Skip to content

কুমিল্লায় হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান পরিষদের মিছিলে বাধা | দেশ রূপান্তর

বগুড়ায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সঙ্গে সংঘর্ষ, আহত ৫০

তত্ত্বাবধায়ক সরকার মরে ভূত হয়ে গেছে, এই ভূত মাথা থেকে না নামালে বিএনপি শেষ হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বিএনপির সঙ্গে আপস হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আর কোনো সমঝোতা চলবে না। তোমরা জনগণের শত্রু। জনগণের শত্রুর সঙ্গে আওয়ামী লীগ কোনো সমঝোতা করবে না।’

গতকাল শুক্রবার নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।

গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক-নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে বৈঠক করে সমঝোতার সুযোগ আছে কি না জানতে চায়। জবাবে দলটির নেতারা বলেছেন, বিএনপি সেই সুযোগ খোলা রাখেনি। সে সুযোগ বিএনপি খোলা রাখেনি। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে বিএনপিকে নির্বাচনকালীন সরকারে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছিল। তারা সেটা প্রত্যাখ্যান করেছে। এখন তো বিএনপি সংসদেও নেই। পদত্যাগ করেছে তারা। বিএনপির দাবি তো অসাংবিধানিক। ফলে সমঝোতার পথ খোলা নেই। তবে সাংবিধানিকভাবে তাদের কোনো দাবি থাকলে সেই সুযোগ বিএনপি পাবে। অবশ্য পরে বিএনপি মহাসচিব সুযোগ খোলা না রাখার আওয়ামী লীগের দাবি নাকচ করে সাংবাদিকদের বলেছেন, সেটা ‘বাজে কথা, কত বড় মিথ্যা কথা’ আপনারা জানেন।

বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের অভিযোগ তুলে এর প্রতিবাদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ধারাবাহিকভাবে শান্তি সমাবেশ পালন করে আসছিল। এখন সরকারের উন্নয়ন কর্মকা- জনগণের কাছে তুলে ধরতে শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ নাম দিয়ে এ সমাবেশ করছে দলটি।

গতকাল শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার মরা লাশ। আজিমপুরে দাফন হয়ে গেছে। আর কোনোদিন চোখ মেলবে না। ফখরুল সাহেব তত্ত্বাবধায়ক বলতে বলতে সব শেষ। তাই বলছি, বিএনপির আমও যাবে, ছালাও যাবে।’

তিনি বলেন, ‘কালকে (গত বৃহস্পতিবার) দুপুরবেলা মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বাসায় গিয়া হাজির মির্জা ফখরুল। বাইরে এসে বলে আওয়ামী লীগের সময় শেষ। ইদানীং ফখরুল বলেন, আজরাইল নাকি আওয়ামী লীগের জান কবজ করতে চায়। প্রকৃতপক্ষে বিএনপির সময় শেষ। আজরাইল বিএনপি নেতাদের গলা টিপে ধরবে। পিটার হাসের সঙ্গে আলাপ করে বাইরে এসে বলে কারও সঙ্গে কথা হয়নি। কী মিথ্যাবাদী এ বিএনপি। মিথ্যাচার আর গুজব, দুর্নীতি আর মানুষ খুন, এটাই হচ্ছে বিএনপির আসল গুণ।’

সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘জো বাইডেনের (যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট) দুটি সেলফিতে বিএনপি নেতাদের ঘুম হারাম হয়ে যাচ্ছে। ভারতে জি২০ সম্মেলন ও আমেরিকাতে নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সেলফিতে সব পরিষ্কার হয়ে গেছে। তাই এখন বিএনপির জ্বালা।’

তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, চট্টগ্রামে টানেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, একদিনে শতাধিক সেতু উদ্বোধনে বিএনপির অন্তজর্¦ালা হয়ে গেছে।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘তারা খাম্বা দিয়েছে, বিদ্যুৎ দেয়নি। এখন শেখ হাসিনার আমলে শতভাগ বিদ্যুৎ দেওয়া হচ্ছে। খেলা হবে। অক্টোবর পার হয়ে যাচ্ছে। ফখরুল নাকি ঢাকা অবরোধ করবেন। এ নারায়ণগঞ্জের সমাবেশ থেকে বলতে চাই, জনগণ তাদের জবাব দেবে। আগুন নিয়ে এলে হাত পুড়ে যাবে। লাঠি নিয়ে এলে হাত ভেঙে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘ফখরুল বলেছেন শেখ হাসিনা ঘোরাঘুরি করেন। শেখ হাসিনা কোথায় গেছেন। জি-২০ সম্মেলনে। কী সম্মান নরেন্দ্র মোদি দিয়েছেন। নিউ ইয়র্কে গিয়েছেন, কী সম্মান পেয়েছেন। শেখ হাসিনাকে নিয়ে আমরা গর্বিত। দেশের প্রয়োজনেই তিনি বাইরে যান। তিনি ব্রাসেলসে যাচ্ছেন আমন্ত্রণে। তিনি যাচ্ছেন দেশের জনগণের জন্য।’

বিএনপির সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ওরা গণতন্ত্রের কী জানে? ওরা জানে মানুষ খুন, লুটপাট, ভোটচুরি। শেখ হাসিনাকে টার্গেট করেছিল বিএনপি। এদের হাতে বাংলাদেশের মানুষ ক্ষমতা আর ফিরিয়ে দেবে না। আপনাদের বলছি বিএনপি থেকে সাবধান।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘খেলা হবে। খেলা হবে। খেলা হবে। এখন কোয়ার্টার ফাইনাল, সামনে সেমিফাইনাল, ফাইনাল হবে জানুয়ারিতে। এবার খেলা হবে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে, ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে।’

নারায়ণগঞ্জের মানুষ ভুল করবেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা এ নারায়ণগঞ্জকে অনেক দিয়েছেন। আশা করি নারায়ণগঞ্জবাসী এর প্রতিদান দেবেন। আগামীতে তিনি আরও দেবেন।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘মির্জা ফখরুল বলেছেন ঢাকাকে অচল করে দেবেন। আমরা বলতে চাই, দেশের মানুষই আগামীতে বিএনপিকে অচল করে দেবে। এ নারায়ণগঞ্জই যথেষ্ট বিএনপিকে রুখে দিতে।’

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বাবু চন্দন শীল, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই, সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা, সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামসুল ইসলাম ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল কায়সার প্রমুখ।



বার্তা সূত্র