Skip to content

ঢামেক-এ লাশের সারি: হাসেম গ্রুপের দুঃখ প্রকাশ, মরদেহের ডিএনএ শনাক্তে এক মাস সময় লাগবে

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আগুনে পোড়া কারখানার ধ্বংসস্তূপ থেকে এখন পর্যন্ত ৫২টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এরমধ্যে ৪৯ জনের মরদেহ নিয়ে আসা হয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) মর্গে। সেখানে সারিবদ্ধ করে রাখা হয়েছে লাশগুলো। তবে, এসব মরদেহের ডিএনএ টেস্ট করে পরিচয় শনাক্ত করতে প্রায় এক মাস সময় লেগে যাবে বলে জানা গেছে।

সিআইডির ফরেনসিক বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার রুমানা আক্তার বলেন, ডিএনএ প্রফাইলিংয়ের মাধ্যমে মরদেহ শনাক্ত করতে ২১ থেকে ৩০ দিন সময় লাগবে। এরপরই পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা যাবে।

তিনি জানান, মরদেহের দাবিদার এখন পর্যন্ত ১২ জন এসেছে। আগামীকাল সকাল ৮টা থেকে আবার নমুনা সংগ্রহ করা হবে। ঢাকা মেডিকেল মর্গের সামনেই নমুনা সংগ্রহ করা হবে।

এর আগে, ঘটনাস্থল থেকে সব মরদেহই পুলিশি পাহারায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে আনা হয় বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স নারায়ণগঞ্জ অফিসের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফীন।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর ছয়তলা ভবনের চতুর্থ তলা পর্যন্ত প্রবেশ করা গেছে। সেখান থেকেই এতগুলো মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ছয়তলা কারখানা ভবনের উপরের দুই ফ্লোরে এখনও আগুন জ্বলছে। আগুন নেভানোর কাজ চলছে এখনও। ধ্বংসস্তূপে তল্লাশিও এখনও শেষ হয়নি।

বৃহস্পতিবার (০৮ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টায় উপজেলার কর্ণগোপ এলাকার হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কারখানার নিচ তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। আগুন লাগার পর কারখানার ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে তখনই তিনজনের মৃত্যু হয়।

এদিকে ঢাকা মেডিকেলে এখন পর্যন্ত চিকিৎসা নিয়েছেন নয়জন। এর মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন মোরসালিন (২৮) নামের একজন। আর হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে ফিরে গেছেন বারেক (৪৮), নাহিদ (২৪), মঞ্জুরুল (২৮), আহাদ (৩৮), লিটন (৪৪)। এ ছাড়া এখনো চিকিৎসাধীন তিনজন হলেন হালিমা (১৩), মাজেদা (২৮) ও আমেনা (৪০)।

হালিমার মা শাহানা জানিয়েছেন, চিকিৎসাধীন তিনজনই কাজ করছিলেন ভবনটির দোতলায়। সবাই ঘটনার সময় দোতলা থেকে নিচে লাফিয়ে পড়ে আহত হয়েছেন।

ওই কারখানায় কিউসি (কোয়ালিটি কন্ট্রোল) ল্যাবের সহকারী হিসেবে কাজ করেন রায়হান আহমেদ। তিনি বলেন, আগুন লাগার পরই ওপর থেকে কয়েকজন লাফিয়ে পড়েন। সেখানে তিন জনের মৃত্য হয়। পরে, কয়েকজন মিলে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে আনা হয়।

এদিকে, সজীব গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান হাসেম ফুডস লিমিটেডে আগুন লাগার ঘটনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ্য করে শোক জানিয়েছে কতৃপক্ষ। এসময় নিহত সকল কর্মচারীর আত্মার মাগফেরাত কামনা করে তাদের পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়।

শুক্রবার (৯ জুলাই) সজীব গ্রুপের চেয়ারম্যান এম এ হাসেম স্বাক্ষরিত এক শোক বার্তায় এসব কথা বলা হয়।

শোক বার্তায় এম এ হাসেম গভীর দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘৮ জুলাই সজীব গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান হাসেম ফুডস লিমিটেডে ঘটে যায় একটি অনাকাঙ্ক্ষিত অগ্নিদুর্ঘটনা। এতে প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগ কর্মচারীরা নিরাপদ স্থানে বেরিয়ে যেতে পারলেও আমার যে সব প্রানপ্রিয় কর্মচারীর  নিহত হন তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং সবসময়ের মত আমার সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে তাদের পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করছি।’

তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে দেশের কর্মসংস্থান উন্নয়ন ও জি ডি পি তে হাসেম ফুডস লিমিটেড যে অবদান রেখে আসছে তার সিংহভাগ এই কর্মকর্তা- কর্মচারীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল। আমি এই কঠিন পরিস্থিতিতে সকলের দোয়া ও একান্ত সহযোগিতা কামনা করছি। আল্লাহ আমাদের সকলকে ধৈর্য ধারণ করার শক্তি দান করুন।’ সূত্র : সময় টিভি