Skip to content

চা বাগানে নারী ও শিশু পাচার রুখে মেয়েদের আলোর পথ দেখাচ্ছে নেহা

চা বাগানে নারী ও শিশু পাচার রুখে মেয়েদের আলোর পথ দেখাচ্ছে নেহা

#আলিপুরদুয়ার: তুরতুরি চা বাগানের অতি সাধারণ আদিবাসী মেয়ে নেহা। বি .এ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী নেহাই এখন চা বাগানের মেয়েদের জীবনে রীতিমত আলোর পথ দেখাচ্ছে। হয়ে উঠেছেন অন্যদের রোল মডেল। উনিশ বছরের মেয়ে নেহা,
শিশু পাচার, বাল্যবিবাহ, যৌন নির্যাতন, গার্হস্থ্য হিংসা রোধে নিজের চা বাগানে পাঁচটি দল তৈরি করেছিলেন। আর সেই দল কাজ করেছিল রীতিমত গোয়েন্দাদের মতন। যেখানেই শিশু পাচার,বাল্যবিবাহ, যৌন নির্যাতন গার্হস্থ্য হিংসার মত ঘটনা ঘটছে, ওই গোয়েন্দারা সে খবর পৌঁছে দিচ্ছে তার কাছে। সিনি এবং প্রশাসনের সাহায্যে সে অন্যায় রুখে দিয়েছে নেহা। তার উদাহরণও রয়েছে অনেক। ছয় মাস আগের ঘটনা। কুমারগ্রাম ব্লকে তুরতুরি চা-বাগানের দুই কিশোরীকে দিল্লিতে পাচার করার জন্য নিয়ে যাচ্ছিল এক পাচারকারী। খবর পেয়ে নেহা রুখে দাঁড়ায় ওই পাচারের বিরুদ্ধে। তাকে ভুল বুঝে গ্রামবাসীর একাংশ নেহাকে হেনস্তা করে। কিন্তু তবুও সে পিছু হটে নি। পুলিশ এবং সিনি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার অসিত শিকদারের সাহায্যে শেষ পর্যন্ত সে পাচার রুখে দিতে পারে । শুধু এটাই নয় এমন আরো কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। পরে গ্রামবাসীরাও তাঁদের ভুল বুঝতে পারে।

এক কিশোরীর বিয়ে রুখতে গিয়েও নেহাকে গ্রামবাসীদের রোষের মুখে পড়তে হয়।চাইল্ড লাইনের সাহায্যে শেষ পর্যন্ত ওই নাবালিকার বিয়ে রুখল নেহা। মঙ্গলবার তারই স্বীকৃতি মিলল তাঁর। আন্তর্জাতিক নারী দিবসের অনুষ্ঠানে তাঁকে সাহসিকতার বিশেষ পুরস্কার তুলে দিল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নারী, শিশু বিকাশ ও সমাজ কল্যাণ দফতর এবং পশ্চিমবঙ্গ মহিলা কমিশন। কলকাতা রবীন্দ্রভবনে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের অনুষ্ঠানে তার হাতে পুরস্কার তুলে দেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নারী, শিশু বিকাশ ও সমাজ কল্যাণ দফতরের প্রধান সচীব সংঘমিত্রা ঘোষ এবং পশ্চিমবঙ্গ মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন লীনা গঙ্গোপাধ্যায়। জানা গিয়েছে, শুধু নারী ও শিশুপাচার বা বাল্যবিবাহ রুখে দেওয়াই নয়, শিশুদের সচেতনের জন্য এলাকার অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে সিনির তত্ত্বাবধানে কাজ করে যাচ্ছে নেহা । কিশোর কিশোরীদের নানা বিষয়ে সচেতন করার কাজও চালিয়ে যাচ্ছেন নেহা। নেহা নারী পাচার এবং বাল্য বিবাহের মত সমাজের ব্যাধীর বিরুদ্ধে এমন কাজ করে জেলার মেয়েদের কাছে রীতিমত প্রেরণা হয়ে উঠেছেন।

তুরতুরি চা বাগানের তুরতুরি ডিভিশনের বাসিন্দা নেহা। বাবা কৃষ্ণ চিকবরাইক, ভিনরাজ্যে শ্রমিকের কাজ করেন। মা ফুলবন্তি দেবী তুরতুরি চা বাগানের শ্রমিক। তিন ভাইবোনের মধ্যে নেহা বড়। এক বোন নিশা, দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী। ভাই নীল সপ্তম শ্রেণির পড়ুয়া। সংসারে অভাব লেগেই থাকে।ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল ওপেন ইউনিভার্সিটির বি .এ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী নেহা। নেহা জানান, “শিশু পাচার, বাল্যবিবাহ, যৌন নির্যাতন,গার্হস্থ্য হিংসার মত ঘটনাগুলি আমার মনে খুব নারা দিত। সাহস করে এর বিরুদ্ধে কাজ শুরু করি। সিনির দাদা অসিত শিকদার এবং প্রশাসন কে পাশে পেয়ে যাওয়ায় কাজটি অনেক সহজ হয়ে যায়। এই পুরস্কার আরও ভালো কাজ করার জন্য দায়িত্ব বাড়িয়ে দিল। আমি সেই দিন দেখার স্বপ্ন দেখি যেদিন সমাজের শিশু পাচার, বাল্যবিবাহ, যৌন নির্যাতন, গার্হস্থ্য হিংসার মত ঘটনা থাকবে না।” স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা সিনির কো অর্ডিনেটর অসিত সিকদার জানান, “নেহা সারা বছরই নারী পাচার এবং বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে কাজ করে। এছাড়া নারী নির্যাতন, হাড়িয়া এবং চোলাইয়ের নেশার বিরুদ্ধেও রুখে দাঁড়িয়েছে সে। নেহার তৎপরতায় নারীপাচার এবং বাল্য বিবাহের মত বেশ কয়েকটি ঘটনা রুখে দেওয়া সম্ভব হয়েছিল। নেহার পাশে আমরা আছি।”

আপনার শহর থেকে (আলিপুরদুয়ার)

আলিপুরদুয়ার

আলিপুরদুয়ার

Published by:Samarpita Banerjee

First published:

Tags: Alipurduar

বার্তা সূত্র