Skip to content

তিন বিভেদে মানুষ বারুদের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে

তিন বিভেদে মানুষ বারুদের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে

মুক্তিযুদ্ধের সময় মানুষ একে অপরকে রক্ষা করলেও এখন নিশ্চিহ্ন করতে উঠে পড়ে লেগেছে। রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও জাতিগত বিভেদের কারণে মানুষ বারুদের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। সম্প্রীতি বাড়ানো না গেলে দেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকার।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাব্রতী সংস্থা দি হাঙ্গার প্রজেক্ট এবং যুক্তরাজ্যভিত্তিক ফ্রিডম অব রিলিজিয়ন অর বিলিফ লিডারশিপ নেটওয়ার্কের (ফোর্ব) যৌথ আয়োজনে ‘সামাজিক সম্প্রীতি সংলাপ’ অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।
হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত বলেন, জেনারেল জিয়া ক্ষমতায় আসার পর সংবিধানের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ যোগ করলেন। পাকিস্তান রাষ্ট্রের আদলে দেশ চালাতে লাগলেন। এরশাদ এসে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম করলেন এবং এর মাধ্যমে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত করলেন ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের। এ সরকারের ১৩ বছরেও তাই হয়েছে। আর এজন্য দায়ী রাজনীতিবিদরা। বস্তুত নাগরিকদের নাগরিক না ভেবে ধর্ম দিয়ে বিবেচনা করলে সাম্প্রদায়িকতা গেড়ে বসবেই।

হাঙ্গার প্রজেক্টের গ্লোবাল ভাইস প্রেসিডেন্ট ও কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, সম্প্রীতি না থাকলে উন্নয়ন হয় না। উন্নয়ন হলেও টেকসই হবে না। বিভাজনের রাজনীতি, ধর্মীয় অসহিষুষ্ণতা এবং জাতিগত বিভেদের কারণে সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা একে অপরকে রক্ষা করলেও এখন নিশ্চিহ্ন করতে উঠে পড়ে লেগেছি।

জাতীয় পার্টির নেতা সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমরা পূজামণ্ডপে আঘাত আসতে দেখেছি। অথচ সাধারণ মানুষের মধ্যে কেউ এগিয়ে এলো না মণ্ডপ রক্ষার্থে। বর্তমানে দেশের সব জায়গায় আওয়ামী লীগের পক্ষের লোক পাওয়া যায়। কিন্তু আওয়ামী লীগের কোনো মেম্বার, কাউন্সিলর বা নেতাকে মণ্ডপ রক্ষার্থে এগিয়ে আসতে দেখিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, সব মানুষের জন্য একটি বাংলাদেশ সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে দেশ স্বাধীন হলেও এ দেশ সব মানুষের হয়নি। উল্টো এ দেশ হয়েছে কতিপয় লুটেরাদের। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এখন ট্রাক থেকে চাঁদাবাজি করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে নারী শিক্ষার্থীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন করা হচ্ছে। শিক্ষাব্যবস্থার ক্ষেত্রে একটা সংকট তৈরি হয়েছে। এটাই সামাজিক সম্প্রীতির প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর পেছনে কারণ কী তা কর্তাব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে হবে। এটা শিক্ষার্থীদের সমস্যা, নাকি আমাদের পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেছে?

সংলাপে আরও বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য আদিবা আনজুম মিতা, উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, ফোর্বের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. শাহনাজ করীম, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপ্রকল্প পরিচালক (প্রশাসন) মুহাম্মদ রফিক-উল ইসলাম, বাংলাদেশ খ্রিষ্টান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্মল রোজারিও, হাঙ্গার প্রজেক্টের পরিচালক (কর্মসূচি) নাছিমা আক্তার জলি প্রমুখ।



বার্তা সূত্র