Skip to content

ক্ষমতায় থাকলে বিনয়ী হতে হয়

ক্ষমতায় থাকলে বিনয়ী হতে হয়

ভালো কথা। মানুষ যদি আসলেই বিএনপিকে ক্ষমতায় যাওয়ার মতো আসনে নির্বাচিত করে তারা নিশ্চয়ই ক্ষমতায় যাবে। তো নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা না দিয়ে একদফার ঘোষণা কেন? বঙ্গবন্ধু তো সত্তর সালে ইয়াহিয়ার লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্ক অর্ডারের (এলএফও) অধীনে নির্বাচন করে জয়লাভ করেছিলেন। বিএনপিকেও শেখ হাসিনার অধীনেই নির্বাচন করার চ্যালেঞ্জ নিতে হবে।

সব দল নির্বাচনে অংশ নিলে ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য এক নতুন ইতিহাস তৈরি করবে। ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ আর আজকের মতো থাকবে না পরিবর্তিত হবে, বিএনপিও পরিবর্তিত হবে। কোনো কিছুই আগের মতো থাকবে না।

বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের বিকল্প নেই এই কথা যেমন সত্য, তেমনই আওয়ামী লীগ আমলে দুর্নীতি, প্রশাসনের অব্যবস্থাপনা, আর লুটপাটের কাহিনি শুনতে শুনতে আর দেখতে দেখতে সাধারণ মানুষের কাছে আওয়ামী লীগ আমলে দেশের যে উন্নয়ন হয়েছে তা আর অনেকের বিবেচনায় থাকছে না! এর সঙ্গে আছে সারাদেশে আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মীর ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ।

এ ক্ষেত্রে আমি তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদের একটি বক্তৃতার দিকে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করবো। ১৫ জুলাই সন্ধ্যায় রাজধানীর মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবন থেকে অনলাইনে সংযুক্ত হয়ে চট্টগ্রামের ষোলশহরে এলজিইডি ভবনের কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী মিলনায়তনে রাঙ্গুনিয়া সমিতি আয়োজিত সুধী সমাবেশে  প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেছেন, ‘আমার দলের নেতাকর্মীদের সবসময় বলি, ক্ষমতায় থাকলে বিনয়ী হতে হয়, মাথা নিচু করে চলতে হয়, বিনয় মানুষকে মহান করে।’

চট্টগ্রাম ৭ আসনের সংসদ সদস্য হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘আমি সবসময় এলাকার মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করি। সরকারের মন্ত্রী ও দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আমি প্রতি সপ্তাহে চট্টগ্রামে ও রাঙ্গুনিয়ায় যাই।’

তিনি বলেন, ‘সরকার পরিচালনা করতে গিয়ে ভুলত্রুটি থাকবে, ভুলত্রুটি মানুষেরই হয়। পৃথিবীর কোনো সরকার শতভাগ নির্ভুল কিছু করতে পারে না। পাঁচ’শ বছর অতীতের সরকারেও ভুল ছিল, আগামী পাঁচ’শ বছর পরের সরকারেরও ভুল থাকবে। তবে দেখতে হবে সরকার দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে গেছে কিনা।’

আওয়ামী লীগ সরকারের নেতৃত্বে দেশের এই অগ্রযাত্রা যাতে অব্যাহত থাকে সেজন্য সবার সহযোগিতা চেয়ে তথ্যমন্ত্রী নিজ নির্বাচনী এলাকা রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সুধীজনের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমি সব দল ও মতের মানুষের এমপি হওয়ার চেষ্টা করেছি। গত সাড়ে ১৪ বছর সবার জন্য আমার দুয়ার খোলা ছিল। ভবিষ্যতেও যদি কোনো নিবেদন নিয়ে আপনাদের দুয়ারে আসি দয়া করে আপনাদের দুয়ারটাও দলমত নির্বিশেষে খোলা রাখবেন, সেটিই আপনাদের কাছে প্রত্যাশা।’

ভয় দেখিয়ে নয়, ভালোবেসে মানুষের সমর্থন আদায় করতে পারলে সেটা টেকসই হয়। শেখ হাসিনা যে পথে হাঁটছেন, তার কর্মী-সমর্থকরা বিপরীত পথে হাঁটলে চলবে কেন? আওয়ামী লীগের সব নেতাকর্মী যদি বিনয়ী হয়ে দেশের সর্বত্র সরকারের সাফল্যের চিত্র তুলে ধরতে পারেন, তাহলে বিরোধীরা অপপ্রচার করে সুফল পাবে না।

বার্তা সূত্র