Skip to content

জাতীয় সংসদে জামায়াতের অনুপস্থিতির প্রশংসা করলেন সংখ্যালঘু নেতারা

জাতীয় সংসদে জামায়াতের অনুপস্থিতির প্রশংসা করলেন সংখ্যালঘু নেতারা

বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামীর অনুপস্থিতিকে স্বাগত জানিয়েছে দেশটির সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতারা। সম্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক সভায়, বাংলাদেশর বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ৬০ জনের বেশি নেতা তাদের এই মত প্রকাশ করেন।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও এর ফলাফল মূল্যায়নের জন্য দেশের বৃহত্তম সংখ্যালঘু প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদের নিয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

রুদ্ধদ্বার এই সভায় সংবাদমাধ্যমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। সভায় উপস্থিত ছিলেন, এমন একাধিক নেতা এই তথ্য জানিয়েছন।

সভায় বলা হয়, অতীতে তারা (জামায়াত) বিএনপির সঙ্গে জোট করে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন এবং সংসদে দেয়া বক্তব্যে সাম্প্রদায়িক প্রচারণা চালিয়েছেন।

সেই পরিস্থিতি বিবেচনায়, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতারা, জামায়াতের সংসদে না থাকাকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ভবিষ্যতের জন্য, ‘আশা এবং ভরসা জাগানোর’ নতুন কারণ বলে অভিহিত করেন।

নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন হারানোর পর, জামায়াত বাংলাদেশের কোনো নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। আওয়ামী লীগ সরকার নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি নাকচ করে দিলে, জামায়াতের অন্যতম প্রধান মিত্র বিএনপি ভোট বর্জন করে।

সভায় বলা হয়, আহমদিয়া সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক প্রচারণা চালানোর লক্ষ্যে, বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন করেছে জামায়াত। সভায় যোগ দেয়া নেতারা হতাশা প্রকাশ করেন। তারা উল্লেখ করেন যে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট এখনো একই ধরনের দাবিতে অটল রয়েছে।

জামায়াত ক্ষমতায় গেলে শরিয়াহ আইন প্রণয়নের ঘোষণা দেয়ার পরও, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ক্ষমতার জন্য, আন্দোলনে সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন বলে সভায় নেতারা উল্লেখ করেন।

বৈঠকে একাধিক বক্তা বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটকে পাকাপোক্ত করার উদ্যোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠানকে একটি অপরিহার্য নির্দেশক বলে মনে করেন।

নির্বাচনের ফলাফল, সংখ্যালঘু ভোটারদের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করেছে বলেও উল্লেখ করেন তারা। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলেও তারা মনে করেন।

বৈঠকে অংশ নেয়া মানবাধিকার কর্মী রঞ্জন কর্মকার বলেন, জামায়াত ও বিএনপির পাঁচ দশকের সাম্প্রদায়িক মনোভাবের বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণের ভিত্তিতে তাদের জোটকে মূল্যায়ন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনে না এসে, রাজপথে দেশের ভাগ্য নির্ধারণে তারেক রহমানের আহবানের নিন্দা জানিয়েছেন বক্তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ।

বাংলা ভাইয়ের মতো উগ্র ধর্মীয় জঙ্গি ও ধর্মান্ধদের প্রতি তাদের ঐতিহাসিক পৃষ্ঠপোষকতা এবং সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় হত্যাযজ্ঞ চালানো সাম্প্রদায়িক শক্তির দায়মুক্তি নিশ্চিত করার কথাও আলোচনায় উল্লেখ করেন নেতারা।

প্লাটফর্মটির প্রেসিডিয়াম সদস্য কর্মকার বলেন, এ ধরনের অপরাধকে নতুন করে অস্বীকার করার মধ্য দিয়ে, এই ইঙ্গিত বহন করে যে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত প্রধান ধর্মনিরপেক্ষতার পরিচয়দানের বিষয়ে প্রশ্নবিদ্ধ।

গত ২০১৬ সালে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে রোমান ক্যাথলিক চার্চের কলেজ অফ কার্ডিনালস-এ আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত হন ডি’রোজারিও।

ডি রোজারিও বলেন, “বর্তমান সরকারের অধীনে, খ্রিস্টানরা সমর্থন পেয়েছে; এটা বলা নিরাপদ যে তারা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।”

সভার পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসে যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানিয়েছেন এবং সেই আমলে (বিএনপি জামায়াত জোট) সংখ্যালঘু ও প্রগতিশীল শক্তির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা গণহত্যায় সারা দেশে সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর প্রায় ২৮ হাজার সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়।

এছাড়া, মঠ পোড়ানো, হিন্দু ভোটারদের ওপর হামলা ও উত্তরাঞ্চলের নারী ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শনে বিএনপি ও জামায়াতের সদস্যদের জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিএনপি ও জামায়াত এসব অভিযোগকে অপপ্রচার উল্লেখ করে প্রত্যাখ্যান করেছে।

সূত্র: ভয়েজ অব আমেরিকা