Skip to content

ঢাকা মহানগরে হযবরল অবস্থা

আ.লীগের সহযোগী-ভাতৃপ্রতীম সংগঠন

ঢাকা মহানগরে আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভাতৃপ্রতীম আট সংগঠনে হযবরল অবস্থা চলছে। কোনোটির কমিটির মেয়াদ নেই, কোনোটি পায়নি পূর্ণাঙ্গ কমিটি, কোনো সংগঠনের মহানগর উত্তরে কমিটি থাকলেও দক্ষিণে নেই। কেন্দ্রীয় কমিটির পরেই গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনে এমন এলোমেলো অবস্থা প্রভাব ফেলছে মাঠের কর্মীদের ওপর।

এছাড়া সংগঠনকে প্রধান্য না দিয়ে সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের রাজনীতি করে ভাই লীগে পরিণত করেছেন সংগঠনের নেতারা। এসব একারণেই সংগঠন এলোমেলো ও গ্রুপিংয়ে চলছে অভিযোগ করেছেন বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।

দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলো এভাবে পরিচালিত হওয়ায় দলটির নীতিনিধার্রণী পর্যায়ের নেতারা এই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ যুবলীগ, কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, তাঁতী লীগ। এর মধ্যে তাঁতি লীগ ও শ্রমিক লীগের বিশৃঙ্খলা চরমে।

মহানগর শ্রমিক লীগের কমিটি আছে কি না জানেন না অনেক নেতাই। কারণ হিসেবে মহানগর শ্রমিক লীগের নেতারা বলছেন, মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর ধরে। এরপর থেকে মহানগর কমিটির কোনো কার্যক্রম নেই।

ক্ষোভ প্রকাশ করে তাঁতি লীগ নেতারা বলেছেন, তাঁতী লীগ এখন শুধু নামে চলছে। দলীয় ও দিবস ভিত্তিক কর্মসূচিতেও তাদেরকে রাজনীতির মাঠে দেখা যায় না।

এছাড়া যুবলীগ, কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, তাঁতী লীগ মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও সম্মেলন করার কোনো উদ্যোগ নেই কেন্দ্রীয় কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের।

শ্রমিক লীগের মধ্যে সভাপতি আর সাধারণ সম্পাদকের গ্রুপিং কোন্দল দিনদিন বেড়েই চলছে। সেই সঙ্গে কমিটি বাণিজ্যের অভিযোগও পাহাড় সমতুল্য। এই নিয়ে সংগঠটির নেতারাও হতাশা প্রকাশ করেছেন।

গত ডিসেম্বর মাসে মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা, ছাত্রলীগের সম্মেলন হলেও তিন মাসেও কমিটি করতে পারেনি তারা। তবে ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা জানিয়েছেন কমিটি গঠনের কাজ চলছে।
মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির তালিকায় আলোচিত ঢাকা মহানগর যুবলীগ, শ্রমিক লীগ, স্বোচ্ছাসেবক লীগ। এরমধ্যে মহানগর যুবলীগের সম্মেলন হয়েছে প্রায় এক যুগ আগে। সংগঠনটির নেতাকর্মীরা বির্তকিত কর্মকাণ্ড করে আলোড়ন সৃষ্টি করলেও নতুন নেতৃত্ব গঠনে কোনো উদ্যোগ নেই দায়িত্বপ্রাপ্তদের। এই কারণে মহানগর যুবলীগের জৌলুস হারাতে বসছে। দীর্ঘদিন ধরে সম্মেল না হওয়ায় বর্তমান কমিটির নেতৃত্বে গতিহীন পরছে সংসঠটি জানিয়েছেন যুবলীগের নেতারা।

এছাড়া ঢাকা মহানগরে কৃষক লীগের উত্তর কমিটি থাকলেও দক্ষিণে পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই। কৃষক লীগের সভাপতি সমীর চন্দ্র ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আগামী নির্বাচনের আগে ঢাকা মহানগর কৃষক লীগের কমিটি করার কাজ চলছে।’

আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘নির্বাচনের আগে ঢাকা মহানগর যুবলীগের সম্মেলন হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এর আগে ওয়ার্ড কমিটি করার কাজ চলছে। ওয়ার্ড কমিটি শেষ হওয়ার পরে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ যুবলীগের সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি করা হবে।’

শ্রমিক লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নূর কুতুব আল মান্নান ঢাকা টাইমস বলেন, ‘শুধু ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের কমিটি নয়, সারাদেশে যেসব জেলায় কমিটি করা হয়নি সেসব জেলায় কমিটি করার জন্য কাজ চলছে। আগামী নির্বাচনের আগে কমিটি করা হবে।’

শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক আজম খসরু ঢাকা টাইমস বলেন, ‘ঢাকা মহানগর কমিটি করব কি না এটা আপনার (প্রতিবেদক) কাছে জবাবদিহি করবো কেন? আমি ভিডিও কলে কথা বলি মোবাইলে কথা বলি না।’

মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শবনম জাহান শিলা ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আমাদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি এবং মহানগর কমিটি করার কাজ চলছে। আমরা নেতাকর্মীদের কাছে থেকে সিভি নিচ্ছি। কমিটি যখন হবে সবাই জানতে পারবেন। আগামী নির্বাচনের আগেই কমিটি করা হবে।’
যুব মহিলা লীগের সভাপতি ডেইজি সারওয়ার ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে কাজ চলছে। এরমধ্যে আমরা একটি খসড়া তালিকা তৈরি করেছি। যাচাই-বাছাই করে কেন্দ্রীয় কমিটির ও মহানগর কমিটি একসঙ্গে ঘোষণা হবে।’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি রাজিবুল ইসলাম বাপ্পি ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আগামী নির্বাচনের আগেই ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের কমিটি করা হবে। যারা ত্যাগী এবং আগের কমিটিতে ছিল তাদেরকে কমিটিতে রাখা হবে। সবকিছু যাচাই-বাছাই করে কমিটি গঠনের কাজ চলছে।’

ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্র লীগের সভাপতি রিয়াজ মাহমুদ ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আমাদের সম্মেলন হয়েছে। এখন আমরা পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। যাচাই-বাছাই করে কমিটি করা হবে।’

(ঢাকাটাইমস/২০ফেব্রুয়ারি/ডিএম)



বার্তা সূত্র