কৃষক আন্দোলন নিয়ে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ, নিরাপত্তা জোরদার

ভারতের রাজধানী দিল্লির পথে পথে নিরাপত্তা বাহিনীর টহল চলছে দিনভর। কড়া পুলিশি পাহারা পুরো শহরজুড়ে। বিতর্কিত কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে মঙ্গলবার বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে লালকেল্লায় প্রবেশের ঘটনায় পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সহিংসতার পর শহরজুড়ে আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। 

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুলিশ আর নিজ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে এ নির্দেশ দেন তিনি। বৈঠকে নেয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দিল্লি, হরিয়ানা ও উত্তর প্রদেশের বেশ কয়েকটি এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হয়। এছাড়া পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।

নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে বুধবার সকাল থেকেই শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মেট্রো স্টেশনে জনসাধারণের চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। এতে অন্যান্য সড়কগুলোতে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজটের। কিছু কিছু রাস্তায় থমকে থাকা গাড়ির চাকা সচল করতে রাস্তায় নামে ট্রাফিক পুলিশ। ঘণ্টাখানেকের মধ্যে সড়কের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার খবর জানিয়ে টুইটারে বন্ধ থাকা সড়কগুলো এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ।

আন্দোলনের মোড় ঘোরাতে ষড়যন্ত্র চলছে এমন অভিযোগ তুলে মঙ্গলবারের বিক্ষোভে সহিংসতা সৃষ্টিকারীরা প্রকৃত কৃষক ছিলেন না বলে দাবি করেন কৃষক নেতারা। তাদের অভিযোগ কৃষক আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্যই এমন কাণ্ড ঘটিয়েছে বহিরাগতরা। এসময় বিক্ষোভকারীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানালেও দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেন তারা।

কৃষক নেতারা বলেন, ‘লালকেল্লায় যা হয়েছে তার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি আমরা। আমাদের আন্দোলনের উদ্দেশ্য মোটেও সহিংসতা ছিল না। যারাই এগুলো করেছে তারা প্রকৃত আন্দোলনকারী নন। লাল কেল্লা একটি ঐতিহাসিক স্থান, এখানে এমন ঘটনা কখনোই কাম্য নয়।’

এদিকে, বিক্ষোভে সহিংসতায় এক কৃষক নিহত এবং শতাধিক আন্দোলনকারী ও পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দ্র সিং, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং দিল্লির ক্ষমতাসীন আম আদমি পার্টির নেতারা।

সূত্র: সময় টিভি

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।