Skip to content

খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে বিদেশী কূটনীতিকদের ব্রিফ করলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন

খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে বিদেশী কূটনীতিকদের ব্রিফ করলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন সোমবার ঢাকায় বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা এবং অন্যান্য সমসাময়িক বিষয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত এবং হাই কমিশনারদের ব্রিফ করেছেন।

পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যাপারে সরকার অত্যন্ত আন্তরিক। তিনি বাংলাদেশের যে কোনো হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পারেন। প্রয়োজন হলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জন্য বিদেশ থেকে চিকিৎসক আনা যাবে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন তবে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে হলে তাঁকে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, অনেক দিন পর আজ ঢাকায় কর্মরত কূটনৈতিকদের নিয়ে নানা বিষয়ে ব্রিফ করেছি। এ সকল বিষয়ের মধ্যে ছিল করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা, জলবায়ু শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের ভূমিকা, প্রধানমন্ত্রীর প্যারিস সফর, জাতিসংঘের সঙ্গে চুক্তি, জাতিসংঘে পাস হওয়া রোহিঙ্গা বিষয়ক প্রস্তাব এবং সাম্প্রতিক ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মত বিষয়াবলী।

উল্লেখ্য, দুর্নীতির দুই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়া সরকারের নির্বাহী আদেশে প্রায় দেড় বছর ধরে কারাগারের বাইরে রয়েছেন। গত ২৭শে এপ্রিল করোনা আক্রান্ত খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করার ৫৪দিন পর গত ১৯শে জুন তিনি বাসায় ফিরেছিলেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে গত ১২ই অক্টোবর আবারও তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন । এই দফা হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় আবারো তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় । এর পর থেকে তিনি বেসরকারি হাসপাতাল এভার কেয়ারে চিকিৎসাধীন আছেন ।

বেগম খালেদা জিয়ার পরিবার এবং তাঁর দল বিএনপির পক্ষ থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিদেশে নেওয়ার অনুমতির জন্য কয়েকবার আবেদন করা হলেও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে তাকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেয়ার আইনগত কোন সুযোগ নাই। তাঁর চিকিৎসার কাজে নিয়োজিত মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসক ডা. এফ এম সিদ্দিকী জানিয়েছেন খালেদা জিয়া ‘লিভার সিরোসিস’ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন এবং তিনি ‘মৃত্যু ঝুঁকিতে’ আছেন।

তিনি বলেন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের বর্তমানে যে অবস্থা তাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য যে সেন্টারগুলো রয়েছে সেগুলো আমেরিকা ও ইউরোপে। ইউএসএ, ইউকে ও জার্মানিতে এ ধরনের রোগের চিকিৎসার জন্য অ্যাডভান্স সেন্টার আছে এবং তারা এর চিকিৎসা করে। সেখানেও দেশব্যাপী এই রোগের সেন্টার দুই-একটা আছে বলে তিনি উল্লেখ করেন । তিনি বলেন ম্যাডামের যারা ক্লোজ রিলেটিভ তাঁদের এবং যারা ওনার সঙ্গে আছেন তাদের এ বিষয়ে জানানো হয়েছে। আমরা ওনাদের বলেছি যত দ্রুত পারেন অ্যারেঞ্জ করেন।

এদিকে, বিএনপি গত কয়েকদিন যাবত খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে তাকে বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার অনুমতির জন্য আন্দোলন করছে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিভিন্ন সমাবেশে বলেছেন সরকার যদি দলের প্রধানকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি না দেয় এবং এর ফলে তাঁর যদি কিছু হয় তবে সরকারকেই এর দায়িত্ব বহন করতে হবে ।

সূত্র: ভয়েজ অব আমেরিকা