Skip to content

ঢাবি শিক্ষার্থীকে মেরে রক্তাক্ত করলো ছাত্রলীগ

ঢাবি শিক্ষার্থীকে মেরে রক্তাক্ত করলো ছাত্রলীগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়য়ের বিজয় একাত্তর হলের এক শিক্ষার্থীকে লোহার রড দিয়ে মেরে রক্তাক্ত করেছে ছাত্রলীগের এক কর্মী। মঙ্গলবার (৮ নভেম্বর) মধ্যরাতে হলের যমুনা ব্লকে এ ঘটনা ঘটে। 

ছাত্রলীগ কর্মীর অভিযোগ, এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তাকে রাজনৈতিকভাবে ফাঁসানোর জন্য গল্প বানানো হয়েছে। 

অভিযোগকারী ছাত্র বলেন, হলের এক রুমের শিক্ষার্থীকে অন্যরুমে স্থানান্তর করা নিয়ে মারধরের ঘটনা ঘটে। অভিযোগকারী বাংলা বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাসেল মাহমুদ। অন্যদিকে অভিযুক্ত মোনাফ প্রান্ত একই শিক্ষাবর্ষের ইতিহাস বিভাগের ছাত্র। তিনি বিজয় একাত্তর হল শাখা ছাত্রলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য।

রাসেল মাহমুদ বলেছেন, হলের বড় ভাইদের (ছাত্রলীগ নেতা) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত আটটা থেকে সাড়ে আটটার মধ্যে এক ব্লকের শিক্ষার্থীদের অন্য ব্লকে স্থানান্তর করা হচ্ছিল। বিষয়টি তার কক্ষের কেউ আগে থেকে জানতেন না। খবর পেয়ে তিনি তার কক্ষে যান। কক্ষে যেতে তার ১০ থেকে ১৫ মিনিট দেরি হয়। গিয়ে দেখেন, সহপাঠী মোনাফসহ কয়েকজন তাদের ব্যবহৃত জিনিসপত্র কক্ষের বাইরে ফেলে রেখেছে। কারণ জানতে চাইলে মোনাফ তাকে গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে মোনাফ থামেন। এরপর তিনি নিজের জিনিসপত্র গোছাচ্ছিলেন। কিছুক্ষণ পর তার কক্ষের আরেকজন আসেন। তিনিও এসে দেখেন, তার জিনিসপত্র কক্ষের বাইরে ফেলে রাখা হয়েছে। এ নিয়ে রুমমেটের সঙ্গে মোনাফের কথা-কাটাকাটি হয়। হঠাৎ মোনাফ গালিগালাজ করে বলে ওঠেন, ‘সবগুলো একসঙ্গে বের হবি, নইলে খবর আছে, তাড়াতাড়ি রুম থেকে বের হ।’ জবাবে আমি বলি, ‘খবর আছে মানে কী, তুই কী করবি?’ এ কথা বলার পর মোনাফ হাতে থাকা রড দিয়ে তার ওপর হামলা করে। তিনি মেঝেতে পড়ে যান। তার শরীরে মারাত্মক আঘাত লাগে। পরে মোনাফ চলে গেলে রুমমেটরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মোহাম্মদ মোর্তজা চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি হন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগ নেতা মোনাফ বলেন, রাসেল আমার খুব ভালো বন্ধু। সে রাজনৈতিক কারণে আমার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করছে। সে চাপে পড়ে এসব বলছে। আমি এগুলো নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছি না। মোনাফ বিজয় একাত্তর হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আবু ইউনুসের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তাদের দুজনেরই গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জেলায়।

গতকালের ঘটনা সম্পর্কে আবু ইউনুস বলেন, হলের আসন এক্সচেঞ্জ (বিনিময়) হওয়ার কথা ছিল। একজন দেরি করছিল। এ নিয়ে একজনের সঙ্গে আরেকজনের বিবাদ হয়। মারধরের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে মোনাফের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজয় একাত্তর হলের প্রাধ্যক্ষ আবদুল বাছির বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি মানবিক ক্যাম্পাস: উপাচার্য

এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক ক্যাম্পাস হিসেবে মন্তব্য করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষ, গবেষণাগার ও পাঠাগারের পাশাপাশি বিভিন্ন সহ-শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডের অংশগ্রহণ করে দক্ষ ও মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। 

বুধবার (৯ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র মিলনায়তনে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ, জীব বিজ্ঞান অনুষদ, আর্থ এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদ এবং ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি অনুষদভুক্ত বিভিন্ন বিভাগের ১ম বর্ষ স্নাতক সম্মান শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। ছাত্র-নির্দেশনা ও পরামর্শদান দপ্তর এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

ঢাবি উপাচার্য বলেন, শিক্ষার্থীদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মনীতি, সুযোগ-সুবিধা, বিভিন্ন দাফতরিক কার্যক্রম, সেবাসমূহসহ বিভিন্ন সহ-শিক্ষা কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে হবে। পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে পরিবার, শিক্ষক ও সহপাঠীদের সঙ্গে সর্বদা সম্পৃক্ত থাকতে হবে। ক্যাম্পাসের পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণে সচেতন থাকতে হবে।’ উদ্ভাবনমুখী ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের অংশগ্রহণের উপর গুরুত্বারোপ করে সময়ের সদ্ব্যবহার করার জন্য উপাচার্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহবান জানান।

ছাত্র-নির্দেশনা ও পরামর্শদান দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মেহজাবীন হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. হাফিজ মুহম্মদ হাসান বাবু, আর্থ এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. জিল্লুর রহমান, জীব বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এ কে এম মাহবুব হাসান এবং বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. জাকির হোসেন ভূইয়া বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। 

এ সময় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সিকদার মনোয়ার মুর্শেদসহ বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান ও ছাত্র-উপদেষ্টাগণ উপস্থিত ছিলেন।



বার্তা সূত্র