ঢাকায় আকস্মিক নয়টি পরিবহনে আগুন

প্রাপ্তি রহমান, বেনার নিউজ: বৃহস্প​তিবার দুপুর থেকে বিকেলের মধ্যে হঠাৎ করে ঢাকায় নয়টি বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। পুলিশ কর্মকর্তাদের ধারণা, নাশকতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘পরিকল্পিতভাবে’ই বাসে আগুন দিয়েছে কেউ।

এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত দশজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে বেনারকে জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ওয়ালিদ হোসেন।

“প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, নাশকতা সৃষ্টির লক্ষ্যে দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে বাসে আগুন দিয়েছে,” জানিয়ে ওয়ালিদ হোসেন বলেন, “সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ, প্রত্যক্ষদর্শী ও বিভিন্ন স্থানে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের সহযোগিতায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।”

এদিকে বাসে আগুনের ঘটনার জন্য বিরোধী দল বিএনপি সরকারি দল আওয়ামী লীগের দিকে আঙুল তুলে বলেছে, এর মাধ্যমে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর নতুন করে নির্যাতন ও হয়রানি ​নেমে আসবে।

অন্যদিকে সরকার সমর্থক স্বেচ্ছাসেবক লীগ এ ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীতে মিছিল করেছে, যদিও ঘটনার জন্য সরাসরি কাউকে দায়ী করেনি তারা।

তবে সরকারের পক্ষ থেকে এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

বৃহস্পতিবার ছিল ঢাকা-১৮ সংসদীয় আসনে উপনির্বাচন। এই নির্বাচনে সরকারি দল আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।

সংসদ উপনির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিএনপি নেতা–কর্মীরা সকালে নয়া পল্টনে মিছিল বের করে। এর কিছু সময় পর বেলা ১২টা ৫ মিনিটের দিকে বাস পোড়ানোর প্রথম ঘটনাটি ঘটে।

“উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটেছে কি না, সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে,” বলেন ওয়ালিদ হোসেন।

এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বেনারকে বলেন, “এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা পূর্ব পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যমূলক।”

তিনি বলেন, “ঢাকা-১৮ ও সিরাজগঞ্জ-১ আসনের উপ-নির্বাচনে ক্ষমতাসীনদের ভোট ডাকাতি, বিএনপির প্রার্থীদের এজেন্টদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে না দেয়া এবং জনগণের ভোটের অধিকার হরণের প্রকৃত চিত্র আড়াল করতে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে গণপরিবহনে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।”

“এসব দুষ্কর্মের দায়-দায়িত্ব বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর ষড়যন্ত্রমূলকভাবে চাপিয়ে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা দায়ের এবং হয়রানি করতে চায় সরকার,” বলেন মির্জা ফখরুল।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার মাশুকুর রহমান মাশুকসহ কমপক্ষে ১২ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে বাসে আগুন লাগানোর ঘটনার পরপরই পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের পাহারা বসানো হয়।

এ প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ঘিরে রেখে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে।

তিনি অবিলম্বে গ্রেপ্তারকৃত নেতা-কর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের রাজনৈতিক কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে পুলিশ সরিয়ে নেওয়াসহ হয়রানি বন্ধ করার দাবি জানান।

ক্ষতিগ্রস্ত বেশিরভাগ বাস

ঢাকা মহানগর পুলিশের ক্রাইম কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারের পরিদর্শক গোলাম রাব্বানী স্বাক্ষরিত তথ্য অনুযায়ী, দুপুর ১২টা ৫ মিনিট থেকে বিকাল ৪ টা ২৫ মিনিটের মধ্যে নয়টি সরকারি ও বেসরকারি বাসে আগুন দেওয়া হয়েছে। তবে কোথাও কেউ হতাহত হননি।

গোলাম রাব্বানীর লিখিত তথ্যমতে, প্রথম আগুনের ঘটনা ঘটে পল্টন থানা এলাকায় অবস্থিতি বিএনপি অফিসের উত্তর পাশে শাহজাহানপুর এলাকায়।

এরপর পর্যায়ক্রমে মতিঝিলের মধুমিতা সিনেমা হল, গুলিস্তানে গোলাপ শাহ মাজার, শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেট, বাংলাদেশ সচিবালয়ের উত্তর পাশে, বংশাল থানার নয়াবাজার এলাকা, পল্টন থানা এলাকা, মতিঝিল থানার পূবালী পেট্রোল পাম্প এবং ভাটারা থানার কোকাকোলা মোড় এলাকায় যানবাহনে আগুন লাগানো হয়।

ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বরত কর্মকর্তা রাসেল শিকদার সাংবাদিকদের বলেন, প্রতিটি ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস আগুন নেভানোর কাজ করেছে। তবে বেশিরভাগ বাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কয়েকটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে​।

এর আগে ২০১৫ সালের ৪ জানুয়ারি নির্বাচনের এক বছর পূর্তির দিন জ্বালাও-পোড়াও শুরু হলে এসব ঘটনার জন্য বিএনপি-জামায়াত জোটকে দায়ী করে সরকার।

ওই সময় ২৩১ জন নিহত হন, যাদের বেশিরভাগই পেট্রোল বোমা এবং আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা যান। ওই ঘটনায় আহত হন আরো ১ হাজার ১শ’ ৮০ জন। সেসময় ২,৯০৩টি গাড়ি, ১৮টি রেলগাড়ি এবং ৮টি যাত্রীবাহী জাহাজে আগুন লাগানো হয়।

-বেনার নিউজ, ইউএসএ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।