Skip to content

চাঞ্চল্যকর নিপা হত্যার রহস্য উন্মোচন

নিহত লিপা আক্তার নিপা

নিহত লিপা আক্তার নিপা। (ছবি: সংগৃহীত)

নরসিংদীতে চাঞ্চল্যকর লিপা আক্তার নিপা হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দেড় বছর আগে নরসিংদী সদর থানা এলাকায় নিপা হত্যার এ ঘটনা ঘটে।
বৃহস্পতিবার (১৮ নভেম্বর) দুপুরে পিবিআই এর প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের এ বিষয়ে জানান পিবিআই নরসিংদী জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. এনায়েত হোসেন মান্নান।

গ্রেফতারকৃতরা হলো- সুজন মিয়া ও জহিরুল ইসলাম। তাদের গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার আসল রহস্য উন্মোচন হয়।

মো. এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, ২০২০ সালের ২৬ এপ্রিল নরসিংদী সদর থানা এলাকায় মেঘনা নদীতে ভাসমান অজ্ঞাতনামা এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ। লাশের কোন পরিচয় না পাওয়ায় অজ্ঞাতনামা হিসেবে মরদেহ দাফনের পর নরসিংদী সদর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু হয়। পরে ফেসবুকে ছবি দেখে পুলিশের সহায়তায় লাশটি লিপা আক্তার নিপার বলে তার পরিবার নিশ্চিত করে।

তিনি আরও জানান, ২০২০ সালের ২৪ এপ্রিল রাতে বিয়ের কথা বলে তার প্রেমিক আমিরুল ইসলাম ও তার ঘনিষ্ঠরা নিপাকে ঘর থেকে নিয়ে যায়। এরপর মেঘনা নদীর মাঝে শ্বাসরোধে হত্যার পর নৌকা থেকে নদীতে ভাসিয়ে দেয়া হয় লাশ। আমিরুলসহ মোট ৭ জনের একটি দল এই হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণ করে।

গ্রেফতার দুজনের স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে পিবিআই কর্মকর্তা বলেন, আমিরুলের সঙ্গে নিপার দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু আমিরুলের পিতা তাদের সে সম্পর্ক মেনে না নিয়ে তিনি নিজে ঘটকালি করে নিপাকে অন্য একটি ছেলের সঙ্গে বিয়ে দেন। বিয়ের পর নিপা এক বছর সংসার করেন। সেখানে তার একটি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়।

পিবিআই সূত্র জানায়, এক সন্তান নিয়ে সুখের সংসারই ছিল নিপার। কিন্তু সেই সুখের সংসারে কাল হয়ে দাঁড়ায় আমিনুল। তার কারণে নিপার সুখের সংসার ভেঙে যায়। পরে উপায়ন্ত না দেখে নিপা ফিরে আসেন বাবার বাড়ি। এরপর পুরনো প্রেমিক আমিরুলের সঙ্গে আবার যোগাযোগে শারীরিক সম্পর্ক তৈরি হয় নিপার। একপর্যায়ে নিপা গর্ভবতী হয়ে পড়েন। তখন আমিরুলকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকে নিপা।

আরও পড়ুন : মেয়র জাহাঙ্গীর আ. লীগ থেকে আজীবন বহিস্কার

ত্র আরও জানায়, আমিনুল নিপার গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য চিকিৎসকের দ্বারস্থ হলে তা সম্ভব নয় বলে জানান চিকিৎসক। পরিবারের বাধার কারণে নিপাকে বিয়ে করা সম্ভব নয় তাই একপর্যায়ে সহযোগীদের নিয়ে নিপাকে হত্যার পরিকল্পনা করে আমিরুল। সে অনুযায়ী গত বছরের ২৪ এপ্রিল সন্ধ্যার পর নিপাকে বিয়ের কথা বলে নৌকায় করে মেঘনা নদীতে নিয়ে যায়। মাঝ নদীতে নিয়ে গামছা দিয়ে তারা নিপার শ্বাসরোধ করে এবং কাঠ দিয়ে এলোপাথাড়ি পিটিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে।

ওডি/জেআই



বার্তা সূত্র