Skip to content

কুসংস্কার পরিহার করে কুষ্ঠ রোগীদের পাশে দাঁড়াতে শেখ হাসিনার আহবান

কুষ্ঠ রোগীদের জন্য ওষুধ উৎপাদন শুরু করতে, স্থানীয় ওষুধ কোম্পানিগুলোর প্রতি আহবান জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রবিবার (১২ নভেম্বর) রাজধানী ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত দ্বিতীয় জাতীয় কুষ্ঠ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ আহবান জানান তিনি। বলেন, “কুসংস্কার পরিহার করে সকলকে কুষ্ঠ রোগীদের পাশে দাঁড়াতে হবে।”

শেখ হাসিনা বলেন, “আমি আপনাদের প্রতি (স্থানীয় ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলোকে) কুষ্ঠ রোগীদের জন্য ওষুধ উৎপাদনের জন্য অনুরোধ করতে চাই; যাতে আমরা কমমূল্যে বা বিনামূল্যে রোগীদের কাছে ওষুধ সরবরাহ করতে পারি।” তিনি বলেন, “স্থানীয় ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলো এখন ওষুধ রপ্তানি করে। আমরা খুব উচ্চ মানের ওষুধ উৎপাদন করি।”

কুষ্ঠ রোগীদের স্পর্শ করা যাবে না, এমন পুরনো ভুল ধারণা ও কুসংস্কার পরিহার করে তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমাদের পুরানো বিশ্বাস ও কুসংস্কার ত্যাগ করতে হবে। স্মার্ট বাংলাদেশে এ ধরনের কুসংস্কার লালন করা হলে, আমরা কীভাবে স্মার্ট হবো।”

শেখ হাসিনা বলেন, “কুষ্ঠ রোগীরা ব্রিটিশ আমলের একটি আইন; কুষ্ঠ আইন-১৮৯৮ এর কারণে সমাজ ও পরিবার থেকে বঞ্চিত ও বিচ্ছিন্ন ছিলো। আইনটি আমাদের সরকার বাতিল করেছে। কুষ্ঠ রোগীরা এখন উপজেলা হাসপাতাল থেকে বিনামূল্যে সেবা ও ওষুধ পাচ্ছেন।”

বাংলাদেশ ১৯৯৮ সালে কুষ্ঠ নির্মূলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার লক্ষ্য অর্জন করেছে বলে উল্লেখ করে তিনি। বলেন, সরকার কুষ্ঠরোগ কর্মসূচিকে শক্তিশালী করার জন্য পদক্ষেপ নিয়েছে; যাতে নতুন রোগী সনাক্তকরণ এবং কুষ্ঠ রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা সম্প্রসারিত যায়।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ রোগের প্রতিরোধ আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। এর কারণ ও প্রতিরোধে আমাদের বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে।” জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত রোগের কারণ ও বিশদ বিবরণ খুঁজে বের করার জন্য তিনি বিশেষজ্ঞদের প্রতি আহবান জানান এবং আরো বৃহত্তর উপায়ে চিকিৎসা গবেষণা চালাতে অনুরোধ করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, “চিকিৎসা বিজ্ঞান নিয়ে আমাদের আরো গবেষণা প্রয়োজন। আমরা যদি তা করি, তবে আমরা জলবায়ু সম্পর্কিত রোগগুলো সম্পর্কে ভালো জ্ঞান অর্জন করতে পারবো এবং সঠিক চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে ও এই বিষয়ে ওষুধ তৈরি করতে সক্ষম হবো।”

অনুষ্ঠানে কুষ্ঠ রোগের জন্য জাতীয় কৌশলগত গাইডলাইন ২০২৩-২০৩০ উন্মোচন করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সূত্র: ভয়েজ অব আমেরিকা