চট্টগ্রামে মামলার জালে বিএনপি নেতারা

লকডাউন কার্যকর হচ্ছে না সরকারের অব্যবস্থাপনায়  -বিএনপি

নতুন করে ‘মামলার জালে’ আটকা পড়েছেন চট্টগ্রামের বিএনপি নেতারা। তাদের মধ্যে নগর বিএনপির আহ্বায়ক এবং গত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে দলটির প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে নতুন-পুরোনো মিলিয়ে মোট মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫১টিতে। নতুন মামলার আসামি হিসেবে ডা. শাহাদাতসহ বিএনপি নেতাদের অনেকেই এখন কারাগারে। অনেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। অনেককে আবার প্রায় প্রতিদিনই হাজিরা দিতে হচ্ছে আদালতে।

সর্বশেষ ২৯ মার্চ ‘মুসল্লি হত্যা’র প্রতিবাদে বিএনপির কর্মসূচিকে ঘিরে চট্টগ্রাম নগরীর নাসিমন ভবন এলাকায় পুলিশের সঙ্গে দলটির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় নতুন দুটি মামলার আসামি করা হয়েছে বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুবের রহমান শামীম এবং নগর বিএনপি নেতা ডা. শাহাদাত ও সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্করসহ বেশিরভাগ সিনিয়র নেতাকে। একটি অপহরণ ও চাঁদাবাজি মামলাও হয়েছে ডা. শাহাদাতের বিরুদ্ধে।

মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে এত বেশি মামলা হয়েছে যে, প্রায় প্রতিদিনই আদালতে হাজিরা দিয়ে দিনের অন্য সব কাজ করতে হচ্ছে। মাঝেমধ্যে একই দিনে একাধিক মামলার হাজিরা থাকায় পুরো দিনই আদালতে কাটছে। আন্দোলন-সংগ্রাম প্রতিহত করতে সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর দমন-নিপীড়ন চালাচ্ছে। মামলার পর মামলায় জড়াচ্ছে।’

৫ জানুয়ারির নির্বাচনসহ বিভিন্ন সময় বিএনপি নেতা ডা. শাহাদাতের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল মোট ১৩টি। পরে সেগুলো বিভিন্ন ধারায় ভাগ হয়ে ২৮টি মামলায় পরিণত হয়েছে। খালেদা জিয়াকে কারাদণ্ড দেওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনকালে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি নগরীর নাসিমন ভবনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে এক দফায় গ্রেপ্তার হন ডা. শাহাদাত। পরে কোতোয়ালি থানায় আরও দুটি মামলায় আসামি করা হয় তাকে। এ ছাড়া দলীয় কর্মসূচিকে ঘিরে সহিংসতার বিভিন্ন ঘটনায় আরও কয়েকটি মামলা হয় তার বিরুদ্ধে। এভাবে সব মিলিয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ৫১টি।

একইভাবে নগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্করের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে ১২টি। এগুলোও বিভিন্ন ধারায় বিভক্ত হয়ে মোটামুটি দ্বিগুণ হয়েছে। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কোতোয়ালি থানায় করা দুটি মামলায় আসামি করা হয় এই বিএনপি নেতাকেও। সর্বশেষ দুই মামলাসহ তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ২৮টি।

ডা. শাহাদাতের আইনজীবী তৌহিদুর রহমান তুহিন বলেন, ‘বিএনপি নেতা ডা. শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে ৪৮টি মামলা ছিল। সর্বশেষ তিনটিসহ মামলার সংখ্যা এখন ৫১। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইন ও বিস্ম্ফোরক আইনের মামলা।’

নিজের বিরুদ্ধে অন্তত ৩০টি মামলা থাকার কথা জানিয়ে বিএনপি নেতা আবু সুফিয়ান সমকালকে বলেন, ‘চট্টগ্রামে বিএনপি নেতাকর্মীদের কারও কারও বিরুদ্ধে ১০ থেকে ৫০টি পর্যন্ত মামলা রয়েছে। নগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাতের মতো ক্লিন ইমেজের সজ্জন ও সদালাপী মানুষের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অপহরণসহ এমন সব মামলা করা হয়েছে, যা বলতেও লজ্জা হয়।’

চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানার ওসি নেজাম উদ্দিন জানিয়েছেন, গত ২৯ মার্চ বিক্ষোভ কর্মসূচিতে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনায় ৩০ মার্চ নগরীর কোতোয়ালি থানা ও ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে দুটি মামলা করা হয়েছে। কোতোয়ালি থানা ও ট্রাফিক পুলিশের দুই মামলায় নগর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ৫৭ জনের নামসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে। দুই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে নগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেনসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের ১৬ নেতাকর্মীকে। একই দিন বিএনপির সাবেক সহমহিলাবিষয়ক সম্পাদিকা লুচি খানের করা অপহরণ ও চাঁদাবাজির পৃথক একটি মামলায়ও গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে ডা. শাহাদাতকে।

নগর বিএনপির সহদপ্তর সম্পাদক মো. ইদ্রিস আলী জানিয়েছেন, দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, নগর শাখার আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন, সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান, নগর মহিলা দলের সভানেত্রী মনোয়ারা বেগম মনিসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের ১৬ নেতাকর্মীকে এ দফায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

প্রসঙ্গক্রমে ইদ্রিস আলী বলেন, ‘করোনা মহামারির শুরু থেকেই গরিব-দুঃখী মানুষের পাশে ছিলেন ডা. শাহাদাত হোসেন। খাদ্যসামগ্রী ও করোনার সুরক্ষাসামগ্রী বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করতেন তিনি। কারাগারে থাকায় তার এসব এই কর্মসূচিও বন্ধ রয়েছে।’



বার্তা সূত্র

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email