। তারা আমার অভিনয় দেখে হেসেছেন। কখনো রোমান্টিক নাটক দেখে দর্শকের হৃদয় জুড়ে গিয়েছে। তবে দর্শক ভালোবাসার নাটকে আমাকে বারবার দেখতে চেয়েছেন।’

প্রতিনিয়ত নতুন নতুন প্ল্যাটফর্ম তৈরি হচ্ছে। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন? ‘একাধিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি হওয়ায় কম্পিটিশন এখন হাড্ডাহাড্ডি। শিল্পীর সঙ্গে সঙ্গে ভালো কাজগুলো সহজে প্রচার হচ্ছে। প্রযোজক, পরিচালক, অভিনেতা উভয়পক্ষের জন্য লাভদায়ক বলে আমি মনে করি’ বললেন তৌসিফ।

‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ ধারাবাহিকটি তৌসিফের ক্যারিয়ারের অন্যতম জনপ্রিয় নাটক। কিন্তু শেষ সিজনে তিনি কাজ করেননি। এ নিয়ে শোবিজে অনেক ধরনের জল্পনা-কল্পনা রয়েছে। শোনা যাক তার মুখের ভাষ্য, ‘হঠাৎ ব্যাচেলর পয়েন্টে না থাকার পেছনে তেমন কোনো কারণ নেই। চরিত্রটিতে আমি ড্রপ আউট করেছি। তবে ব্যাচেলর পয়েন্ট করতে গিয়ে দর্শকের অনেক ভালোবাসা পেয়েছি। তারা আমাকে উপভোগ করতে পেরেছেন। বিভিন্ন মাধ্যমে তাদের বার্তা লিখেন আমাকে আবার নেহাল চরিত্রে দেখতে চান। কিন্তু ব্যাচেলর পয়েন্টে পুনরায় ফেরা নিয়ে তেমন কোনো পরিকল্পনা নেই।’

তারকারা লম্বা সময়ের জন্য ছুটি কাটাতে বিদেশ ছুটছে। তবে তৌসিফ যেতে পারছেন না ভিসা জটিলতার কারণে। তিনি জানালেন, ‘বিদেশ যাত্রায় এখন কিছুটা বিধিনিষেধ রয়েছে। ভিসা নেওয়ার জন্য বিভিন্ন দেশের পারমিশন চেয়েছি। অনুমতি পেলে বলতে পারব কোথায় যাচ্ছি। শ্যুটিং নয়, ব্যক্তিগত কারণেই বিদেশ যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ডাক্তারি পরামর্শের জন্য যাওয়াটা এখন খুব জরুরি হয়ে গেছে আমার জন্য।’



বার্তা সূত্র

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email