চট্রগ্রাম সিটি নির্বাচনকে ঘিরে সংঘর্ষ, নিহত ২

এশিয়া বার্তা ঃ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন শুরুর পর আওয়ামী  লীগ ও বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে পৃথক পৃথক  সংঘর্ষের ঘটনায় সকাল ১১ টা পর্যন্ত অন্তত ২ জন  নিহত হওয়ার খবর জানা গেছে। নগরীর পাহাড়তলী ও আমতলা  এলাকায় সংঘর্ষে এ দুই জনের মৃত্যু হয়।     

সকাল ৮টার দিকে নগরীর পাহাড়তলী এলাকায় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ১২ নম্বর সরাইপাড়া ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী নুরুল আমিনের কর্মী সালাউদ্দিন কামরুলের ছুরিকাঘাতে নিহত হন তারই ভাই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থী সাবের আহম্মদের কর্মী নিজামউদ্দীন।

আর নগরীর ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের আমতলী এলাকার ইউসুফ স্কুল কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে আলম মিয়া নামে অপর একজনের মৃত্যু হয়। নিহত আলম মিয়া পেশায় রাজমিস্ত্রী এবং তিনি ছিলেন বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থক।

এছাড়াও নগরীর পাহাড়তলী ও লালখান বাজার এলাকায় পৃথক পৃথক সংঘর্ষের ঘটনায় ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। সকাল থেকেই এই দুই এলাকায় আওয়ামী লীগ ও বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কাউন্সিলর প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে শুরু হওয়া এ সংঘর্ষের এক পর্যায়ে একটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়। পাশাপাশি হকস্টিক ও লাঠি হাতে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় কাচের বোতল ও ইটপাটকেল ছোড়া হয়। পরে বিজিবি-পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আজ সকাল ৮টা থেকে নগরীর ৭৩৫টি কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। সব ক’টি কেন্দ্রে এবারই প্রথমবার ইভিএমে (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) ভোটগ্রহণ করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির দুই প্রার্থী ছাড়াও এবার চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে আরো পাঁচ প্রার্থী মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
অন্যদিকে, ৩৯টি সাধারণ কাউন্সিলর ও ১৪টি সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হয়েছেন ২৩৭ জন। এবারের ৭৩৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪১৭টি কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে নির্বাচন কমিশন।
এসব কেন্দ্রের নিরাপত্তায় বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা রয়েছে। এ ছাড়া নগরজুড়ে দিনব্যাপী রয়েছে গোয়েন্দা নজরদারির আওতায়।
২০২০ সালের ২৯ মার্চ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ষষ্ঠ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও করোনার কারণে নির্বাচনের আট দিন আগে তা স্থগিত করা হয়। এরপর পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় ভোটের দিন ঠিক করে কমিশন।
এবারের নির্বাচনে ৭৩৫টি কেন্দ্রের ৭৬৪টি বুথে ভোটগ্রহণ হবে। এতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৭ জন মেয়র ও ২২৫ জন কাউন্সিলর প্রার্থী।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।