চিন থেকে ৬ লাখ টিকা আনতে বিমান পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ

বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী।

ঋদি হক: ঢাকা

চিন সরকারের উপহারের আরও ৬ লাখ টিকার (Chinese vaccine) চালান আনতে পাঠানো হচ্ছে দু’টো সি-১৩০ বিমান। সব ঠিকঠাক থাকলে টিকা রবিবার বাংলাদেশে আসবে। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘পদ্মা’য় সাংবাদিকদের এ সব কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী (Bangladesh foreign minister) ড. এ কে আব্দুল মোমেন (Dr. A K Abdul Momen)। 

ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে তৈরি অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনা টিকা (Covid vaccine) দিয়ে বাংলাদেশে গণটিকাদান শুরু হয়েছিল গত ফেব্রুয়ারিতে। সেরাম থেকে ৩ কোটি ডোজ টিকা কেনার চুক্তি হলেও ভারতে অতিমারি ভয়ংকর রূপ নিলে টিকার রফতানি বন্ধ করে দেয় সে দেশের সরকার। ৭০ লাখ ডোজ টিকা পাওয়ার পর বাংলাদেশে আর কোনো টিকা পায়নি।

চিনের কাছে দরবার

পরবর্তী কালে টিকার জন্য চিনের দিকে হাত বাড়ায় বাংলাদেশ। চিন ইতিমধ্যে সিনোফার্মের (Sinopharm) ৫ লাখ ডোজ টিকা উপহার হিসেবে পাঠিয়েছে। যা ২৫ মে প্রয়োগ শুরু করা হয়।

আরও ৬ লাখ ডোজ সিনোফার্মের টিকা উপহার দেওয়ার কথা জানায় চিন। সর্বশেষ চিনের দ্বিতীয় টিকা হিসেবে বাংলাদেশে জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন পায় সিনোভ্যাক লাইফ সায়েন্সেস কোম্পানির তৈরি করোনার টিকা।

চিন থেকে দেড় কোটি ডোজ টিকা কেনার পাশাপাশি বাংলাদেশে চিনা টিকা উৎপাদন নিয়েও আলোচনা চলছে। রাশিয়ার স্পুটনিক-ভি (Sputnik V) টিকা আমদানি এবং যৌথ উৎপাদনের বিষয়েও আলোচনা চলছে।

টিকা উৎপাদনের চেষ্টা

বিদেশমন্ত্রী বলেন, “কোভিড ভ্যাকসিন যাতে আমরা দেশে উৎপাদন করতে পারি, সেই চেষ্টা করছি। এ ব্যাপারে এখনও সব কিছু ইতিবাচক। আমরা আশা করি, খুব শিগগির ঘোষণাও করতে পারব। কোন ওষুধ কোম্পানিকে ওরা গ্রহণ করবে, এটা তাদের উপর নির্ভর করছে। তারা এসে পরীক্ষানিরীক্ষা করবে, তার পর সক্ষমতা দেখে তাদের যৌথ উৎপাদনের সুযোগ দেবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা সেই প্রত্যাশা করছি খুব দ্রুত হবে এ সব কাজ। তখন আর কোভিড ভ্যাকসিনের জন্য হাহাকার থাকবে না। আশা করি, আমরা রফতানিকারক হব।”

চিনা কমিউনিস্ট পার্টির উপহার

চিন সরকারের পাশাপাশি চিনা কমিউনিস্ট পার্টিও চিকিৎসা সরঞ্জাম উপহার পাঠাচ্ছে। এ কথা জানিয়ে ড. মোমেন বলেন, চিনা কমিউনিস্ট পার্টি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জন্য বিভিন্ন রকম চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠাচ্ছে। টিকার জন্য যাওয়া উড়োজাহাজেও এর একটা অংশ আসবে।

টিকা সর্বজনীন না হওয়ায় হতাশ বিদেশমন্ত্রী

টিকা সর্বজনীন না হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে সাংবাদিক বৈঠকে হতাশা প্রকাশ করেন ড. মোমেন। বলেন, “আমাদের প্রধানমন্ত্রী প্রথম দিন থেকে বলে আসছিলেন, কোভিড ভ্যাকসিন হবে জনগণের সম্পত্তি, কোনো ধরনের বৈষম্য ছাড়া সব দেশের লোকের এটা পাওয়া উচিত। এটা আমরা জোরালো ভাবে বলেছি।”

এর বিপরীতে ধনী দেশগুলো মোট টিকার ৯৯.৭০ শতাংশ তাদের দখলে রাখছে। এই তথ্য উল্লেখ করে এই বৈষম্যের সমালোচনা করেন ড. মোমেন।

তিনি বলেন, “আমরা খবর পেয়েছি, অস্ট্রেলিয়া ৯৩.৮ মিলিয়ন (৯ কোটি ৩৮ লক্ষ) ভ্যাকসিন সংগ্রহ করে রেখে দিয়েছে। আমরা তাদেরও অনুরোধ করেছি টিকা পাঠানোর জন্য। তারাও বলেছে দেবে। সবাই বলে দেবে, কিন্তু হাতে আসছে না।”

আরও পড়ুন: সেপ্টেম্বরে ফের ভাসানচরে রোহিঙ্গা স্থানান্তর করবে বাংলাদেশ

বার্তা সূত্র

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email