কাল ঐতিহ্যবাহী সাকরাইন উৎসব, পুরান ঢাকায় ঘুড়ি-নাটাই বেচাকেনার ধুম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

 

রকি আহমেদ ঃ পুরান ঢাকায় চলছে ঘুড়ি উড়ানোর ঐতিহ্যবাহী সাকরাইন উৎসবের প্রস্তুতি। রাত পেরোলেই কাল বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হবে ঘুড়ি উড়ানোর উৎসব। সাকরাইনকে ঘিরে পুরান ডাকার অলিতেগলিতে দেখা গেছে ঘুড়ি বেচাকেনার ধুম। তরুন তরুণীরা ছুটছে ঘুড়ির নাটাই ও সুতোর টানে।

পুরান ঢাকার শাখারী বাজার, লক্ষী বাজার, গেন্ডারিয়া এলাকায় ব্যস্ত সময় পার করছেন ঘুড়ি-নাটাই দোকানীরা। সাকরাইন উপলক্ষে বাজারে এসেছে রঙ বেরঙের ঘুড়ি। শাঁখারী বাজার ঘুরে দেখা যায়, দোকানগুলোতে চিল ঘুড়ি, বাদুড় ঘুড়ি, ময়ূর, চানঁতারা, পাঞ্জাব, চোখদার, পানদার, কথাদার, মালাদার, পঙ্খিরাজ, চলনদার, পেটিদার, পাংদার, প্রজাপতি, দাপস, বাদুড়, চিলসহ বিভিন্ন রঙ, নকশা ও আকৃতির ঘুড়ি সাজানো রয়েছে।

শাঁখারী বাজারে ঘুড়ি কিনতে এসেছেন গেন্ডারিয়ার বাসিন্দা তপন কুমার ও তার বন্ধু। তারা জানান, সাকরাইন উৎসব আমাদের অতি আনন্দের একটি উৎসব। পুরান ঢাকার উৎসব গুলির মধ্যে আমরা তরুনরা এই উৎসবটা বেশি উপভোগ করি। এইবার করোনার কারনে ফ্যামিলি থেকে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই সীমিত পরিসরে বন্ধুরা মিলে বাসার ছাদে আমরা ঘুড়ি উড়াবো। তারা জানান, ঘুড়ি উড়ানোর পাশাপাশি পৌষ সংক্রান্তির পিঠা উৎসব করে থাকেন।

ঘুড়ির দোকান থেকে জানা যায়, আকার ও দামভেদে বিভিন্ন রঙের ঘুড়ি রয়েছে। সাধারণত ১টি ঘুড়ির সর্বোচ্চ দাম ৩৫০ টাকা ও সর্বনিম্ন দাম ৫ টাকা পর্যন্ত আছে। এছাড়া বাদুড় ঘুড়ি ও বড় চিল ঘুড়ির দাম ২০০ টাকা এবং ছোট চিল ঘুড়ির দাম ১০০ টাকা।

এছাড়া ঘুড়ির জন্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের সুতা। যেমন ক্যাঙারু, বিচ্ছু, ড্রাগন সুতা ঘুড়ি ওঠানো জন্যে খুবই উপকারী। গজ হিসেবে সুতা পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করা হয়। সুতার মান অনুযায়ী ৬০০ গজ সুতা ৭০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়।

ঘুড়ি ওঠানোর জন্যে বিভিন্ন আকারের নাটাই রয়েছে। সাধারণত ১টি নাটাই ২ ইঞ্চি থেকে সর্বোচ্চ ১০ ইঞ্চি পর্যন্ত হয়। বাঁশের নাটাই দিয়ে তৈরি করা ১টি নাটাইয়ের সর্বনিম্ন দাম ৭০ টাকা ও সর্বোচ্চ দাম ৭০০ টাকা পর্যন্ত রয়েছে। এছাড়া রুপার ও লোহার নাটাই পাওয়া যায়। সেগুলোর দাম আকারভেদে ৩০০ টাকার উপরে হয়।

শঙ্খশ্রী দোকানের মালিক রিপন বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে এবার প্রতিবছরের তুলনায় ব্যবসা মন্দা যাচ্ছে। অর্ডার কমে গেছে তারপরও মোটামুটি চলছে। আমরা বছরের বার মাসই ঘুড়ি-নাটাই নিয়ে ব্যবসা করি। সাকরাইন হিসেবে একটা অন্যরকম আমেজ সৃষ্টি হয় ব্যবসায়। আমাদের মূল আকর্ষণ তরুন তরুণীরা। তবে এইবার অর্থনৈতিক মন্দা হওয়ার কারনে ফ্যামিলি থেকে বাচ্চাদের হাতে কম টাকা দেওয়া হচ্ছে।

শাখারী বাজারের ঘুড়ি-নাটাই ব্যবসায়ী নিগম প্রোপ্রাইটরের বিষ্ণু সেন বলেন, প্রতিবছর সাকরাইন উপলক্ষে ঘুড়ি বেচাকেনাকে কেন্দ্র করে আমাদের মাঝে অন্যরকম একটি অনুভূতি সৃষ্টি করে। ঘুড়ি বিক্রির সময় ছেলে মেয়দের আনন্দ আমাদেরকে শৈশবে নিয়ে যায়। আমি অপেক্ষাকৃত কম দামে ঘুড়ী বিক্রি করি।

উল্লেখ্য, কাল বৃহস্পতিবার শুরু হবে পুরান ঢাকা বাসিন্দাদের ঐতিহ্যবাহী উৎসব সাকরাইন বা পৌষ সংক্রান্তি। মহাভারতে যেটাকে মকরক্রান্তি বলে থাকে। এটি এখন পুরান ঢাকার বাহিরেও ঢাকার সব জায়গায় এই উৎসব করে পালন করে থাকে। এই উৎসব আগে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা পালন করে থাকলেও এটা এখন বাঙালি সংস্কৃতির ধারক হিসেবে সব ধর্মের মানুষ এটি পালন করে থাকে।ভোরের কাগজের সৌজন্যে


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।